জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 15 )

জীবন অবশেষে সুন্দর- আবুল কালাম আজাদ ধারাবাহিক (পর্ব 15 )

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

কথাটা শুনে সাজদ উৎফুল্ল হল, সাফিনা উৎফুল্ল হল আরও বেশি। সাফিনা বলল: খুব ভালো সিদ্ধান্ত দাদা। আমার কিছু বন্ধু আছে পত্র-পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি করে। ওদের সাথে কথা বলে দেখবো কোথাও প্রকাশ করা যায় কি না।

: নৌকা কেনার আগেই বৈঠার চিন্তা। প্রতিদিন তুমি এক ঘন্টা ডিক্টেশন লিখবে। বই পড়া একটু কমাবে।

: বই যতটুকু পড়ার ততটুকুই পড়বো। সময় কমাতে হবে না। আপনার উপন্যাসের জন্য একটা অতিরিক্ত ঘন্টা দিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আপনি উপন্যাস লিখবেন এ কথা শুনে আমার মনে খুব আনন্দ হচ্ছে।

: তোমার মনে তো আনন্দ হচ্ছে, কিন্তু সাজিদ যে কিছু বলছে না। নাকি আমার সিদ্ধান্তটা সাজিদের মনপুত হয়নি?

সাজিদ নড়েচড়ে বসে বলল: কি যে বলেন দাদা! আপনি উপন্যাস লিখবেন এতে খুশি না হয়ে পারি? আপনার অভিজ্ঞতার বিশাল ভান্ডার। ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখবেন দাদা? ৫২ থেকে ৭১….?

 

: আরে না, আমি একটা রোমান্টিক উপন্যাস লিখতে চাই। ভরপুর প্রেমের উপন্যাস।

ভরপুর প্রেম! কি অদ্ভূতভাবে কথা বলেন দাদা। সাজিদ বলল: উপন্যাসের শেষে কি বিরহ দিবেন, নাকি মিলন?

: সাধারণত লেখকরা বিরহ এনে পাঠককে বিগলিত করতে চায়, বিভিন্ন চরিত্রের প্রতি পাঠকের সহানুভূতি আদায় করতে চায়। তবে আমি সেরকম করব না। বিরহ আমার ভালো লাগে না। আমি মিলনই ঘটাবো।

: সেটাই ভালো হবে দাদা। বিরহ আমারও ভালো লাগে না।

: তুই কি বিরহব্যাথা সয়েছিস যে……..?

: বিরহব্যাথা সইনি, তবে অনুমান করতে পারি। অনুমান করতে গেলেই মনে ভীষণ কষ্ট বাজে।

: এমনিতেও তোর মনটা অনেক নরম। ছেলেদের মন এত নরম হতে নেই। নরম হবে মেয়েদের মন। আমার মনে হয়, সবচেয়ে নরম মনের মেয়ের চেয়েও তোর মন নরম।

সাফিনা বলল: দাদা উপন্যাস লিখবেন এ জন্য আমার মনে এতটা আনন্দ হচ্ছে যে, আমি সেধে একটা কবিতা শোনাতে চাচ্ছি। সাজিদ সাহেবও আছেন….। তবে কবিতাটা বিরহের।

সাজিদ বলল: বিরহ ভালো লাগে না তা ঠিক। বিরহের কবিতা শুনতে আপত্তি নেই। কার কবিতা শোনাবেন?

: আবুল হাসানের।

: আবুল হাসানের প্রেমের কবিতা এক কথায় তুলনাহীন। তাহলে কবিতা হোক।

সাফিনা আবৃত্তি করল:

তুমি কি আমার আকাশ হবে?

মেঘ হয়ে যাকে সাজাবো

আমার মত করে।

তুমি কি আমার নদী হবে?

যার নিবিড় আলিঙ্গনে ধন্য হয়ে

তরীবেশে ভেসে যাব কোনো অজানা গন্তব্যে।

তুমি কি আমার জোছনা হবে?

যার মায়াজালে বিভোর হয়ে নিজেকে সপে দেব

সকল বাস্তবতা ভুল।

তুমি কি আমার কবর হবে?

যেখানে শান্তির শীতল বাতাসে

বয়ে যাবে আমার চিরনিদ্রার অফুরন্ত প্রহর।

সাফিনার আবৃত্তির কন্ঠ সুন্দর। আসলে মেয়েটার প্রতিভা আছে। অর্থকষ্ট, সুযোগ-সুবিধার অভাব তারপরও শিল্পের কাছাকাছি থাকে। সাজিদের ভেতর কিছু প্রশ্ন জেগে উঠল-সাফিনা এই কবিতাটাই কেন আবৃত্তি করলো? ‘তুমি’টা কে? এটা তো মূলত বিরহের কবিতা নয়। এটা প্রেম আহ্বানের কবিতা। কিন্তু সাজিদ কিছু প্রকাশ করতে পারল না।

  •  
    5
    Shares
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply