• 5
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares
monument-4310733_1280
Content | Issue 11 - 30TH Aug, 2020

KafeHouse

ধারাবাহিক
মিছিলে নাটকে কবিতায় গানে – আরণ্যক বসু 
জীবন অবশেষে সুন্দর – আবুল কালাম আজাদ

কবিতা
চিহ্ন – শক্তিপ্রসাদ ঘোষ
দারিদ্রতার প্রেম – সায়ন তরফদার
পরশ – তনিমা সাহা

গল্প
সুহৃদ- তনিমা সাহা
হাওয়া পাখা – কল্যাণ ভট্টাচার্য্য
ব্যাঙ- কাঞ্চন কুমার গাঙ্গুলী
বিছানা – সমাজ বসু
খোঁজ অথবা একটি আত্মকথা – অনুপম কাঞ্জিলাল

আ র ণ্য ক ব সু

ধারাবাহিক (পর্ব ২ )

জীবন অবশেষে সুন্দর
আবুল কালাম আজাদ

সান্টু ছেলেটা কিছুটা অস্থির টাইপের, কিছুটা আত্মভোলা। লেখাপড়ায় মন নেই। বলে: সৃজনশীল নামক মানহীন শিক্ষাব্যবস্থার পেছনের ছুটে আমি আমার সৃজনশীলতা নষ্ট করতে পারব না। আগে শিক্ষা গ্রহণ করে একজন মানুষ ক্রমে ক্রমে হয়ে উঠত সৃজনশীল। আর এখন শিক্ষা নিজেই হয়েছে সৃজনশীল। অদ্ভূত ব্যাপার! আবুল কালাম আজাদ
সে স্কুলে যায়। নিজের মত পড়ে। প্রাইভেট বা কোচিং-এর ধার ধারে না। সে ক্রিকেট খেলে আর বেহালা বাজায়। ওর স্কুলের অংকের টিচার হরমুজ আলী প্রায়ই বলেন: তুমি তো আমার কাছে পড়লে না। সৃজনশীল অংকে এ প্লাস কীভাবে পাবে?
সান্টু বলে: স্যার, আমার ভায়োলিন টিচার আলাউদ্দিন মিয়া কিন্তু এ প্লাস পাননি। তার থার্ড ডিভিশন মার্কা রেজাল্ট। ৪৫% এরও কম নম্বর পেয়েছিলেন। এখন তিনি দেশের অন্যতম সেরা বেহালা বাদক।
: তোমার ভায়োলিন টিচারের নাম কী?
: আলাউদ্দিন মিয়া।
: কেমন গেঁয়ো ধরনের নাম। ভায়োলিন টিচারের নামের মধ্যে রোমান্টিকতা থাকা উচিত।
: স্যার, আমাদের অংকের টিচারের নাম ‘হরমুজ আলী’র ভেতর যে রোমান্টিকতা আছে তা বলা যাবে না। তা ছাড়া আলাউদ্দীন খাঁ নামে বিশ্ববিখ্যাত একজন সেতার বাদক আছেন। হরমুজ আলী নামে তেমন কাউকে চিনি না।
: কথায় তো প্যাঁচ শিখেছো। শোনো, অংকে এপ্লাস না পেলে পস্তাবে।
: স্যার, সত্যি কথাটা হল, ভায়োলিনের একটা টোন আমাকে যেভাবে টানে, এ প্লাসটা আমাকে সেভাবে টানে না। হাকল-বারী প্যানকেক আমার ভেতরটা কেমন নাড়িয়ে দেয়। আমার থ্রি কোয়ার্টার ভায়োলিটটা একদিন এনে আপনাকে টোনটা বাজিয়ে শোনাব।
: কী ভায়োলিন তোমার?
: থ্রি কোয়ার্টার।
: থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট হয় তা জানি। ব্লাউজ বা জামার থ্রি কোয়ার্টার হাতার কথা শুনেছি। ভায়োলিন যে থ্রি কোয়ার্টার হয় তা তো জানতাম না।
: স্যার, আপনি অংকটা অনেক ভাল জানেন। অংকে আপনার সাথে তুল্য কমই আছে।
তবে সান্টু যে একেবারেই দাদাকে কিছু পড়ে শোনায় না তা নয়। মাঝে মাঝে শোনায়। সে কাজটা করে রাতে। বেশির ভাগ সময় খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত এগারোটার পরে।
সাজিদদের ফ্ল্যাটে একটা ঝুল বারান্দা আছে। ছয় তলার ফ্ল্যাট বলে সেই বারান্দায় বসলে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। সামনে বড় কোনো দালান নেই বলে বিস্তৃত আকাশটাও দেখা যায় ভালভাবে। রাতের আকাশে পূর্ণ বা অর্ধচাঁদ, অথবা তারার ফুল দেখার আনন্দ উপভোগ করা যায়। সেই ঝুল বারান্দায় বসে সান্টু দাদাকে বই পড়ে শোনায়। সান্টুর পড়াটা একটু ভিন্নরকম। অন্যরা পড়ে দাদার পছন্দের বই। আর সান্টু পড়ে নিজের পছন্দের জিনিস। মতলুব সাহেব যেহেতু পাঠক হিসেবে সর্বভূক। সান্টু যা পড়ে তা-ই তিনি মন দিয়ে শোনেন এবং খুশি হোন। যেমন সান্টু পড়তে থাকল-
১৯৫৯ সালের ২৭ মে সুরকার হো চান হাও এবং চেন কাংয়ের অপূর্ব সৃষ্টি ‘লিয়াংচু’ নামের এই বেহালার সুর সাংহাইয়ের লানসিন থিয়েটারে প্রথম বারের মত পরিবেশন করা হয়। এ সুরটি এখন পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত বেহালার সুর। এই সুর দিয়ে সিমফনির জাতিগত রূপান্তর বাস্তবায়িত করা হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল ‘লিয়াংচু’ সুরটার নামকরণ করা হয়েছে চীনের অত্যন্ত প্রচলিত একটা লোককাহিনী থেকে। অনেক অনেক বছর আগে, চু ইং থাই নামে এক মেয়ে ছেলেদের পোশাক পরে স্কুলে যেত। লিয়াং শান পো নামে একটি ছেলে ছিল তার সহপাঠী। এ দু’জনের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব হয়। তারা পরস্পরকে ভাই বলে ডাকে। সারাক্ষণ দু’জনে এক সাথে সময় কাটায়। এক সাথে খায়, থাকে, আড্ডা দেয়। রিয়াং শান পো কখনোই বুঝতে পারেনি যে, চুইং থাই একজন মেয়ে।
এদিকে হল কি, এভাবে মেলামেশা করতে গিয়ে চুইং থাই মনে মনে লিয়াং শানকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু সে তা প্রকাশ করেনি। দেখতে দেখতে এক সময় তাদের স্কুল জীবন শেষ হয়ে গেল। স্কুলের পাট চুকিয়ে বিদায়ের সময় লিয়াং শান পো অনেক দূর পর্যন্ত চুইং থাইকে পৌছে দেয়। তারা কথা দেয়, দু’ মাস পর পর চুইং থাইয়ের বাসায় তাদের দেখা হবে।
টুইং থাই চলে যাবার পর লিয়াং শান পো তার শিক্ষকের স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারে, চুইং থাই একজন মেয়ে। এ খবর শুনে সে তো মহাখুশি। এর কয়েক মাস পরে লিয়াং শান পো মহানন্দে চুর বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে দেখে, চু’র বাবা-মা মা-এর পরিবারের ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে।
লিয়াং শান পো আসতে দেরি করেছে বলে মনে মনে ভীষণ অনুতপ্ত হয়। বাসায় ফিরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে অল্প দিন পরে সে মারা যায়। পরের বছর চুইং থাইয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুড়বাড়ি যাওয়ার সময় হঠাত প্রচন্ড বাতাস ওঠে। চুইং থাইয়ের পালকি আর সামনের দিকে যেতে পারে না। চুইং থাই পালকি থেকে নামার পর ভীষণ অবাক হয়। তাকিয়ে দেখে লিয়াং শান পোর কবর হঠাৎ ভেঙে গেছে। সে বুঝতে পারে, লিয়াং শান পো তাকে খুব মিস করছে। ফলে সে লাফ দিয়ে কবরের ভেতরে ঢুকে যায়। আশেপাশের লোকরা তাকে টেনে ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর সেই কবর থেকে দু’টি ঝলমলে প্রজাপতি বেরিয়ে আসে। আজও লোকে বলে, এ দু’টি প্রজাপতি আসলে লিয়াং শান পো এবং চুইং থাইয়ের আত্মা।
সান্টুর এই গল্প শুনতে শুনতে মতলুব সাহেব কেমন আনমনা হয়ে যান। আর তখনই সান্টু তার বেহালা তুলে নিয়ে বাজাতে থাকে-তুই ফেলে এসেছিস কারে মন, মনরে আমার।
সুর শুনতে শুনতে মতলুব সাহেব অসীম আকাশে কী যেন খুঁজতে থাকেন।
সাজিদের মাঝে মাঝে মনে হয়, তাদের তিন ভাইবোনের মধ্যে দাদা সান্টুকেই বেশি ভালোবাসেন। তারা তিনজনই দাদাকে ভীষণ ভালোবাসেন। সাজিদের মনে হয়, তাকে আর তনিমাকে পিছে ফেলে সান্টুই দাদাকে অধিক ভালেবাসে।
সাজিদ চেয়ার টেনে বসল। বলল: কোন বই পড়বো দাদা?
: এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্রটা পড়।
: মুক্তিযুদ্ধের সময় এই চরমপত্র নাকি আপনারা নিয়মিত শুনতেন?
: শুনতাম। এই চরমপত্র শুনে যুদ্ধে ক্ষেত্রে বসে হাসতাম, মনকে চাঙ্গা করতাম, বুকের ভেতর সাহস সঞ্চয় করতাম, প্রেরণা পেতাম শত বাধা পেরিয়ে নতুন উদ্যোমে যুদ্ধ করার।
: অন্য কোনো বই পড়ি দাদা?
: যেটা পড়তে বলেছি সেটা পড়বি। এটা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী তোদের সবারই পড়া দরকার। সেই সময়ের অনেক কিছুই কল্পনা করতে পারবি।
: দাদা, প্রথম থেকে পড়বো?
: এই বইয়ের প্রথম আর শেষ বলে কিছু নেই। প্রতিটা দিনের ঘটনাই ভিন্ন। তাই প্রতিদিনের ঘটনাই প্রথম এবং শেষ।
সাজিদ চোখ বন্ধ করে বইটা খুলল। দেখল, একেবারে শেষের দিকের একটা পাতা বের হয়েছে। পৃষ্ঠা ৩১৯। ডিসেম্বর ৪, ১৯৭১। সাজিদ পড়তে শুরু করল-
দম মওলা, কাদের মওলা।
ডরাইয়েন না, ডরাইয়েন না। এমতেই একটা আওয়াজ করলাম, আর কি।
এ তো কইরা কইছিলাম-চেতাইস না, চেতাইস না- বঙ্গবন্ধুর বাঙালিগো চেতাইস না। বাংলাদেশের কেদো আর প্যাঁকের মাইধ্যে হাঁটু হান্দাইস না। নাহ! আমার কথা হুনলো না। তহন কী চিৎকার! ৭২ ঘন্টার মাইদ্দে সব ঠান্ডা কইরা দিমু। কি হইল, ঠ্যাটা মালেক্যা-পিঁয়াজী-ইয়াহিয়া সাব? অহন হেই সব চোটপাট গেল কই? ৭২ ঘন্টার জায়গায় ২১০ দিন পার হইছে-গেনজাম তো শ্যাষ হইল না। আইজ-কাইল তো কারবার উল্টা কিসিমের দেখতাছি। হানাদার মছুয়াগো অবস্থা দিনকা দিন তুরহান্দ খতরনাক হইয়া উঠতাছে। সাতক্ষীরা-খুলনা, যশোর-কুষ্টিয়া, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর-দিনাজপুর, সিলেট-ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল-মধুপুর, কুমিল্লা-চিটাগাং, মাদারীপুর-পালং আর ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ হগ্গল জায়গা থনে ডড়ৎষফ-এর ইবংঃ পাইটিং ফোর্সরা খালি ঝাইরা দৌড়াইতেছে।
এইটুকু পড়তেই সাজিদের সেলফোন বেজে উঠল। সাজিদ পকেট থেকে সেলফোন বের করে কল রিসিভ করে বলল: এই একটু অপেক্ষা কর, আসছি।
সেলফোন পকেটে ঢোকাতে না ঢোকাতে আবার বেজে উঠল। মতলুব সাহেব বললেন: তুই এখন যা। রাতে পড়িস।
: সমস্যা নাই দাদা। আর একটু পড়ি।
: না, রাতে পড়িস। এখন আমি বারান্দায় বসে এক কাপ চা খাব।
সাজিদের একটু মন খারাপ হল। ফোনটা বন্ধ করে বসলে ভাল হত। আসলে জরুরি কোনো ফোন ছিল না। দাদাকে নিরাশ করলে মনে কষ্ট বাজে।

নিচে নেমে সাজিদ সিদ্ধান্ত নিল, যে বন্ধু ফোন করেছে তার কাছে সে যাবে না। যার জন্য দাদাকে নিরাশ করতে হল, সে তাকে নিরাশ করবে। সে হাঁটতে থাকল। হাঁটতে হাঁটতে কিছুক্ষণ পর একটা চায়ের দোকানে বসল। চায়ের দোকানের স্বাভাবিক কোলাহল নেই সেখানে। দোকানের এক পাশের বেঞ্চিতে একজন বৃদ্ধ বসে আছেন। সাধারণত এরকম নির্জন চায়ের দোকান দেখা যায় না। নির্জন হাট-বাজার, নির্জন চায়ের দোকান মানানসই নয়। …(চলবে)

চিহ্ন
শক্তিপ্রসাদ ঘোষ
বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর প্রয়াসে
অসাবধানতা খুঁজে পায় স্বাধীনতা
জলের ভেতর ঝাপাতেই জল টুকরো টুকরো 
জলের সাথে বন্ধুত্ব পাতি
ঘুমিয়ে থাকা সমকামী মন
ডানাতে পাথর ঘষে 
মনের অবজ্ঞা অজ্ঞতাকে চিহ্নিত করে 
দারিদ্রতার প্রেম
সায়ন তরফদার
 
বেকারত্বের হারে দ্রবীভূত তোমার
                           শারীরিক চাহিদা—
চুমু খেতে গিয়ে দুই ঠোঁটের মাঝে
       দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুর পরিসংখ্যান
তোমার সুগন্ধী রুমালে ফুটে
               ওঠে দেশের দামস্তর ও
দারিদ্রের লেখচিত্র বা গ্রাফ…
 
আমি হাতে সাইকো-থ্রিলারের
উপন্যাস ধরে গ্রাফের রেখা এঁকেছি।
        তবুও রাশিবিজ্ঞান বারবার পরিহাস
                 করেছে আমার দিকে তাকিয়ে…

পরশ

তনিমা সাহা

     তিয়াসের ন্যায় পিপাসিত আমি,
     বিস্তির্ণ বক্ষজুড়ে শুধু অবহেলার নুড়ি,
     ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যত্রতত্র;
     একটু শীতল পরশের তৃষ্ণা নিয়ে,
     দাঁড়িয়েছি তোমার দুয়ারে আমি,
     অঙ্গে আমার সহস্র ক্ষত, আঁচড়ের
     দগদগে ঘা;
     নিদারুন যন্ত্রনায় ক্লিষ্ট আমার মন-প্রাণ-দেহ,
     তোমার কাঁধে রাখতে দাও আমার মাথা,
     ঝরে পড়তে দাও আমার সব পীড়ার ধারা;
     আপন করতে চেয়েছি তোমায় শুধু,
     আটকে রাখতে চাইনি কোনো শর্তের বেড়াজালে,
     চেয়েছি শুধু আগলে রাখতে তোমায়,
     আমার মনের গোপন কুঠুরিতে;
     জেনেছো তুমি, চিনেছো তুমি আমায়,
     আমার মতো করে,
     তুমি আমার মনের একটা খোলা জানালা,
     তোমার বুকে মাথা গুঁজে আমি খুঁজে পাই-       
     আমার মহাকাশ,
     তুমি আমার চিরন্তন শান্তির পরশ।

ইনসাইটফুলসাইট একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম , ঠিক যেরকম আপনারা রেলের প্ল্যাটফর্মে দৌড়ে বেড়াতে পারেন, এখানেও আপনারা নিজেদেরকে স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করতে পারেন। গল্প, কবিতা, অনুগল্প, ভ্রমণ বিষয়ক লেখা, প্রবন্ধ, অনুবাদ – আপনারা আপনাদের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইল করে, আমরা আপনার লেখা গল্প, কবিতা অথবা প্রবন্ধ প্রকাশ করবো আমাদের এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

লেখা পাঠান- insightfulsite@gmail.com
সাথে থাকুন, পড়তে থাকুন।

গল্প                  

সুহৃদ

তনিমা সাহা

আজ সেন্ট মরিস্ হাইস্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে| এখন ছুটির সময়| তাই ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা সব স্কুলের গেটের বাইরে ভীড় করে আছে| সবার মধ্যেই একটা চাপা উত্তেজনা রেজাল্ট নিয়ে|বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদটা একটু বেশী| কারণ, এই স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণীতে যারা ‘সেরা দশ’য়ের তালিকার মধ্যে থাকবে তাদেরকে স্কুলের তরফ থেকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে এবং সেই ‘সেরা দশ’কে একটু বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে| সেন্ট মরিসের সঙ্গে বিশ্বের সেরা কলেজ ও ইউনিভার্সিটির  চুক্তি রয়েছে| প্রতিবছর এই ‘সেরা দশ’ থেকে অন্ততঃপক্ষে পাঁচজন স্যান্ডফোর্ড, অক্সফোর্ড, ঈয়েল বা মেসাসুসেটের মতো নামি প্রতিষ্ঠান গুলোতে পড়ার সুযোগ পায়| ক্লাস টুয়েলভের নম্বর এবং আরো একটি বৃত্তি পরীক্ষার নম্বর যোগ করে যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায় বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পড়ার জন্য| এই বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ক্লাস সিক্স থেকেই ‘সেরা দশ’কে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়| তাই পঞ্চম শ্রেণীর অভিভাবকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য|

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরাও চুপ করে বসে আছে ক্লাসে| কারোর মুখে ‘টুঁ’ শব্দটিও নেই| ঠিক এই সময় স্কুলের প্রিন্সিপাল ফাদার অ্যালবার্ট এলেন সেই ‘সেরা দশ’য়ের তালিকা নিয়ে| এই বিশেষ দিনটিতে পঞ্চম শ্রেণীর চারটে শাখাকে অডিটোরিয়ামে আনা হয়, বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও ‘সেরা দশ’য়ের তালিকা ঘোষণার জন্য| ফাদার এসে চিরপরিচিত স্বরে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর আওয়াজে বললেন,” Good afternoon, my dear children…”, সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে রোল উঠলো,”Goooood afternooon Father”| ফাদার বললেন,”আমি জানি, তোমরা একটু tension এ আছো| তাই আমি আগে রেজাল্ট অ্যানাউন্স করছি, তারপর একটি গল্প শোনাব, কেমন”| সবাই আবার সমস্বরে বলে উঠলো,” okay Father”| ফাদার বললেন,” বার্ষিক পরীক্ষায় সবাই ভাল রেজাল্ট করেছো, not a single fail this year,”| সঙ্গে সঙ্গে অডিটোরিয়ামে হাত-তালির বন্যা বয়ে গেল| ফাদার হাত তুলে সবাইকে থামতে নির্দেশ দিলেন| তারপর আবার বলতে শুরু করলেন,” বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম তিনজনের নাম হলো, এন্ড্রুজ গোমেজ, অচীন ফার্নান্ডেজ, প্রান্তিক বোস| তোমরা তো জানই যে সারাবছরের ক্যারীকুলাম অ্যাক্টিভিটিস্ এর উপর ভিত্তি করে ‘সেরা দশ’ নির্বাচিত হয়, তাই সেই অনুযায়ী ‘সেরা দশ’য়ের তালিকায় প্রথম হয়েছে অচীন ফার্নান্ডেজ, প্রান্তিক বোস….| ব্যাস্ আর কিছু কানে ঢোকেনি প্রান্তিকের,….’এবারো অচীন তাকে টেক্কা দিয়ে বেড়িয়ে গেলো, এবার তো একটায় নয় দু দুটোতেই তাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে| এবার যে তার কপালে কী আছে| গতবার অচীন প্রথম আর সে দ্বিতীয় হয়েছিল বলে কী মারই না খেয়েছে সে| অবশ্য সে মার তো কারনে অকারনে সবসময়ই খায়| আর তাছাড়া এতগুলো টিউশান পড়েও যদি প্রথম না হওয়া যায় তাহলে তো সবাই রাগই করবে’| এসব ভাবতে ভাবতেই ঘাম দিতে শুরু করলো প্রান্তিকের| ক্লাসে এসে রিপোর্ট কার্ড হাতে নিয়ে দেখলো প্রায় প্রতিটি বিষয়েই এক কি দু নম্বর করে কম পেয়েছে সে অচীন থেকে|  

যথাসময়ে ছুটি হলো স্কুল| স্কুলের বাইরে এসে প্রান্তিক দেখলো যে অভিভাবকদের ভীড় উপচে পড়ছে| ভাগ্যিস্ তাকে নিতে কেউ আসে না| নইলে এখানেই হয়তো মারতে শুরু করে দিত| মাথা-নিচু করে আনমনা হয়ে সে বাড়ীর দিকে হাঁটতে লাগল| হঠাৎ একটা চিৎকার শুনতে পেল,” watch it,” সাথে সাথে এক হ্যাঁচকা টান| পরক্ষণেই সোঁ করে একটা গাড়ী হাই স্পীডে বেড়িয়ে গেল প্রায় গা ঘেঁসে| ঘটনাটা এতই দ্রুতগতিতে হলো যে প্রন্তিক কিছুক্ষণের জন্য থম্ মেরে গেছিলো| একটু সম্বিৎ ফিরতেই দেখলো  অচীন দাঁড়িয়ে আছে| প্রান্তিক যথাসম্ভব স্বাভাবিক থেকে হালকা হেসে বলল,”congratulations buddy, you have done  an excellent job”| অচীন মশা তাড়ানোর মতো হাত নাড়িয়ে বলল,”Forget about congratulations, where are you my friend tell me, what were you thinking so deeply, গাড়ীটা কখন থেকে হর্ণ দিচ্ছে, শুনতে পাচ্ছিস্ না”| হালকা হেসে প্রান্তিক বলল,” আসলে ফাদারের বলা গল্পটার কথা ভাবছিলাম, তাই শুনতে পাই নি| অচীন বলল, “হ্যাঁ, গল্পটা কিন্তু খুব ভাল ছিল বল্ | সবচেয়ে ভাল ছিল নীতিকথাটা, ‘তুমি কোনো জায়গায় হেরে যাওয়া মানে সবসময়ের জন্য হেরে যাওয়া নয়’| কারোর হারও তাকে কিছু না কিছু শিখিয়ে যায়”| প্রান্তিক বলল,” হমম্, ঠিক বলেছিস্| চল্ আবার ছুটির পর দেখা হচ্ছে| এবার তো পুরো একমাসের গরমের ছুটি”| অচীন বলল,” টাটা, সাবধানে যাস্”|

অচীনের বাবা বড়ো ব্যবসায়ী| আর প্রান্তিকের বাবার একটা হোটেল আছে| যেটা এখন তার কাকা দেখাশোনা করে| এই কাকাকে তার একফোঁটাও পছন্দ নয়| যখন প্রান্তিকের মা জীবিত ছিলেন আর বাবাও সুস্থ ছিলেন তখন এই কাকা কতো  অন্যরকম ছিলেন, কতো আদর করতেন, অনেক গল্পও করতেন| কিন্তু দু’বছর আগের সেই ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনাটি ছিনিয়ে নিল তার মাকে, ওদিকে বাবা আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলেন, আর হোটেলের ব্যাবসাটা চলে এলো কাকার হাতে| সেদিন থেকে কাকার মধ্যে অদ্ভূত একটা পরিবর্তন আসতে শুরু করলো| কাকা এখন প্রান্তিককে আর আদর করে না| তার সাথে গল্প করা তো দূর এখন তো কারণে-অকারণে তাকে মার-ধোরও করে| পড়াশুনোয় বরাবরই ভাল প্রান্তিক| গতবার শুধু এক নম্বর অচীন থেকে কম পেয়েছিল সে, তাতেই কাকা কী মার মেরেছিল| শুধু কী তাই! ডিনার টেবিলে বসে সে খাবার খেতে খেতে পা দোলাচ্ছিল বলে বেল্ট দিয়ে পায়ে মেরেছিল কাকা| দু’দিন পর্যন্ত হাঁটতে পারে নি প্রান্তিক, স্কুলেও যেতে পারে নি| সেসময় অচীনই বাড়ী এসে স্কুলের যাবতীয় কাজগুলো করে  দিয়েছিল| এখন তো শুধু যে মার-ধোর করে তা-ই নয়, রাতে প্রান্তিকের ঘরে এসে প্রান্তিককে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়| প্রান্তিকের ভীষণ অস্বস্তি করে| রাতগুলো এখন আতঙ্কে কাটে এই ভেবে যে এইবুঝি কাকা ঘরে এলো| একবার ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিল সে, ফলটা তার মোটেই ভাল হয় নি|

স্কুল থেকে বাড়ী এসে সবার আগে বাবার ঘরে গেল| বাবাকে প্রণাম করে রেজাল্টটা বলল| কিন্তু প্রতিবারের মতোই এবারও বাবা শুধুই ফ্যালফ্যাল্ করে তাকিয়েই থাকল|

স্নান সেরে খেতে বসে দেখলো কাজের মাসি মাছ-ভাত বানিয়েছে| খাওয়া সেরে নিজের ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো অচীনের কথা| কী আজব ছেলে! কী করে যেন সে সবসময়ই প্রান্তিকের মনের কথা বুঝতে পেরে যায়| এই তো আজই, কী মন-মরা হয়ে হাঁটছিল সে, গাড়ীর হর্ণটা শুনতে পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছে করেই সরে যায় নি রাস্তা থেকে| মরে যেতে ইচ্ছে করছিল আজ প্রান্তিকের| কিন্তু কী করে জানি অচীন তার মনের ভাবটা বুঝতে পেরে চলে এলো তাকে বাঁচাতে| নাহ্ ! অচীন থেকে শেখার আছে অনেক কিছু| এইসবই ভাবছিল প্রান্তিক, এমন সময় বাড়ীর ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠলো| কাজের মাসি কিছুক্ষণ পর এসে বলে গেল যে, কাকাকে কোনো একটা জরুরী কাজের জন্য এক সপ্তাহের মগুরহাটে যেতে হবে| কাকা হোটেল থেকে বাড়ী না এসে তাই একেবারেই বেড়িয়ে পড়বে মগুরহাটের জন্য| ড্রাইভার আসবে ব্যাগ নিতে|কাজের মাসি তাই চলে গেল কাকার ব্যাগ রেডী করতে| প্রান্তিক ভাবলো,”যাক্, বাঁচা গেল| এই একটা সপ্তাহের জন্য রেহাই পাওয়া গেল কাকার হাত থেকে”|

একটা সপ্তাহ যে কিভাবে কেটে গেল, প্রান্তিক বুঝতেই পারলো না| সারাদিন খেলা,টিভি দেখা, গল্পের বই পড়া, কাজের মাসিকে দিয়ে নিজের পছন্দের খাবার বানানো সর্বপরি বাবার সাথে সময় কাটানো| কাকা বাড়ীতে থাকলে তো বাবার কাছে ঘেঁসতেই দেয় না, অথচ ডাক্তার কাকু বলেছিলেন যে যতটা সম্ভব বাবার সাথে কথা বলতে,সময় কাটাতে| তাহলে হয়তো একটু একটু করে সেরে উঠতে পারেন বাবা| কিন্তু কাকা যেন বাবাকে সুস্থ হতেই দিতে চান না|

নিজের মস্তিতে মত্ত থাকার দরুন প্রান্তিক ভুলেই গিয়েছিল যে কখন এক সপ্তাহের সময়টা পেড়িয়ে গেছে| রাতে হঠাৎ দরজার কলিং বেলের আওয়াজে নিজের ঘর থেকে উঁকি দিতেই বুকের রক্ত হীম হয়ে গেল প্রান্তিকের| কাকা ফিরে এসেছে| “কিন্তু একি কাকা সোজা হয়ে হাঁটতে পারছে না কেন? কেমন যেন টলে টলে হাঁটছে| তাহলে কি কাকা নেশা করে এসেছে”,মনে মনে ভাবলো প্রান্তিক| টিভিতে দেখেছে সে নেশা করলে এমনই দুলে দুলে হাঁটে লোকেরা| কাজের মাসিকে দেখলো ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছে কাকাকে ঘরে| পরবর্তি ঘটনার কথা ভেবে আতঙ্কে প্রান্তিকের হাত-পা কাঁপতে লাগলো| সে নিজের ঘরের দরজায় ছিটকিনি আটকে বিছানার উপর উঠে চুপ করে বসে রইল| কিছু ক্ষণ পরেই দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ হতে লাগলো| দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে বাজখাঁই গলায় কাকা বলতে লাগলেন,”এ্যই, খোল্ দরজা, দরজা খোল্ বলছি| ভালয় ভালয় দরজা খুলে দে, নইলে কিন্তু খুব খারাপ হবে| খোল্ দরজা খোল্”| প্রান্তিক কাঠ মেরে বিছানায় জড়সড় হয়ে বসে রইলো| ‘কাকার ওই জড়িয়ে ধরা, প্যান্টের ভেতরে হাত ঢোকানো, তার মোটেই ভাল লাগেনা| ঘেন্নায় তার রাতে ঘুম হয় না| চেষ্টা করে পড়াশুনোতে মুখ গুঁজে রাখতে, কিন্তু পারে না| রাতের আতঙ্ক তাকে তাড়া করে বেড়ায়| তখন মায়ের কথা খুব মনে পড়ে প্রান্তিকের| ভগবানের উপর খুব রাগ হয় তার| কেন তার সাথে এমন হলো, কী করেছিল সে? শুনেছে যে ভগবান দুষ্টু লোকেদের শাস্তি দেয়| তবে কী সে দুষ্টু লোক’, আবার ভাবনায় ছেদ পড়লো| দরজায় ধাক্কার জোরটা এবার দ্বিগুন হয়ে গেছে| ছিটকিনিটা বোধহয় এবার ভেঙ্গেঁই যাবে| দরাম্ করে ছিটকিনি ভেঙ্গেঁ দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো কাকা| ভয়ে বিছানা থেকে নেমে দেয়ালের এককোনে গিয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগলো প্রান্তিক| কাকা কোমড়ের বেল্টটা খুলে হাতে নিয়ে বললেন,”কী রে, খুব সাহস হয়েছে না তোর| দরজা আটকে রাখবি? এতো সাহস! আজ দেখ্ তোকে আমি কী করি”| বলে যে মাত্র বেল্টটা উঁচিয়ে নিয়ে প্রান্তিককে মারতে যাবে, সে সময়ই প্রান্তিক ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিল এবং অপেক্ষা করতে লাগলো ভবিতব্যের জন্য| অনেক্ষণ চোখ বন্ধ রাখার পরও যখন বেল্টের মার পড়লো না তখন সে আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি কাকার হাতে ধরা বেল্টটাকে পেছনের দিকে টেনে ধরে রেখেছে| কাকা কিছুতেই ছাড়াতে পারছে না বেল্টটাকে| তারপরই বেল্টটা নিজে থেকেই কাকার গলায় জড়িয়ে গিয়ে, কাকার শ্বাসবন্ধের মতো অবস্থা করে দিল| কাকা একটু শ্বাস নেবার জন্য ছট্ ফট্ করতে লাগলো|পরক্ষণেই বেল্টটা কাকাকে ওই অবস্থাতেই টেনে নিয়ে ঘরের বাইরে চলে গেল| প্রান্তিক এই আচমকা ঘটনায় এতটাই হতভম্ব হয়ে গেছিলো যে সে শ্বাস নিতেই ভুলে গেছিলো| হুঁশ ফিরতেই ভয়ে ভয়ে দরজার বাইরে পা রাখলো| কিন্তু কোথাও কাকাকে দেখতে পেল না| ধীরে ধীরে সে কাকার ঘরের দিকে পা বাড়ালো| দেখে কাকার ঘরের দরজাটা হাট্ করে খোলা রয়েছে| ঘরে ঢুকে উঁকি মারতেই প্রান্তিকের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল; দেখলো ঘরের ফ্যান থেকে কাকার শরীরটা ঝুলছে, চোখ বিস্ফারিত আর জীভটা বেড়িয়ে আছে| দৃশ্যটা দেখে সে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলো না| একটা ভয়ার্ত চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়লো|

প্রান্তিকের চিৎকার শুনে কাজের মাসি দৌঁড়ে এসে প্রান্তিককে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে তাড়াতাড়ি ওঠাতে গেলেন| প্রান্তিককে ওঠাতে গিয়ে ছাদের দিকে নজর পড়তেই ভয়ে শিউরে উঠলেন| কিন্তু পরক্ষণেই মনে মনে ভগবানকে ধন্যবাদ দিলেন,ওই পাপীষ্ঠটাকে শাস্তি দেবার জন্য| আর অত্যাচার সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি| প্রান্তিককে নিজের বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আগে পুলিশকে ফোন করলেন তারপর জলের ছিটে দিয়ে প্রান্তিককে ওঠাতে চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্তু সে উঠলো না| পুলিশ এসে সবার আগে প্রান্তিককে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠালো| তারপর কাজের মাসিকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রান্তিকের কাকার বডি নিয়ে চলে গেল| ওদিকে হাসপাতালে পৌঁছে পুলিশ সবার আগে প্রান্তিকের খবর নিয়ে জানতে পারলো যে সে ঠিক আছে কিন্তু অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য সে অভিঘানিত হয়ে গেছে| ডাক্তার এও বলল যে দুদিনের মধ্যে প্রান্তিকের কাকার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চলে আসবে|

পরদিন সকালে পুলিশ অফিসার অসীত মল্লিক প্রান্তিকের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে গেলেন|
অসীত মল্লিক : “Good morning প্রান্তিক| এখন কেমন আছো”|
প্রান্তিক :  “Very good morning অফিসার| এখন 
                  অনেক better feel করছি”|
অসীত. ম. :  “Good good, প্রান্তিক| এখন একটু কাজের কথায় আসি| প্রান্তিক তুমি তো জানো যে তোমার কাকা আত্মহত্যা করেছে| যদিও পোস্ট মর্টেমের রিপোর্টটা আসলে মৃত্যুর কারণটা সঠিক বলা যাবে | তুমি কি কিছু বলতে পারবে এ ব্যাপারে”|
প্রান্তিক : “না, অফিসার| কিন্তু আমার কিছু বলার
                        আছে”|
অসীত. ম. : “হ্যাঁ, হ্যাঁ বলো প্রান্তিক| আমি শুনছি…|”

প্রান্তিক তখন কাল রাতে ওর ঘরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছাড়া তার মা-বাবার অ্যাক্সিডেন্ট থেকে শুরু করে, কাকার ওকে মার-ধোর করা পর্যন্ত সবটুকু বলল|
অসীত. ম. :  “Are you sure প্রান্তিক, তোমার আর কিছুই বলার নেই?”
প্রান্তিক মাথা নামিয়ে ‘না’ বলল| অফিসার চলে গেলে সে চোখ বন্ধ করে গতকাল রাতের ঘটনাটা একবার মনে করার চেষ্টা করলো; ‘বেল্টটা কে পেছনে টেনে ধরেছিল| একটা আবছায়া দেখতে পেয়েছিল মনে হচ্ছিল| ওরই বয়সি একটি ছেলের ছায়া’| চোখ খুলে সে আবারও গভীর ভাবে চিন্তা করলো,” কে ছিল কাল রাতে ওর ঘরে| ওই ছেলের ছায়াটা তার খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে| কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছেনা| ওফ্! আর চিন্তা করতে পারছে না সে, মাথাটা ছিড়ে যাচ্ছে ব্যাথায়”| সে কপালের উপর হাত রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো| এমন সময় একটা চেনা স্বর ভেসে এলো,” কি রে কেমন আছিস্”? চোখ খুলে তাকাতেই এক ঝলক হাসি চলে এলো প্রান্তিকের| উঠে বসে বলল,” আরে অচীন তুই! কেমন করে জানলি আমি এখানে আছি| আয় আয় ভেতরে আয়”|
অচীন :  “সে আমি জেনে নিয়েছি| খবরে দেখাচ্ছিল 
  তো| কেমন আছিস্ বল? পুলিশ কী বলল?  কিছু খুঁজে পেল কি পুলিশ যে কেন তোর কাকা ওইরকম একটা স্টেপ নিল”?
প্রান্তিক : “ওরে দাঁড়া,দাঁড়া| একটু আস্তে ভাই| তুই তো  পুরো রেলগাড়ী চালিয়েছিস্| প্রথম প্রশ্নের 
 উত্তর, ভাল আছি| দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর  হলো, পুলিশ খোঁজ করছে| আর তৃতীয়  প্রশ্নের উত্তর হলো, জানি না”|
অচীন : “কবে ছুটি হবে?কেউ নিতে আসবে”?
প্রান্তিক :” আজই ছুটি হয়ে যাবে| এই হাসপাতালের 
এক ডাক্তার আমাদের family physician,
 উনিই release order টা দিয়ে দেবেন| তারপর বাড়ী| তোর হাতে ঐটা কি রে”|
অচীন : ” এই নে এটা তোর জন্য| কিছু রেফারেন্স 
 বই নিয়ে এসেছি, এগুলো যদি ভাল করে প্র্যাকটিস্ করিস্ তাহলে দেখবি তোকে প্রথম হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না”|

প্রান্তিক মুখটা নামিয়ে বলল,” জানিস্ আমি সবসময়ই তোর মতো রেজাল্ট করতে চাইতাম, চেষ্টাও করতাম কিন্তু কিছু না কিছু ভুল হয়েই যেত”| অচীন বলল, “জানি রে| তাই তো তোর হেল্পের জন্য নিয়ে এলাম”| প্রান্তিক অচীনের হাতটা ধরে বলল,” তুই কী করে এত্ত বুঝতে রে”| তারপর সঙ্গে সঙ্গেই হাতটা ছেড়ে বলল,” এ কী রে! তোর হাত এত ঠান্ডা কেন”? অচীন হালকা হেসে বলল,” ও কিছু না|আমার বডি টেম্পারেচারটা একটু লো ই থাকে| ওসব নিয়ে ভাবিস্ না| আচ্ছা আমি এখন চলি| তুই রেস্ট কর্| পরে তোর বাড়ী গিয়ে জমিয়ে আড্ডা দেব| কেমন”| প্রান্তিকও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি  জানাল|

প্রান্তিক বাড়ী ফিরেছে আজ দুদিন হলো| কাজের মাসি সকালের জলখাবারটা বেশ বানিয়েছিল| লুচি, আলুর দম আর সঙ্গে ম্যাঙ্গো শেক্| প্রান্তিক খাবারটা শেষ করে এসে সোফায় বসলো| এমন সময় কলিং বেলের আওয়াজে প্রান্তিক এসে দরজা খুলে দেখল অফিসার অসীত মল্লিক এসেছেন| এ কদিনে অফিসার অসীত মল্লিকের সাথে বেশ কয়েকবারই কথা হয়েছে প্রান্তিকের| অনেক কিছুই জেনেছে প্রান্তিক উনার কাছ থেকে| এও জেনেছে যে তার বাবা-মায়ের অ্যাক্সিডেন্টটা নেহাৎ কোনো দূর্ঘটনা ছিল না|নরেন্দ্রপুরে প্রান্তিকের মাসি থাকেন| তার বাবা-মায়ের অ্যাক্সিডেন্টের পরও বেশ কয়েকবার এসেছিলেন মাসি| অবিবাহিতা মাসি একটি স্কুলে পড়ান| প্রান্তিককে নিজের কাছে রাখতেও চেয়েছিলেন তিনি| কিন্তু প্রান্তিকের কাকা সেটা কিছুতেই হতে দিলেন না| উপরন্তু উনার এ বাড়ীতে আসা এবং প্রান্তিকের সাথে তার সর্বপ্রকারের যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছিলেন| কাকা মারা যাওয়ার পরদিন বিকেলেই মাসি এসে হাজির হলেন| মাসির গায়ে প্রান্তিক মায়ের গন্ধ পায় তাই মাসিকে সে মিম্মি বলে ডাকে| এতদিন পর প্রান্তিক মাসিকে পেয়ে তার মনের ভেতরে জমানো সব দুঃখ উপুর করে দিয়ে মাসির বুকে আছড়ে পড়ে কেঁদেছিল| অনেক্ষণ কাঁদার পর ধীরে ধীরে বলেছিল,” মিম্মি, তুমি আর আমায় ছেড়ে যেওনা| আমার একা থাকতে ভয় লাগে”| প্রান্তিকের মাসি মলিনা দেবী তাকে জড়িয়ে বললেন ,”না বাবা, আর কোথাও যাব না তোকে ছেড়ে| আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি রে| আগেও চেষ্টা করেছিলাম তোর সাথে থাকতে কিন্তু ওই লোকটা কিছুতেই থাকতে দিল না|

অফিসার অসীত মল্লিক ঘরে ঢুকতেই মলিনা দেবী নমস্কার জানালেন| অসীত মল্লিকও প্রতিনমস্কার জানালেন| মলিনা দেবী অসীত বাবুকে বসতে বলে কাজের মাসিকে চা দিতে বললেন তারপর নিজেও প্রান্তিকের পাশে গিয়ে বসলেন| কাজের মাসি চা নিয়ে আসলে চায়ের কাপ অসীত বাবুর দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন,” আর কিছু পেলেন কেসটা সম্পর্কে অসীত বাবু”? অসীত মল্লিক বললেন,”হমম্ পেয়েছি| তবে একটা ভাল খবর আছে আর একটা খারাপ খবর| কোনটা আগে শুনবেন”? মলিনা দেবী বললেন,”আগে খারাপ দিয়েই শুরু করুন| বড়োরা বলেন আগে তেতো তারপর মিঠে”| মুচকি হেসে অসীত বাবু বললেন,”বেশ| খারাপ খবরটা প্রান্তিক বাবুর জন্য”| প্রান্তিক নিজের নাম শুনে নড়েচড়ে বসলো| অফিসার মল্লিকের দিকে বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে বলল,” আমার জন্য খারাপ খবর”? অফিসার মল্লিক বললেন,” সেন্ট্-মরিস্ হাইস্কুলে ক্লাস ফাইভে অচীন ফার্নান্ডেজ নামে একটি ছেলে পড়তো | তুমি চিনতে তাকে”? প্রান্তিকের তৎক্ষণাৎ উত্তর,” হ্যাঁ, চিনি তো| সে তো আমারই ক্লাসে পড়ে| আমার বন্ধু| আমি যখন হাসপাতালে ভর্ত্তি ছিলাম তখন আমার সাথে দেখা করতেও এসেছিল| কী হয়েছে অচীনের? সে ঠিক আছে তো”? অফিসার মল্লিক বললেন,” অচীনের তিনদিন আগে অ্যাক্সিডেন্টে মৃত্যু হয়েছে প্রান্তিক”| প্রতিবাদ করে উঠলো প্রান্তিক,” না, না এ হতে পারে না| তুমি ভুল বলছো| ওটা অন্য কোনো অচীন হবে| অচীন তো আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল| আমাকে রেফারেন্সের জন্য কিছু বইও দিয়ে গেছে| দাঁড়াও আমি দেখাচ্ছি বইগুলো”| বলে ছুটে গেল নিজের ঘরে| কিন্তু কোথাও বইগুলো খুঁজে পেল না| টেবিলের উপরই তো রেখেছিল সে| তন্নতন্ন করে খুঁজেও সে পেল না বইগুলো| তারপর কাজের মাসিকে হাঁক দিল,”মাসি টেবিলের উপর থেকে বইগুলো কোথায় রেখেছো”? মাসি রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে বলল,”আমি আবার কোথায় রাখবুনি| আমি কি তোমার ঘরে যাইকুনি নাকি”|  প্রান্তিক ভাবলো,’ঠিকই তো মাসি তো ওর ঘরে আসেই না| সে নিজেই নিজের ঘর পরিস্কার করে রাখে’| সে ঘর থেকে বেড়িয়ে এলো| এদিক-ওদিক পাগলের মতো খুঁজতে লাগলো বইগুলো| অফিসার মল্লিক উঠে গিয়ে প্রান্তিকের কাঁধে হাত রেখে বললেন,”অচীন মারা গেছে প্রান্তিক| আর সেদিন তোমার সাথে শুধু আমি দেখা করতে গিয়েছিলাম, অন্য কেউই যায় নি| তোমার জীবন সংঙ্কটে ছিল, তাই আমি একজন পাহাড়াদার বসিয়েছিলাম তোমার কেবিনের বাইরে| সেদিন আমি ছাড়া কেউ যায় নি তোমার সাথে দেখা করতে”| মলিনা দেবী এগিয়ে এসে প্রান্তিকের হাতটা ধরে এক গ্লাস জল দিয়ে বললেন,”খেয়ে নে বাবা”| জলটা খাবার পর তাকে নিয়ে এসে সোফায় বসলেন| তারপর বললেন,”অসীত বাবু ঠিকই বলছেন”,বলে সোফার কুশনের নীচ থেকে দুদিন আগের খবরের কাগজটা বের করে বললেন,”এই দেখ্ সোনা, কাগজেও ছেপেছে | আমিই লুকিয়ে রেখেছিলাম কাগজটা| এতকিছু হয়ে গেছে তোর সাথে আবার এইরকম একটা খবর পড়লে কীরকম প্রতিক্রিয়া হতো কে জানে| তাছাড়া আমি তোর রিপোর্টটা দেখেছিলাম, তুই অভিঘানিত হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছিলি, আবারও যদি সেরকম কিছু হয়, সেকারনেই কাগজটা লুকিয়ে রেখেছিলাম”| এরপর অফিসার অসীত মল্লিক বলতে শুরু করলেন,” অচীনের বাবা লুইস্ ফার্নান্ডেজ একজন রিয়্যাল স্টেট এজেন্ট| তোমাদের বাড়ীটার উপর অনেকদিন থেকেই তার নজর ছিল| তোমার বাবাকে কিছু টাকার প্রলোভন দিয়ে বাড়ীটা কিনতে চেয়েছিল সে| বড়ো অ্যাপার্টমেন্ট বানাবে আর সেটায় দু খানা ফ্ল্যাটের অফারও করেছিল| কিন্তু তোমার বাবা পৈত্রিক ভিটে ছাড়তে চায় নি| ফলতঃ সে তোমার কাকাকে হাত করে তোমার বাবা-মায়ের অ্যাক্সিডেন্ট করায়| তোমাকেও মেরে ফেলার ফন্দি এঁটেছিল| তোমার কাকা যে এক সপ্তাহের জন্য বাইরে গিয়েছিল সেসময় লুইসের সাথে মিলে কিছু একটা বড়ো প্ল্যান করতেই গেছিল| হয়তো অচীন তোমার কাকা আর ওর বাবার মাঝে হওয়া কথাগুলো শুনে নিয়েছিল এবং তোমাকে সতর্ক করতেই তাড়াহুড়োতে রাতে বেড়িয়ে পড়েছিল বাড়ী থেকে| সে বাড়ী থেকে বেড়োতেই কিছু পরে একটা লড়ি ফুলস্পীডে এসে তাকে ধাক্কা দেয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য তৎক্ষনাৎ মৃত্যু হয় তার| অচীনের পোস্টমর্টেমের রিপোর্টেও মৃত্যুর কারন আর সময়ের কথা উল্লেখ আছে| অচীনের মৃত্যুর পেছনে কার হাত রয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে”| প্রান্তিকের মুখে কোনো কথা ছিল না| শুধু চোখ থেকে অঝোরে অশ্রুবর্ষণ হচ্ছিল| এখন সে ওই রাতের যুক্তিহীন কার্যকলাপের পেছনের যুক্তি গুলোকে বুঝতে পারলো| এখন সে ঐ রাতের ওর বয়সি ছেলেটির অবয়বকে চিনতে পারলো| অচীন তার প্রকৃত বন্ধু হয়ে তার চরম বিপদে তাকে রক্ষা করতে এসেছিল| প্রান্তিক মলিনা দেবীর দিকে তাকিয়ে বলল,” যাকেই আমি ভালবাসি তারাই আমায় ছেড়ে কেন চলে যায় মিম্মি”| মলিনী দেবী কী বলবেন ভেবে পেলেন না| শুধু প্রান্তিককে জড়িয়ে ধরলেন| তারও চোখে জল| গলাটা একটু ঝেড়ে অফিসার মল্লিক বললেন,”আর ভাল খবরটা হলো,তোমার বাবা একটি ব্যাঙ্কে তোমার নামে কিছু টাকা জমা রেখেছিলেন| যতটাকা জমা আছে তার থেকে ভালই ইন্টারেস্ট পাবে তুমি| তাতে তোমাদের খরচ-খরচা উঠে যাবে| তোমার বাবা মনে হয় অনেক আগেই কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন তাই গোপনে উইল করে হোটেলটাকে মলিনা দেবীর নামে করে দিয়েছিলেন| এটার খবর সম্ভবতঃ তোমার কাকা জানতেন না| আজই উকিলবাবু এসে তোমাদের কাগজপত্র সব দিয়ে যাবেন”| মলিনা দেবী বা প্রান্তিক কেউই কোনো উত্তর দেবার অবস্থায় ছিলেন না তখন|

এরপর এক বছর কেটে গেছে এই ঘটনার| প্রান্তিকের বাবা এখন অনেকটাই সুস্থ| আজ ষষ্ঠ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে| সবাইকে চমৎকৃত করে প্রান্তিক এবার প্রথম হয়েছে| স্কুলের প্রার্থনা কক্ষে অচীনের একটি ফোটো রাখা হয়েছে|  প্রান্তিক রেজাল্টটা পেয়ে সোজা সেখানে গিয়ে অচীনের ফোটোটার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,” দেখ্, বন্ধু আমি পেরেছি| তুই বলেছিলিস্ আমি পারবো| আমি তোর কথা রাখতে পেরেছি| কিন্তু আজ তুই ই আমার পাশে নেই”| বলে প্রান্তিকের চোখ দিয়ে টপ্ টপ্ করে জল পড়তে লাগলো| হঠাৎ পিঠে একটা ঠান্ডা হাতের স্পর্শ অনুভব করলো সে| কানের সামনে কে যেন ফিসফিসিয়ে বলল,” আমি সবসময়ই তোর পাশে থাকবো, বন্ধু| তুই আর আমি হলাম সুহৃদ| সারাজীবন ভালয়-মন্দয় পাশে থাকার সুহৃদ”| হৎচকিয়ে প্রান্তিক এদিক-ওদিক, আশে-পাশে দেখলো কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না| কিন্তু কন্ঠস্বরটা তার যে খুব চেনা| সেই কন্ঠস্বরটা ছিল অচীনের| তার বন্ধু, তার সুহৃদ অচীনের|

হাওয়া পাখা

কল্যাণ ভট্টাচার্য্য

আমাদের গ্রামের জমিজমার কাজের একটা রেজিসট্রি অফিস আছে৷ আমরা তখন ছোট৷ ছোট হওয়ার কারনে যত্রতত্র প্রবেশাধিকার ছিল৷ রেজিসট্রি অফিস ছিল সিমেন্টের মেঝে, দরমার বেড়া, আর টিনের ছাদ৷ বস্তুতঃ গ্রামের প্রতিটা বাড়িই প্রায় তাই ছিল ৷ ওই রেজিসট্রি অফিসে একটা হাতে টানা পাখা ছিল, সেই সময় আমার দেখা আশ্চর্যতম জিনিস৷ বড্ড অল্পেই খুশী হওয়া আর অবাক হওয়ার রোগটা সবারই ছিল৷ বিরাট ঝালর দেওয়া অর্ধগোলাকৃতি বাঁশের বাতার তৈরী,সিলিং থেকে ঝুলছে, লাল নীল সুন্দর নকশা করা! বাইরে বসে একটি মাঝবয়েসী লোক একটা দড়ি বেশ তালে তালে টেনে যাচ্ছে৷ দড়ির টানা- ছাড়ায় পাখা এপাশ ওপাশ দুলে হাওয়া ছড়ায়৷ ঘরের ভেতর চার জন কর্মচারী৷ বাইরে ছাঁওয়ায় বসে লোকটা হাওয়া দিতে দিতেও ঘেমে যাচ্ছে৷ আমার খুব শখ হলো ওই দড়ি টানবো! সে কী মুখের কথা? লোকটা দরাজ গলায় হেসেই খুন! আমি চমৎকৃত হলেও প্রশ্ন করি, তুমি তো হাওয়া দিচ্ছ সারাক্ষন, তোমাকে কে বাতাস করে? সে আবারও হেসে খুন৷ পাশে বুড়োদাদের বাড়ির পেছনে একটা কুলগাছ ছিল, সেখানথেকে পাড়া কুল ছিল হাফপ্যান্টের পকেটে৷ ওনাকে কয়েকটা কুল দিলাম৷ কেন জানিনা এর পর থেকে উনি ওই দড়িটা টানতে দিতেন৷ হাওয়ার হেরফের হতো অবশ্যই ভেতরে, তবে ওনারা কিছু বলতেন না৷ এই বিশাল টানাপাখা, শুনেছি ইংরেজ সাহেবরাও ব্যবহার করতো৷ কিছুদুরের জলপাইগুড়ি শহরে তিস্তানদীর ধারে বিরাট বিরাট বাড়ি বানিয়েছিল ইংরেজরা৷

এই টানা পাখা একটা আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল বাড়িতে লাগানোর৷ তখন তো ইলেকট্রিক ছিলনা, হাতপাখা আর লন্ঠনের যুগ৷ রাতে লন্ঠনের আলোয় ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে পড়া৷ সে টানাপাখা লাগানোর প্রস্তাবে বড়রা সবাই হেসেছিল৷ তো আর হয়নি৷ এখন কুলার, এসির যুগেও ওই টানাপাখাটা স্বপ্পের মধ্যে হাওয়া দেয়৷

ব্যাঙ
কাঞ্চন কুমার গাঙ্গুলী

কিছু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে৷ সন্ধ্যা নেমেছে৷ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম৷ হঠাৎ চোখে পড়ল ডান দিকের ছোট্ট জঙ্গলের ঝোপ থেকে একটা কোলা ব্যাঙ বেরিয়ে এসে রাস্তা পার হতে যাচ্ছে৷ ইতিমধ্যে লাইট পোষ্টের এল ই ডি আলো গুলো জ্বলে উঠেছে৷ সেই তীব্র আলোয় ব্যাঙটা থতমত খেয়ে গেল৷ বিভ্রান্ত ব্যাঙটা রাস্তা জুড়ে এদিক ওদিক থপ থপ করে ঘুরতে লাগল৷ সেই মুহূর্তে একটা বাইক হেডলাইট জ্বালিয়ে তীব্র গতিতে আমাদের দিকে ছুটে আসছিল৷ হাত তুলে বাইকটাকে কোন মতে থামালাম৷ বাইক আরোহী খুব ক্ষুণ্ন হলেন৷ ব্যাঙটা বাইকের নিচে প্রায় চাপা পড়ছিল৷ মুখে আওয়াজ করে, মাটিতে পা ঠুকে ওটাকে কোন রকমে বাইকের নিচ থেকে বার করে রাস্তা পার করে দিলাম৷ ইতিমধ্যে সামনে পেছনে মানুষ আর গাড়ির ছোট খাটো ভিড় জমে গেছে৷ বিভিন্ন মন্তব্য উড়ে আসল৷ “পাগল নাকি! সামান্য ব্যাঙের জন্য এত দরদ৷” “মানুষ মারা যাচ্ছে সে ব্যাপারে হুঁশ নেই৷” কথা বলা অনুচিৎ বুঝে মাথা নিচু করে ওখান থেকে আমার গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম৷

কিছু পরে ঐ পথ দিয়ে ফিরছি৷ কানে আসল “গ্যাঙর গ্যাঙ, গ্যাঙর গ্যাঙ” আওয়াজ৷ উৎস মুখে তাকিয়ে দেখি রাস্তার পাশে নোংরা নর্দমায় সেই কোলা ব্যাঙটা আর একটা ব্যাঙকে ওদের ভাষায় বলছে “জানিস কিছু আগে একটা মানুষ আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে৷ ও না থাকলে আমি মারাই যেতাম৷ গ্যাঙর গ্যাঙ, গ্যাঙর গ্যাঙ৷” সব শুনে অপর ব্যাঙটা বলল “কিন্তু তুইযে ডাবের খোলায় জমা জলে ডেঙ্গির লার্ভা গুলো খেয়ে মানুষের এত উপকার করলি, তা তোকে কি মানুষেরা ধন্যবাদ দিয়েছে? গ্যাঙর গ্যাঙ, গ্যাঙর গ্যাঙ”৷ এর পর মাথা উঁচু করে ওখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে চললাম ৷

খোঁজ অথবা একটি আত্মকথা

 অনুপম কাঞ্জিলাল

   আমি খুঁজে চলেছি,পাওয়া যাবে না জেনেও খুঁজে চলেছি।জানি এই খোঁজার কোন মানে নেই,পরিবর্তনকে মানতে না পারলে বাঁচা যায় না জানা সত্ত্বেও আমি অবিরাম খুঁজছি,খুঁজেই চলেছি।আমি খুঁজি আমার ছেলেবেলার সেই স্কুলবাড়িটাকে যা আমার কাছে আমার শৈশবের তীর্থবাড়ি।সেটা এখন আর কোথাও নেই,আমি হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাই আমার ছেলেবেলার  সেই তীর্থবাড়ির  সামনে।এখন সেখানে বিশাল বড় এক তিনতলা বিল্ডিং,সেদিনের স্কুলের অগ্রগতির সূচক বলে জানানো হয় বিষয়টাকে।পরিচিত জনরা বলেন কত বড় হয়েছে তোদের স্কুলটা।আমি তবু খুঁজে চলি আমার সেই ছোটবেলার ছোট ছোট ক্লাস ঘরকে,যেখানে আমাদের কত স্মৃতী কত খুনসুটি রাগ-অভিমান জমা ছিল।কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সব।একটা বিশাল কংক্রিটের বিল্ডিং গিলে নিয়েছে আমার মত কত কত মানুষের আস্ত এক-একটা শৈশব।আমি আমার ফেলে আসা শৈশবকে কোথাও খুঁজে পাই না,আমার শৈশবের স্কুল বাড়ি নেই,আমার শৈশবের খেলার মাঠজুরে এখন শুধুই হাইরাইজ কংক্রিটের নির্বোধ আস্ফালন।আমি তাই হন্যে হয়ে খুঁজেও কোথাও আমার শৈশবকে খুঁজে পাই না।আমি ছুঁতে চাই আমার শৈশবের স্মৃতীর কোন একটা অবসম্বনকে,কিন্তু তারা কোথাও নেই।আমি বুঝতে পারি আমি ক্রমশ এক অতীত শূণ্য মানুষ হয়ে পড়ছি।কে যেন কবে বলেছিল,মনে রাখিস অতীতের নানা ঘটনার যোগ ফলেই সৃষ্টি হয় বর্তমান।তা যদি হয় তবে যে মানুষের অতীত নেই তার কি কোন বর্তমান থাকে?এই যে আমি ক্রমশ বুঝতে পারছি আমার শৈশব যে কোন দিন ছিল তার কোন অবলম্বন আমি খুঁজে পাচ্ছি না।এমনকী আমার কিশোরবেলা,আমার তারুণ্যের কোন সাক্ষরও কি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে?
   আমার কিশোর বেলার সেই রাস্তা আর নেই,সেই লালবাস,দোতলা বাস আর কোথাও নেই।নেই আমার তরুণ বেলার সেই সিনেমাহল,নেই সেই হাতিবাগানের রমরমিয়ে চলা থিয়েটার পালা।আমার পাশের স্কুলে পড়া সেই দুটো বিনুনি বাঁধা ডাগর চোখের লাজুক কিশোরীকে আমি এখন আর কোথাও খুঁজে পাবো না।সেকি কি প্রতিদিন আমার জন্যই বাসস্টপে বন্ধুদের সঙ্গে না গিয়ে অপেক্ষা করত একা?আমার জানা হয় নি,এমনকী জানা হয় নি সেই কিশোরীর নামটাও।অনেকটা সময় পেরিয়ে এসে,আমি খুঁজছি তাদের সবাইকে।আমি আমার শৈশব কৈশোর আর তারুণ্যের কোন উদাহরণকে ছুঁতে চাই।কোথাও পাচ্ছি না তেমন কিছু।
   আমি খুঁজি ছেলেবেলার মাস্টারমশাইকে যিনি বলেছিলেন জীবন বড় হয় জ্ঞানের স্পর্শে,আমার জানতে বড় সাধ হয় কোন জ্ঞানের স্পর্শ জীবনকে বড় করে বই পড়া জ্ঞান,সে জ্ঞন তো অনেকেই অর্জন করছেন কৈ বড় জীবনের লক্ষন তো চারপাশে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না-তাহলে?উত্তর নেই উত্তর দেওয়ার মত কেউ আর অবশিষ্ট নেই।আমি তাই খুঁজি,খুঁজেই চনি।আমি খুঁজি আমাদের সেই যৌথপরিবারকে,যেখানে সন্ধ্যের পর দিদিমার কাছে গল্প শোনা যেত,মা বা বাবার বকুনি শোনা থেকে বাঁচতে যেখানে রাঙা জ্যেঠির শাডির আঁচলের নীচে নিশ্চিত আশ্রয় মিলত,যেখানে পরীক্ষার ফল খারাপ হলে ন দিদি এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলত,মন খারাপ করিস না বাবু!এবার আমি তোকে বাড়তি নজর দিয়ে পড়াবো ,দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।আমাদের সেই সংসার সমুদ্রে  ভেসে বোড়ানো দাদু-দিদিমা-রাঙা জ্যেঠি ন দিদির মত নৌকোগুলো যে খোথায় হারিয়ে গেল,আমি খুঁজি তাদের।খুঁজেই চলি।
   আমি খুঁজি আমার স্কুলবাড়ির সেই দারোয়ান শাহজিকে,যে স্কুলের গেট পাহাড়া দিতে দিতে আমাদের বলত,বড হও বাবু,তারপর যেখানে খুশি যেতে পারবে,কোন গেট তোমাদের আর আটকাবে না।দেখা পেলে শাহজিকে বলবো,বড় হয়েও আমরা কোন গেট পেরুতে পারি নি বরং আমরা নিজেরা নিজেদের চারদিকে গেট দিচ্ছি,আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে একা থাকতেই বালবাসি,আমরা ছোটবেলায় মুক্ত হতে চাইতাম আর একন বদ্ধ হতে চাই।আমি চারপাশের এই বদ্ধতা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছি,খুঁজেই চলেছি।
  আমার এই খোজ আমাকে কষ্ট দেয় মন ভার করে তবু খুজি কারণ এই খোজের তাগিদ হারিয়ে গেলে আমি আর মানুষ বলে নিজেকে চিনতে পারবো না,আমি অতীত শূণ্য হয়ে নিরালম্ব বায়ুভূত কোন অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবো না,আমি আমার ্অতীতকে ছুঁতে চা…ই..চা..ই…. কেউ কি শুনতে পাচ্ছো আমার কথা,আমার অতীত হারিয়েছে কেউ কি বলতে পারো কোথায় খুঁজে পাবো তাকে।
ছোট গল্প
 
বিছানা
সমাজ বসু
 
      — কিগো, ছেলের হাতে বানানো তোষক আর বালিশে শুয়ে যে তোমার ঘুম ভাঙতেই চায় না। সকালে হাতের কাজ সারতে সারতেই কথাগুলো বললেন, সুজয়ের মা,আরতি দেবী।
     — সেই মাস চারেক আগে ছেলেটা বাড়ির বিছানাগুলোর দৈন্যদশা দেখে বানিয়ে দিয়ে গেল, আজো কেমন নতুন লাগে গিন্নি। বিজয় বণিক আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে বললেন।
     — কতবার বললাম, কাজের জায়গায় সারাবছর এইসব করতে হয়। বাড়িতেও আবার কেন করবি?কিনে নিয়ে আয়। কে কার কথা শোনে?কাজে যাবার আগের দিনও অনেক রাত অবধি তোষকটা সেলাই করে তবেই শুয়েছে। আরতি দেবীর গলায় ছেলের জন্য কষ্ট ঝরে পড়ে।
    — ছেলেটার চিন্তায় দিন কয়েক হলো,রাতে ঘুমাতে পারছি না,তাই ভোরের দিকে চোখটা একটু লেগে যায়।
    — সুজু ফোনে জানাল, গতকাল ভোরে নাকি মীরাট থেকে রওনা দিয়েছে। জগদীশপুরের ও একাই। খুব ভয় হচ্ছে। পারবে তো এতটা পথ হেঁটে আসতে?
    — চিন্তা কোরো না, সঙ্গে আরো অনেকেই আছে। ও আমাকে বলেছে। বিজয় বাবু স্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেন।
    — সরকার থেকে ওদের ঘরে ফেরার কোন ব্যবস্থা করেনি গো? আরতি দেবীর কৌতুহলী জিজ্ঞাসা।
     — জানি না, কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে এটা বেশ বুঝতে পারছি,ওরা এখন সবার চক্ষুশূল। অথচ দেশ নির্মাণের কাজে প্রধান কারিগর। আজ ওরাই ব্রাত্য। বাড়ি ফিরতে ফিরতে মনে হয় কাল ভোর হয়ে যাবে।
      সুজয় বণিকের মত জগদীশপুর আর তার আশপাশের গ্রাম থেকে জানা বিশেক ছেলে লেপ, তোষক আর বালিশ তৈরির কাজ নিয়ে আজ প্রায় চার বছর হলো মীরাটের অস্থায়ী বাসিন্দা। বছরে দশ মাস কাজের চুক্তিতে ওরা নিয়োজিত। বাকি দু মাসের,এক মাস শুধু সবেতন ছুটি ছাড়া আর কোন বাড়তি সুযোগ সুবিধা নেই।
      যাইহোক, একরকম  ভাল মন্দয় কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। কি যে এক মারণ রোগ সারা দেশকে স্তব্ধ করে দিল। সুজয়দের কাজকর্ম সব শিকেয় উঠল। ওদের ঘরে ফেরার কথা জানিয়ে দিয়েছে, মালিক জনার্দন পান্ডে। তবু তাঁর দয়ার শরীর। দিন সাতেক সবার ভরন পোষণ জুগিয়েছেন। কিন্তু তিনিও নিরুপায়। বসিয়ে খাওয়ানোর সামর্থ তাঁর নেই। অগত্যা সুজয়দের বাড়ির পথ ধরতে হয়েছে।
        দিনের আলো ক্রমশ নিভে আসছে। পাখিদের ঘরে ফেরার উৎসবে আজ যেন সুজয়রাও সামিল হয়েছে। ক্লান্ত নিদ্রাহীন চোখেও স্বপ্নের জোনাকি জ্বলছে নিভছে। আর সেই আধো আলো ছায়ায় পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। এত অবসাদ এত বিষন্নতা কোন দিন ওদের ঘিরে ধরেনি। রাত জেগে কাজের শেষেও কাহিল হয়নি। কিন্তু আজ ক্লান্তি যেন ওদের পায়ে বেড়ি ফেলে রেখেছে। রেললাইন থেকে আকাশে চোখ রাখে। একেবারে ঝরঝরে আকাশ। কাস্তে চাঁদের কাছে তারাগুলো মেঘবালিশে মাথা রেখে গল্প শুনছে। এমন একটা মেঘবালিশ আর জোছনার নীল চাদরের বড় প্রয়োজন। একরাশ ঘুম যে নেমে আসছে ওদের চোখে। মনে হলো,কে যেন বিছানা পেতে রেখেছে। অনেক লম্বা বিছানা। সেই ওদের জগদীশপুর অবধি। পাশাপাশি শুয়ে পড়ল। মনে হলো,তোষক আর বালিশের তুলো যেন লোহার মত শক্ত। এত ভারি তুলোয় তো ওরা কাজ করে না। কার হাতে তৈরি করে জানে? এইসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেই পারেনি। ঝমঝম শব্দ আর জোরালো আলোয় ছিন্নভিন্ন সে ঘুম,পরদিন নিজের নিজের বাড়িতে ওদের হাতে বানানো বিছানায় শুয়েও ভাঙেনি।

Publish your Book Review and Interview @INR 600

Mail us : insightfulsite@gmail.com

Copyright © KafeHouse2020. All Right Reserved

  •  
    5
    Shares
  • 5
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •