জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 14 )

জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 14 )

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তখনই দরজায় বেল বেজে উঠলো। তনিমা দরজা খুলল। সাফিনা দ্রুত পায়ে হেঁটে মতলুব সাহেবের ঘরে প্রবেশ করল। সাজিদ তড়িঘরি করে বেরিয়ে যেতে উদ্ধত হতেই সাফিনা বলল: বসুন বসুন, যাচ্ছেন কেন?

মতলুব সহেব বললেন: সাজিদ, বস ভাই। একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো। তোর থাকা দরকার।

সাজিদ ঘর থেকে বের হতে পারল না। কিন্তু মনের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। দাদা কী বলতে চান? বুড়ো মানুষের আসল সখ হলো নাতবউ বা নাতনীর স্বামী দেখে মরা। নাতবউ হিসাবে সাফিনাকে দাদার খুব পছন্দ তা বোঝা যায়। মূলত ভালো লাগার মতো একটি মেয়ে সাফিনা। আবার নাতবউ হিসাবে পছন্দ-টছন্দ এরকম কিছু বলবেন না তো? তাহলে খুবই বিশ্রী একটা ব্যাপার হয়ে যাবে।

সাফিনা নিঃশব্দে টেবিল আর বিছানাপত্র গোছালো। বলল: দাদা, চা খেয়ে নেবেন আগে?

: সেটাই ভালো হয়।

সাফিনা তার ব্যাগের পকেট থেকে এক প্যাকেট চা বের করল। বলল: গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি খেয়েছেন। আমি আজ বিশেষ এক রকমের চা নিয়ে এসেছি। এর নাম উলং টি। গ্রিন টিকে সামান্য ফরমেট করলে এই উলং টি হয়। এই টি কলস্টেরেল ক্ষয় করে। চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর এই টি পান করলে কোলেস্টরেল বাড়বে না।

সাজিদ হাঁ করে তাকিয়ে আছে সাফিনার মুখে। এই টি-এর নাম সে জীবনে এই প্রথম শুনল। সাফিনা সাজিদকে বলল: সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছেন। বসুন, আমি চা করে আনছি। আপনিও উলং টি পান করবেন আজ।

: আমার কোলেস্টরেল সমস্যা নেই।

: কোলেস্টরেল সমস্যা না থাকলেও পান করা যাবে। ক্ষতি হবে না, বরং উপকার পাবেন।

সাফিনা মেয়েটা খুব সহজভাবে কথা বলে। কথা বা ব্যবহারে এতটুকু জড়তা নেই। আর সাজিদ কেমন জড়োসড়ো হয়ে থাকে। অথচ এই মেয়েটার চাকরির নিয়োগ বোর্ডে সে ছিল।

চা খেতে খেতে সাজিদ মতলুব সাহেবের আলাপের বিষয়টা অনুমান করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তল পাচ্ছিল না কোনো।

মতলুব সাহেব বললেন: আমি একটা উপন্যাস লিখব বলে ঠিক করেছি।

কথাটা শুনে সাজদ উৎফুল্ল হল, সাফিনা উৎফুল্ল হল আরও বেশি। সাফিনা বলল: খুব ভালো সিদ্ধান্ত দাদা। আমার কিছু বন্ধু আছে পত্র-পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি করে। ওদের সাথে কথা বলে দেখবো কোথাও প্রকাশ করা যায় কি না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply