জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 10 )

জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 10 )

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজিদ এবং মাহাবুব রহমান পরস্পরের মুখে তাকালেন। বোঝালেন একে দিয়ে হবে না। ফিজিক্সের মেয়ে দিয়ে সাহিত্য পাঠ ভালোভাবে চলার কথা না।

মতলুব সাহেব বললেন: আপনার পরিবারে কে কে আছে?

ব্যক্তিগত প্রশ্ন। চাকরির ইন্টারভিউতে এ ধরনের প্রশ্ন করার কথা না। সাফিনা তাতে বিব্রত হলো না। সহজভাবে বলল: মা আর ছোট ভাই।

: বাবা?

: ছোট ভাইটার বয়স যখন চার তখন বাবা মারা গেছেন।  

: তাহলে………?

: গ্রামে কিছু জমিজমা আছে। সেসব বর্গা দিয়ে ফসল পাওয়া যায়। মামারা, চাচারা যথেষ্ট সাহায্য করেন। আমাদের দুই-ভাইবোনের পড়াশোনার জন্যই ঢাকা শহরে থাকা।

: ফিসিক্সের মতো সাবজেক্টে পড়াশোনার চাপ থাকার কথা। এখানে সময় দেয়া…..।

: পড়াশোনার চাপ আছে তা ঠিক। তারপরও এখানে আমি সময় দিতে পারবো। তা ছাড়া সাহিত্যের প্রতি আমার ভীষণ ঝোঁক। পাঠ্য বই এবং রেফারেন্স বই-ই ঠিকমতো কিনতে পারি না। সাহিত্যের বই কেনার মতো বিলাসীতা ভাবতেই পারি না। চাকরি করতে এসে যদি বই পড়া যায় সে আমার সৌভাগ্য।

: সায়েন্সের স্টুডেন্ট হয়ে সাহিত্যের প্রতি…….।

: এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাহিত্যের স্টুডেন্টরাই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হবে, বিজ্ঞানের স্টুডেন্টদের সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ থাকবে না সবক্ষেত্রে এরকম ভাবা ঠিক না। সাহিত্য একটা আর্ট। কথার আর্ট। বিজ্ঞান যখন কারও ভালো লাগে তখন সে বুঝতে পারে, বিজ্ঞানও আর্ট। সাহিত্যের মতোই শৈল্পিক হয়ে ওঠে বিজ্ঞান। তবে বিজ্ঞানটা কিছু সিস্টেমেটিক সূত্র মেনে চলে এই যা। আমাদের হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, তারাশঙ্কর, মানিক এঁরা সায়েন্সেরই স্টুডেন্ট ছিলেন। 

সাফিনা টুপটাপ করে অনেক কথাই বলে ফেলল।

 

রাতে খাওয়ার পর মতলুব সাহেব তার ঘরে সবাইকে ডাকলেন। উদ্দেশ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা। সাজিদ বলল: দাদা, আলোচনার কিছু নেই। আপনি সবাইকে দেখেছেন। সবার কথা শুনেছেন। আপনি যাকে নিয়োগ দিতে বলবেন তাকেই নিয়োগ দেয়া হবে।

: তুই গা বাঁচানো কথা বলিস। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বদ অভ্যাসটা বাদ দিতে শিখ। স্বস্ফূর্থভাবে সবকিছুতে অংশ নিতে পারলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে সুবিধা পাবি। সবার মতামতের ভিত্তিতেই নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। 

কেউ মতামত দেবার আগে মতলুব সাহেব সান্টুকে স্মরণ করলেন। বললেন: সান্টুটা থাকলে ভালো হতো। ওর চিন্তার ধার খুব তীক্ষ্ম।

সান্টুর কথা তুলতেই পরিবেশটা একটু ভারাক্রান্ত হল। রাহেলা বেগম আঁচলে মুখ ঢাকলেন। চোখ মুছতে মুছতে বললেন: ছেলেটা আমার একা কোনো আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েও থাকেনি কখনো। অথচ হাজার মাইল দূরে গিয়ে…..!

মতলুব সাহেব বললেন: মন খারাপ করো না বউ মা। একমাস তেমন কোনো সময় না। ওর আসার সময় তো হয়েই গেল।

তারপর সাজিদের দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে মতলুব সাহেব বললেন: এবার বল, কাকে তোর সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়?

: দাদা, আমার সবাইকেই উপযুক্ত মনে হয়েছে। এই সামান্য চাকরির জন্য যারা এসছে সবাই অতিরিক্ত যেগ্যতা নিয়ে এসেছে।

মাহাবুব রহমার উসখুস করছিলেন। চোখে-মুখে অস্বস্তিভাব। আসলে তিনিও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। কাকে ফেলে কার কথা বলবেন? তবে তাকে স্বস্তি এনে দিল তনিমা। সে বলল: সবশেষে দাদা যে মেয়েটার সাথে কথা বললেন-সফিনা নাম, আমার মনে হয়, তাকেই নিয়োগ দিলে সবচেয়ে ভালো হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply