জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 13 )

জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 13 )

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

সান্টু একটা প্যাকেট এনে দাদার সামনে খুলল। যে বইগুলো বের হল-

১. দ্য এইজ অব লুই-ভলতেয়ার।

২. বেল আমি- গি দ্য মোপাসাঁ

৩. থ্রি মাস্কেটিয়ার্স-আলেকজান্ডার দ্যুমো।

৪. টোয়েন্টি ইয়ার্স আফটার- আলেকজান্ডার দ্যুমো

৫. ক্যাপ্টেইন অ্যাট ফিফটিন-জুলভার্ন।

বইয়ের নাম আর লেখকের নাম তো বড় অক্ষরেই লেখা থাকে। সে লেখা দেখতেও মতলুব সাহেবের আতশ কাঁচ লাগে। আর কিছু নয়, মানুষটা যেন শুধু বই পড়ার জন্যই বেঁচে আছেন।

 

সব কিছুই খুব ঠিকঠাক চলছে। সাফিনা সপ্তাহে পাঁচদিন আসে। ঘন্টা তিনেক থাকে। বই পড়ে। দাদাকে চা করে খাওয়ায়। টেবিল, বিছানা ইত্যাদি গুছিয়ে দেয়। তার থাকা সময়ের মধ্যে ওষুধ খাওয়ানোর কথা থাকলে তাও খাওয়ায়। কমপক্ষে ঘন্টা দুয়েক বই পড়া হয়। কম না। সাজিদ বড়জোর ৪৫ মিনিট বই পড়ে শোনাতে পারতো। ত্রিশ মিনিটের পর সাজিদ এক লাইন পাঁচ/সাতবার পড়তে থাকতো। কারণ মনোযোগিতার অভাব। সান্টু আরও কম। তনিমার ধৈর্য্য ভালো। কিন্তু তার সময় নেই।

সবকিছু ঠিকমতো চললেও রুটিন এলোমেলো হয়ে গেল সাজিদের। সাফিনা যে সময়টা থাকে, সাজিদ সময়টা বাইরে যায় না। এঘর-ওঘর করে। বই পড়ার চেষ্টা করে। গান শোনার চেষ্টা করে। কিছু একটা করার চেষ্টা করে। স্বাভাবিক ব্যাপার মানুষের চোখে তেমন ধরা পড়ে না। কিন্তু ব্যতিক্রম কিছু হলে সবার চোখে সহজেই ধরা পড়ে। তবে ব্যতিক্রম কিছু যে মানুষটা করছে বা ঘটাচ্ছে সে সেটা বুঝতে পারে না। সে মনে করে সবার চোখে ধুলা দেয়া যাচ্ছে। কাক চোখ বন্ধ করে খড়ের পালায় খাবার গুঁজে রাখার সময় ভাবে, কেউ দেখতে পেল না।

একদিন সান্টু তনিমাকে বলল: একটা করুন সুর তৈরী করতে চাই।

: করুন সুর কেন?

: ভাইয়ার জন্য।

: ভাইয়ার জন্য করুন সুর কেন?

: আমার মনে হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে ভাইয়ার ভেতর করুন বেহালা বাজতে শুরু করবে। তখন আমি তাকে আমার বেহালার করুন সুর বাজিয়ে শোনাবো। মনের দুঃখ আর বেহালার দুঃখ কাটাকাটি হয়ে ভাইয়ার মনে কিছুটা শান্তি আসবে।

: দুঃখের সময় আনন্দের সুর বাজলে মনটা ভালো হবে।

: তুই অনেক বোকা। সুখের সময় দু:খের সুর ভালো লাগে। সেটা হলো দু:খ বিলাশ। আবার আনন্দের সুরও ভালো লাগে। কিন্তু দুঃখের সময় আনন্দের সুর কেউই শুনতে চায় না। ধর, কোনো কারণে তুই কাঁদছিস, তখন কেউ তোর কাছে গিয়ে জোক বলতে শুরু করল। কেমন লাগবে? মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে না?

: বুঝলাম, কিন্তু তুমি ভাইয়ার জন্য করুন সুর বানাতে চাও কেন? কী এমন দুঃখ আসবে তার মনে?

: এ প্রশ্নের জবাব তখনই পেয়ে যাবি।

একদিন মতলুব সাহেব সাজিদকে ডাকলেন। বললেন: সিদ্ধান্তটা কি বাতিল করে দিয়েছিস?

: কোন সিদ্ধান্ত দাদা?

: বিসিএস দেবার সিদ্ধান্ত।

: নাহ! বাতিল করবো কেন? বিসিএস-এর ওপর এ দেশে কোনো চাকরি আছে নাকি? টাকা আর অঢেল ক্ষমতা। বিসিএস ক্যাডার মানে মোগল-সম্রাট আকবরের মতো কিছু। মন্ত্রী-মিনিস্টারদের যদি কেউ ড্যাম্পকেয়ার করতে পারে তো সে একজন বিসিএস ক্যাডারই পারে।

: তোরা কয়েকজন বন্ধু মিলে না এক সাথে পড়াশোনা করছিস?

: হ্যাঁ আমরা মোট আটজন। আশা করছি, আমাদের ভেতর থেকে অন্তত দু’জনের হবেই। যাদের হবে তারা অন্যদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। আর বিসিএস-এর প্রিপারেশনটা তো অন্য চাকরিতেও কাজে লাগবে। 

: তুই ইদানিং বেশি কথা বলছিস। এক লাইনের বিপরীতে চার লাইন।

: তাই! সরি দাদা। বেশি কথা বলা ভালো না। আয়ু কাটা যায়। প্রতি লাইনের জন্য যদি এক দিনের আয়ু কাটা যায় তো এক বছর দেখা যাবে……।

: তুই ইদানিং সারা বিকেল বাসায় বসে থাকিস।

: তাই?

: হ্যাঁ, সাফিনা আসার পর থেকেই………।

এবার সাজিদ দাদার কথার মূল ধরতে পারল। আর তখনই কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল।

  •  
    7
    Shares
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply