জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 12 )

জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 12 )

  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

সান্টুটা যেন বিদেশে চাকরি করে এসেছে। সবার জন্য উপহার এনেছে। দাদার জন্য পাঠিকা নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা ও ফ্রান্সে বসেই জেনেছে। মাহিন আহমেদকে তনিমার ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়ে তাও জেনেছে। সব জানিয়েছে তনিমা। তাদের দু’জনের জন্যও কিছু না কিছু এনেছে।

সাজিদের জন্য সানগ্লাস। রোদে ঘোরাঘুরি করে তো।

তনিমার জন্য রঙ-তুলি। ফ্রান্স চিত্রকলায় উন্নত। জলরঙ, তেলরঙ আর নানা সাইজের তুলি।

মাহাবুব রহমানের জন্য এনেছে দুইটা চশমার ফ্রেম। একটা সোনালী, একটা রুপালী। পাওয়ার অনুযায়ী গ্লাস বসিয়ে নিলেই হবে। মাহাবুব রহমান বলল: চশম আনার কী হলো?

: কেন, সুন্দর না?

: সুন্দর, কিন্তু….।

: তোমার চশমার রঙ কেমন উঠে গেছে। সোনালী ফ্রেম হয়ে গেছে রূপালী। আর রূপালীটা কালো। এগুলোর রঙ কেয়ামতের আগ পর্যন্ত একই থাকবে।

: তুই কি মনে করিস যে, বিশেষ কোনো দিনক্ষণে পৃথিবীর ধ্বংস হবে?

: আমি মনে করি, পৃথিবীর আয়ু নির্ভর করছে সূর্য মামার ওপর। সূর্য মামা যেদিন ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে পৃথিবীর অস্তিত্ব সেদিন বিলীন হবে।

: তাহলে বললি যে, কেয়ামতের আগ পর্যন্ত….।

: দীর্ঘ সূত্রীতা বোঝাতে অনেকেই এভাবে কথা বলে।

রেহানা বেগম বারান্দায় কাপড় ছড়িযে দিয়ে টবের গাছগুলোর একটু যত্ন নিচ্ছিলেন। টবে বেলিফুল গাছটার গোড়ায় বেশ আগাছা জন্মেছে। সেগুলো তুলে ফেলছেন। ফেলতে ফেলতে ভাবছেন, টবের ভেতর এরকম আগাছা জন্মে কেমন করে? আগাছার বীজ এখানে এল কেমন করে? মরিচ গাছগুলো তো আগাছার কারণে বাড়তেই পারছে না। এরকম সময় সান্টু গিয়ে বলল: মা, তোমাকে নিয়ে হয়েছিল বিরাট সমস্যা?

: আমি আবার কী সমস্যা করলাম? তোদের পরিবারে তোরা সবাই কম-বেশি সমস্যা সৃষ্টি করিস। আমি কখনো সমস্যার কারণ হই না, বরং সমস্যা দূর করি।

: তোমার জন্য কী কিনবো বুঝতেই পারছিলাম না। শেষে কিনলাম এই পশমের সোয়েটারটা। ভেড়ার লোমের সোয়েটার।

: দে, গায়ে দেই।

: এখন না, শীতের সময় পরবে।

: এটা পরলে আমাকে ভালুকের মতো লাগবে। তোদের ভালুক মা।

: হাহাহাহা। মা, তুমি কখনো রসিকতা করে কথা বলো না। এই প্রথম বললে, খুব ভালো লেগেছে। এখন থেকে মাঝে মাঝে রসিকতা করে কথা বলবে। সব সময় সিরিয়াস থাকা ভালো লাগে না।

: আচ্ছা বলবো। তবে এটা পরে ভালুক সেজে রান্নাঘরে গেলে আগুনে পুড়ে মরে যাব। তখন রসিকতা করবো কীভাবে?

: এটা পরে রান্নাঘরে যাবে কেন? এটা পরবে শুধু বাইরে-টাইরে যাওয়ার সময়।

মাহিন আহমেদ, সাফিনা এবং মতলুব সাহেব তিনজনের জন্যই এনেছে তিনটা কলম। কলমগুলো খুব সুন্দর। তিনজনই লেখাপড়ার সাথে জড়িত তাই তাদের জন্য কলম। বলপয়েন্ট কলমের কালি শেষ হয়ে গেলে অকেজো। তখন সৌন্দর্য দেখে কী লাভ? কিন্তু, প্রতিটা কলমের জন্য এক প্যকেট শিশও এনেছে। প্রতি প্যকেটে আছে দশটা শিশ। প্রতি শিশে কালি অনেক। তাতে সহসা অকেজো হবে না। বছর খানেক তো কলমগুলো নাড়াচাড়া করা যাবেই।

মতলুব সাহেব বললেন: আমি তো লিখতে এবং পড়তে অক্ষম। আমার হয়ে পড়ে সাফিনা, লেখেও সে। সুতরাং কলমটা তারই প্রাপ্য।

সান্টু বলল: অসুবিধা নেই দাদা। ওটাও সাফিনা ম্যাডাম ব্যবহার করবেন। আপনার জন্য কিছু বই এনেছি।

বইয়ের কথা শুনে মতলুব সাহেব ভীষণ উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। বললেন: এই না হলে আমার নাতী! ফ্রান্স থেকে আমার জন্য বই এনেছে। আয় দাদা, তোর কপালে একটা চুমু খাই।

মতলুব সাহেব মানুষটা অনেকের চেয়েই আলাদা। বই পাগল মানুষদের চেয়েও একটু বেশি পাগল।

  •  
    16
    Shares
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply