• 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

 

কিংবদন্তীর নায়ক

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

14 October 1930 – 4 September 2012

 

আমরা যত মাঠের কবি, কবি তুমি রাজসভার
ধন্য ধন্য বিশ্বকবি বিশ্বেরো মাঝার ।।
(আমরা) ছোটলোকের ছোট কবি
বড়লোকের তুমি রবি
দশদিকে যদি করলে আলো
আমরা কেন অন্ধকার
হায় গো, আমরা কেন অন্ধকার ।।

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ (মায়ামৃদঙ্গ)

Part One

Translating, Tottering Across the Realms of Super-Realism and Undulated Nature in Selected Works of Syed Mustafa Siraj

Sreetanwi Chakraborty

Decoding history is always an extremely strenuous task. At the same time, when it comes to decode history through an experiential narrative of dates, we often find ourselves in the strange quagmire of forgetfulness. 4th September perhaps remains significant in various aspects. From the perspective of the enriched Bengali literature that we all have, it reminds us of the death anniversary of a writer who spun folks, tales, realism, song of the soil, the rustic rurality of the Bengal landscape and human relationships through their transcendental peculiarities, submerged into the collage of magic and realism. The work of a translator is bound to be fraught with multiple interpretations when we consider how in the works of Siraj, the work does not just get defined as a prosaic interjection of underlining the socio-political, religious, economic aspects of a certain land topography, but something that includes the narratology of speech, linear and often non-linear juxtaposition that he does in Aleek Manush or Mythical Man.

Siraj’s novels like Trinabhumi and Kingbadantir Nayak, and some of the major short stories like Ranirghater Brittanto, Maati, Manusher Janmo and Hizal Biler Rakhalera show a tendency to deal with the more modernist, yet super-realistic domains in human and land narratives, where by maati or land, we do not just find any piece of soil, but rather, a piece of palpable entity that heightens the interconnectivity between the real, the unreal and the super-real. Translating and talking about the Rarh Bengal, understanding myths, reality and dialects becomes more poignant in novels like Aleek Manush or Mythical Man, which presents the story of a Farazi Muslim religious preacher and his son who did not follow the father’s footsteps. The novel shows how a section of the Indian Muslim community has come alive with its search for identity and internal tensions. When we find the tottering and the translation, it is also from a departure of a section of the Indian Muslim community through the process of integration, slow but steady, towards mainstream modern India.

In translating and defining nature, the supernatural and the world that exists beyond our incapacitated vision is infested with the white Jinn, the black Jinn, the fairies, the folktales, the local stories, anecdotes, rumours, orality, community story sessions, religious puns and several other components. The translator’s ultimate challenge and the reader’s ultimate fantasy lies in rewriting and re-inscribing the vastness of one regional language, style, diction, decorum into the larger domains of land and geographical narrative and thus becomes more conspicuous as novels like Aleek Manush or Mythical Man move on. It celebrates secular ideas in the land, pitted against orthodoxy, and simultaneously, the ruddy, unfazed, unabashed pulsating tunes of Bengal get translated into what we call a larger worldview, when Shafi’s father, the buzoorg pir says:

            “Ye brothers of Islam, Allah has made me a traveler for life. If you ask me, where my native place is, I will have to tell you that I have none. The whole world is my native place”, in Bengali which is written as “আমার দেশ সারা দুনিয়া”|

(To be continued)

kafe house issue 12
CONTENT | ISSUE 12 - 6th sept, 2020

KafeHouse

ধারাবাহিক
মিছিলে নাটকে কবিতায় গানে – আরণ্যক বসু
জীবন অবশেষে সুন্দর – আবুল কালাম আজাদ

কবিতা

শ্রাবণের ধারায় ধুয়ে যাক অলীক কল্পনা – পার্থ সেন গুপ্ত
গোধূলি বেলার সাজকথা – তনিমা সাহা
নৌকো – জয়ীতা চ্যাটার্জী
পথিক – সাগ্নিক সান্যাল
অনুরাগ – বিষ্ণুপদ ব্যানার্জী
স্বদেশ – চিত্তরঞ্জন গিরি
কালবেলা – জয়ীতা চ্যাটার্জী

খাই খাই – অতীশ

অনুবাদ

মৃত্যু
কবি:- গুলজা়র
অনুবাদক:- সায়ন তরফদার

অন্যান্য
টিকুলি উপাখ্যান – পৌলোমী ভট্টাচার্য
Same Humans Different Thoughts – Pallavi Das

আরণ্যক বসু

ধারাবাহিক (পর্ব ৩ )

জীবন অবশেষে সুন্দর
আবুল কালাম আজাদ

সাজিদ বৃদ্ধের মুখোমুখি আরেকটা বেঞ্চিতে বসল। চায়ের দোকানদার সাজিদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। হাসার কোনো কারণ ছিল না। তার দোকানের নির্জনতা কিছুটা ঘুচেছে এ কারণেই হয়তো তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। সাজিদ বলল: লাল চা হবে?

: জে হইবে।

: লেবু আছে?

: জে, লেবু আছে, আদা আছে, পুদিনা পাতা আছে।

: আদা লাগবে না, পুদিনা পাতাও না। লেবুর টুকরা ভাসিয়ে এক কাপ লাল চা দিন।

: পুদিনা পাতার চা শরীরের ব্যথা উপশম করে। মাথা, ও পেট ব্যথাও কমায়।

সাজিদ একটু বিস্মিত চোখে তাকাল চা দোকানির দিকে। মুহূর্তকাল পরেই তার বিস্ময় কেটে গেল। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এতটুকু জানা কোনো কঠিন কিছু না। সাজিদ বলল: আমার শরীরে এখন কোনো ব্যথা নেই। পুদিনা পাতা ছাড়া চা দিন।

: জে আচ্ছা।

লোকটা ‘জি’-কে ‘জে’ বলছে। কোন অঞ্চলের মানুষ ‘জি’-কে ‘জে’ বলে সাজিদের তা জানার ইচ্ছা। কিন্তু সে লোকটাকে কিছু জিজ্ঞেস করল না। কিছু কিছু ইচ্ছা দমিয়ে রাখতে হয়।

মূলতঃ সেটা চায়ের দোকান না। চায়ের দোকান কাম মুদি দোকান। লোকটার চেহারা দেখে মনে হয়, কিছুটা লেখাপড়া জানে। আর ঢাকা শহরে এরকম একটা মুদি দোকান মালিকের আয় মন্দ না। বলা যায় লাভজনক ব্যবসা। সবদিক ভেবেই সাজিদ লোকটাকে ‘তুমি’ সম্বোধন না করে ‘আপনি’ সম্বোধন করল। অবশ্য অর্থনৈতিক দিক, বা শিক্ষা-দীক্ষা বিবেচনা করে ‘তুমি’ বা ‘আপনি’ নির্ধারণ করার অভ্যাস সাজিদের নেই। কোনো রিকশাওয়ালাকে নিজের চেয়ে বয়সে বড় মনে হলেই সে ‘আপনি’ সম্বোধন করে। 

চা খেতে খেতে সাজিদ তাকাল সামনের বেঞ্চিতে বসা বৃদ্ধের দিকে। বৃদ্ধের পাশে চায়ের কাপ নামানো। মানে কিছুক্ষণ আগে তিনি চা খেয়েছেন। বৃদ্ধ একটা পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করছিলেন। কখনো পত্রিকাটা চোখের খুব কাছে নিচ্ছিলেন, কখনো একটু দূরে নিয়ে চশমার ওপর দিয়ে তাকাচ্ছিলেন। একে তো দিনের আলো মরে এসেছে, তার ওপর চোখে বয়সের প্রভাব। কোনোভাবেই যেন সুবিধা পাচ্ছিলেন না।

বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে সাজিদ দাদার কষ্টটা আরও বেশি করে উপলব্ধি করল। এই বৃদ্ধটাও তো তার দাদা হতে পারত। একদিন সে নিজেও এরকম বৃদ্ধ হবে। তার প্রখর দৃষ্টি তেজ হারাবে। ইচ্ছে থাকলেও সে অনেক কিছু পড়তে পারবে না।

সাজিদ বৃদ্ধকে বলল: দাদা, কী পড়তে চাচ্ছেন? সরাসরি ‘দাদা’ সম্বোধন করল। ‘দাদা’ ডাকটা সাজিদের এত প্রিয় যে, দাদার বয়সী যে কাউকে অনায়াসে দাদা ডাকতে পারে।

বৃদ্ধ বললেন: একটা খবর পড়ার চেষ্টা করছি।

: কী খবর?

: এই যে এই খবরটা। বৃদ্ধ সাজিদের দিকে পত্রিকা বাড়িয়ে ধরলেন।

সাজিদ দেখলো হেড লাইন-প্রায় ত্রিশজন যুবক নিখোঁজ। সাজিদ বলল: খবরটা কি পড়বো দাদা?

: পড়ো।

সাজিদ পড়লো-দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ত্রিশজন যুবক নিখোঁজ রয়েছে। বাবা-মা তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না। কেউ কেউ থানায় জানিয়েছে। যুবকদের বেশির ভাগ মাদ্রাসায় পড়ে। কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ুয়া কিশোর-তরুণও আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দেশের ভেতর জঙ্গী দলে যোগ দিয়েছে। কেউ কেউ ইরাক, সিরিয়া চলে গেছে আইএসআইএস এ যোগ দেবার উদ্দেশ্যে।

এইটুকু পড়ে সাজিদ বলল: এই খবরটার প্রতি আপনার বিশেষ ইন্টারেস্ট কেন?

বৃদ্ধের হাড় বের হওয়া বুকের হাফর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে গেল। তিনি চশমা খুলে চোখ মুছতে লাগলেন। চায়ের দোকানদার করুন চোখে তাকিয়ে রইলো বৃদ্ধের মুখে। এখানে কান্নাকাটি করার মতো কী ঘটেছে সাজিদ তা বুঝতে পারল না। দেশে ধর্মান্ধতা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা ঠিক।

এরই মাঝে ষোল/সতেরো বছর বয়সের এক তরুণ এসে বসলো বৃদ্ধের পাশে। বসেই সে এক কাপ দুধ চা অর্ডার করল। তারপর সে গভীর আগ্রহে বৃদ্ধের কান্না দেখতে লাগলো।

চায়ের কাপ হাতে নেবার পর তরুণটি সাজিদকে জিজ্ঞেস করলো: তার কী হয়েছে?

সাজিদ বলল: আমি ঠিক জানি না।

তখন তরুণটি সহানুভূতির কন্ঠে বলল: আঙ্কেল, আপনি কাঁদছেন কেন? তরুণটি স্বাভাবিক রীতিতে ‘আঙ্কেল’ সম্বোধন করল।

বৃদ্ধ তাকালেন তরুণটির দিকে। তাকিয়ে থাকলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর বললেন: আমার নাতী, তোমারই বয়সী-একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স পড়তো। আজ দুই মাস হলো তার কোনো খোঁজ নেই। যাবার সময় শুধু একটা চিরকূট রেখে গেছে-আমি আল্লাহর পথে বের হয়ে গেলাম। তোমরা কেউ আমার কোনো খোঁজ করো না। পরে আমরা নিশ্চতি হয়ে যাই যে, সে সিরিয়া চলে গেছে।

কেউ জঙ্গিদলে ঢুকেছে এ কথা জানলেও পরিবারের কেউ সেটা প্রকাশ করতে চায় না। অথচ বৃদ্ধটা অপরিচিতদের কাছে বিষয়টা প্রকাশ করলেন।

উপস্থিত কেউ কিছু বলতে পারছিল না। বৃদ্ধের কান্নাও থামছিল না। নাতী তার খুব আদোরের ছিল। বসে বসে কারও কান্না দেখা সুখকর কিছু নয়। এই পৃথিবীতে বৃদ্ধের সময় বেশি নাই। যাবার আগে তিনি বুক ভরা কান্না নিয়ে যাচ্ছেন। আদোরের নাতী তাকে এই কান্না উপহার দিয়েছে।

বৃদ্ধ বললেন: এই নাতীর জন্মক্ষণটি ছিল আমার কাছে জীবনের শ্রেষ্ঠ্যতম আনন্দক্ষণ। নাতীকে কাঁধে নিয়ে কত ঘুরে বেড়িয়েছি। প্রশস্থ বুকের উপর শুইয়ে ঘুম পাড়িয়েছি। কত স্বপ্ন এঁকেছি তাকে নিয়ে। ডাক্তার বানাবো। মাস্টার বানাবো। বিজ্ঞানী বানাবো। ওর বাবা আমাকে বলতো-বাবা, তোমার নাতীকে এতকিছু বানাবে তো মানুষ বনাবে না? আমি এই প্রশ্নে কুন্ঠিত হয়ে যেতাম। তাড়াতাড়ি ভুল শুধরে বলতাম-মানুষ তো বানাবোই। আগে মানুষ, তারপর এসব। নাতীর ইচ্ছা কম্পিউটার সায়েন্স পড়বে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দ অনুযায়ী সাবজেক্ট পেল না। শেষে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি করা হলো। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাট খরচ। ওরা বেপরোয়া। দেখার কেউ নেই যেন। যা হোক, তবু খরচকে খরচ মনে করলাম না। নাতীর ইচ্ছা বলে কথা। নাতী আমার আগে মানুষ হবে, তারপর হবে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ইত্যাদি। নাতী আমার কম্পিউটারে কম্পিউটারে অনেক দক্ষ হয়ে উঠল ঠিকই, তবে আগে মানুষ হলো না বলে সেসব জ্ঞান কোনো কাজে এল না। নাতী আমার প্রথমে হলো জঙ্গি, তারপর হলো কম্পিউটার এক্সপার্ট। তারপর চিরকূট লিখে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল।

বৃদ্ধ কথাগুলো বলতে বলতে হাঁফিয়ে উঠলেন। বড় বড় শ্বাস টানতে লাগলেন। সাজিদ বা উপস্থিত কারো মুখে বিশেষ কথা নেই। কী বলবে তা কেউ ভেবে পাচ্ছিল না যেন। বৃদ্ধ একটু দম নিয়ে আবার বললেন: পরাধীন দেশে জন্মেছিলাম। শোষকের শাসন আর শোষনের যাঁতাকলে পিষ্ঠ ছিলাম। দুইবার করে স্বাধীন হলাম। অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধও করেছি। আমাদের চাওয়া ছিল শোষনমুক্ত সমাজ। সাম্যবাদ। সমঅধিকার। মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই-এই মূলমন্ত্র ছিল আমাদের বুকে। আমরা কোনো ধর্মরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম না। কোনো ধর্ম রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম না। মানুষের মধ্যে বিভেদের বেড়াজাল সৃষ্টির জন্য যুদ্ধ করি নাই। আমাদের কিছু কিছু চাওয়া পূর্ণ হয়েছে বটে। তবে আজ সব পাওয়াই যেন না পাওয়ায় পর্যবশিত হচ্ছে। আলোকবর্তীকা হয়ে যে সন্তানদের যাওয়ার কথা ছিল মানুষের কাছে, ধর্ম রক্ষার নামে তারা চলে যাচ্ছে অন্ধকারে। এ জন্য আমি রাষ্ট্রকেই দায়ি করবো। ব্যক্তি মানুষের ধর্ম থাকতে পারে, আবার না-ও থাকতে পারে। তবে রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। রাষ্ট্র শুধুই মানুষের। স্বাধীনতার এত বছর পরে এসে এই রাষ্ট্র ধর্মের শেকল গলায় পরেছে। ছোট একটা দেশ। অথচ এই দেশের শিশুরা শিক্ষা গ্রহণ করে নানারকম ভিন্ন মাধ্যমে। রাষ্ট্র পরিচালকরা রক্তদামে কেনা বাংলা ভাষাটাকে একমাত্র শিক্ষার মাধ্যম করতে পারেনি। শৈশব থেকে শিশুগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। তাদের আচার-আচরণ, সংস্কৃতি ভিন্ন করে দিচ্ছে।

‘টিকুলি’উপাখ্যান
পৌলোমী ভট্টাচার্য

প্রত্নভূমি বিহার,এর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে লোকশিল্পের অসীম সম্ভার।লোকশিল্প কলার আকর বললেও কিছু কম বলা হবে না।আর এই প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা এমনই এক শিল্প হল ‘টিকুলি'(Tikuli)।
এই শিল্প একদিনে গড়ে ওঠেনি,এর নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ কাহিনী। প্রায় ৮০০ বছরের প্রাচীন এই লোকজ শিল্প বিহারের জল হাওয়ায় বেড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে।’টিপ'(Bindi)কে এখানের আঞ্চলিক ভাষায় ‘টিকুলি'(Tikuli) বলা হয়।আর এই টিপ অর্থাৎ ‘টিকুলি’ থেকেই এই শিল্পের জন্ম।২৫০০ সালের আগে এই টিপ নির্মিত হত অনেকটা এই রকমভাবে,প্রথমে কাঁচ গলিয়ে তা বেলুনের মত ফুলিয়ে নেওয়া হত।তারপর তাতে সোনার তবক লাগিয়ে নেওয়া হত।এরপর বাঁশ নির্মিত কলম দিয়ে বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হত।তারপর টিপের আকারে কেটে নিয়ে বিবাহিত মহিলারা তা ব্যবহার করতো।এরপর ২০ এর দশকে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই শিল্প প্রায় ভেঙ্গে পড়ে।
অবশেষে ৬০ এর দশকে।এই শিল্পে সোনার বদলে কৃত্রিম তবকের ব্যবহার করা শুরু হয়।এরপর ১৯৫৪ সালে চিত্রাচার্য্য উপেন্দ্র মহারথী ক্ষয়িত শিল্পটিকে পুর্নজীবিত করেন।যা আর মহিলাদের ব্যবহৃত টিপ এর সীমা ছাড়িয়ে এক নবতম শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।এরপর কাঠের প্যানেলের ওপর এই চিত্র নির্মিত হতে থাকে।একটি কাঠের প্যানেলে ৪/৫ পরত দিয়ে তার জমি নির্মিত করা হত।তারপর তুলির বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হত। রামায়ণ, রাসলীলার কাহিনীই এই চিত্রগুলির প্রধান উপজীব্য বিষয় ছিল। গ্রীষ্ম আর বর্ষা কালই এই শিল্প নির্মানের জন্য আদর্শ।
অবাক লাগে একসময়ে নারীদের প্রসাধনী বিবর্তিত হতে হতে এক অপূর্ব সুন্দর লোকশিল্পে পরিনত হলো,যা সত্যিই ভাবায়।সেদিক থেকে বিচার করলে বিহারের নারী স্বাধীনতার এক প্রতিভূ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে এই ‘টিকুলি'(Tikuli) শিল্পকলা।
*তথ্যসূত্র – পাটনা মিউজিয়াম, বিহার।

Same Humans Different Thoughts
Pallavi Das

Every human being does not think differently, the resultant of that thought is different for every human. The process of ‘thinking’ is the same for everyone, including a so-called lunatic. However, what makes all the difference is the end result. Because, the marvelous thing that the human brain is, it has the ability to make 2+2 give as many results as there are human brains. So many things come into play when the human mind gets down to think…Experiences, Perceptions, Prejudices, Habits, Judgements, etc. And every single thing mentioned above is unique to every single individual, in fact, even for an individual it changes with time. So, there you have it – A different thought with each human each time!

Publish your E-Book at INR 600

Contact: insightfulsite@gmail.com

শ্রাবণের ধারায় ধুয়ে যাক অলীক কল্পনা
পার্থ সেন গুপ্ত

স্বপ্নেরা চেতনার বেড়াজালে
আটকা ছিল কৃষ্ণচূড়ার আন্দোলনে
অলীক ভেলায় চেপে কল্পনার দেশে
স্বপ্নেরা উড়ে গেল ডানা মেলে অবশেষে।

বাজি কর আপন রঙের পাত্রে তোমার ঘামে
তুলি ভেজায় তোমারই রক্তে, অল্পদামে
তুমি শুধু বসে থাক কল্পনার বৈতরণীর তীরে
রক্তে রাঙ্গা তুলি হাতে নিয়ে, স্বপ্ন দেখে ভাঙ্গা নীড়ে।

শ্যাওলা ধরা দেয়াল মুছে রক্তে লেখ ভবিষ্যৎবাণী
বাজিকরের শঙ্খধনীই ভাঙ্গা দেয়ালের লেখনী।
জটিল ছবি আঁকাশ কুন্তলা পার্কের ভাঙ্গা দেয়ালে
গোধূলির রং মুছে পানপাত্রে ঢাল, বাজিকরের মনের খেয়ালে।

এ কোন দেয়ালের লেখনী দুর্ভেদ্য মানসিকতার শিল্পকলা?
মনের ভাব হয় না প্রকাশ, ছন্দে যায় না বলা,
চেতনা জাগ্রত হয় না অবাস্তব কল্পনায়
চিন্তাশক্তি শিথিল তোমার এ্যবস্ট্রাক্ট আলপনায়!

কোন তুলি দিয়ে আঁকা ছবি?
বাজিকরের রঙে ভেজা, তুলিতে আঁক দুর্ভেদ্য ছবি,
ব্লটিংপেপারে শুষে নেয় সুস্থচিন্তার কল্পনা
চিন্তার উদ্ভাবনী শক্তি পথ হারায় ,অকারণ হৃৎপিণ্ডের যন্ত্রণা।

জলরঙ তেলরঙ মিলেমিসে একাকার
জীবন প্রদীপ নেবে, রাস্তার দুধারে হাহাকার।
তবুও যত টুকু আলো জ্বলে, অন্ধকার গ্রাস করে
চুপিচুপি বাসা বাঁধে, সাঁড়াশির মত আতঙ্ক গলা টিপে ধরে।
বিনিদ্র-রাত কাটে অশরীরী জীবাণুর দংশনে
বিচিত্র সুরে বিবেক মারা যায় অজানা আক্রমণে
বাতাস নিংড়ে নিংড়ে জমে কালো গড়লের কুণ্ডলী
অশ্বত্থের ঝুরির মত জানালা খুলে দেখি রক্তের অঞ্জলি।

অলীক ভেলায় চেপে কল্পনার দেশে আর নয়
বাজি করের রঙের পাত্রে ঘাম ঢালা আর নয়।
অন্ধকার মন্থন করে আতঙ্কে রাত কাটবে কেন?
পাহাড়ের গায়ে শিশিরের মত রক্ত ঝরবে কেন?

তোমার এক থোকা রক্তকরবী এবং ইন্দ্রজিৎ নীলাঞ্জনা
তোমার শঙ্খচিল তোমার সাগরিকা সব আমাদের কল্পনা
বন্ধ হোক পদ্যের ভাষায় এ্যবস্ট্রাক্ট কাব্যের ছবির আলপনা
হৃদয়ে পুঞ্জিভূত মেঘ শ্রাবণের ধারায় ধুয়ে যাক জীবন যন্ত্রণা।

গোধূলি বেলার সাজকথা

তনিমা সাহা

আজ আমার খুব আনন্দের দিন,
আজই আমার বিয়ের দিন,
ছোটবেলার বন্ধু সে, বিয়ে করতে চলেছি যার সাথে;
কতো টুকরো কথা, টুকরো স্মৃতি মনে পড়ে আজ,
ভালোবাসার এক ছোট্ট নীড়,
মনে মনে বুনেছিলাম একসাথে;
আজ সেই দিন যার জন্য,
আমি অপেক্ষারত এতো কাল,
বলেছিল সে, “সেজো আমার সূর্য্যফুল,
তুমি লাল বেনারসীতে,
ফুটে উঠুক তোমার উজ্জ্বলতা,
পড়ন্ত সূর্য্যের আলোতে”;
অপেক্ষায় আমি গোধূলি বেলায় আজ,
লাল বেনারসীতে, লাল ওরনায় সেজে,
হঠাৎ ‘আগুন, আগুন’ রবে,
বুকের ভেতর দামামা উঠলো বেজে;
প্রিয়র জন্য সাজ আমার,
প্রিয়কে দেখাতে হবে আজ আমার,
বেড়িয়ে এলাম ঘরের থেকে,
চতুর্দিক তখন লেলিহান অগ্নিতে,
বিয়ের বাড়ি রূপান্তরিত হলো,
যেন এক অগ্নিপিন্ডতে;
‘পালাতে চাই, বাঁচতে চাই, আমি আমার প্রিয়র জন্য’,
পালাতে গিয়ে হোঁচট খেলাম পড়ে গেলাম মাটিতে,
কোথা থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ,
আমার লাল বেনারসীতে,
‘বাঁচাও,বাঁচাও’ চিৎকারে হলো সবের ইতি;
প্রিয় এখনো আছে আমার মনে, 
তবে এখন শুধুই স্মৃতি,
গোধূলি বেলায় সাজি এখনো আমি,
প্রতিক্ষায় রত এখনো আমি, আমার প্রিয়র জন্য,
লাল বেনারসীতে সাজি এখনো গোধূলি বেলায়,
শুধু আমার প্রিয়তমের জন্য।

নৌকো
জয়ীতা চ্যাটার্জী

কালো বাদল আর স্বপ্নে স্বপ্নে সারারাত ঘুমের তলায় হেঁটে বেড়ায় কিছু মুহূর্তের দানা,
সারারাত মন ভোলানো কথা আমার শরীরে যা বাকী জীবন আমি ভুলতে পারব না।
তোমার সহস্র তরঙ্গে আমি ঢেউ খেলতে লাগলাম দিক হারানো নৌকা অজানা,
সে এক প্রবাল দ্বীপ মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে ঘর বাঁধলো আমাকে দিয়ে, রেখা সরলতা হারায় জটিল হয় টানা।

ছেড়ে এলাম সেই সামান্য আশ্রয়, ছেড়ে এলাম মাথা রাখার কোল ভোর বেলার স্বপ্নাদেশ পেয়ে,
ছেড়ে এলাম স্বজন বন্ধু হু হু ফ্লাইওভার একলা দাঁড়িয়ে।
সে নৌকো আমার ডুবে গিয়েও ভেসে উঠল আবার, আমার কোনো বারণ শুনলো না,
আমায় নিল জ্যান্তমরা মুহূর্তে র ভেতর, বালির চড়ায় আমি বলি এ আমার কবিতা না।

গুলজা়র রচিত একটি হিন্দি কবিতার বাংলা অনুবাদ। রাজেশ খান্না ও অমিতাভ বচ্চন অভিনীত একটি হিন্দি ছায়াছবি “আনন্দ” (Anand)-এ অমিতাভ বচ্চনের কন্ঠে কবিতাটি পাঠ হয়।

মৃত্যু
কবি:- গুলজা়র
অনুবাদক:- সায়ন তরফদার

মৃত্যু তো এক কবিতা—-
আমার কাছে এক কবিতার অঙ্গীকার, যা পাবোই আমি

ডুবন্ত স্পন্দনে যখন ক্ষত’রা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়
সুবর্ণ চেহারায় চাঁদ উষ্ণতার শিখরে পৌঁছায়
দিন এখন সলিলে, রাত তীরের কাছে
নেই আঁধার-দীপ্তি, নেই রাত-দিন এখানে

শরীর যখন শেষ হয় আর আত্মায় আসে শ্বাস
আমার কাছে এক কবিতার অঙ্গীকার, যা পাবোই আমি।

পথিক
সাগ্নিক সান্যাল

কত পথ একসাথে হেঁটেছে পথিক
তবু ভালোবাসা রইলো অলীক
কতবার ছুঁলো দেহ,
হাতে ধরা পড়লো না মন
কত পথ হেঁটেও নয় আপন।
শুধু শায়িত জীবন, সম্পর্ক জটিল
অভিমান করে করে মন্থর মিছিল
কতবার ছুঁলো ঠোঁট
হাতে হাত ধরে কত ভোট
শুধু নিজের নিজের সাজ-সজ্জা পছন্দ-অপছন্দ করে নির্বাচন
প্রয়োজনে নিষ্প্রয়োজনে হিসাব করে মন
শীতে হাতে বোনা সোয়েটার,
বর্ষায় হাতে তুলে দেওয়া ছাতা
ওইটুকুই স্পর্শ নিয়ে যাপন
কত পথ হাঁটলে শেষ যাত্রায় হওয়া যায় আপন।

অনুরাগ
বিষ্ণুপদ ব্যানার্জী


এত তিক্ততার মাঝে,
চাই একটুখানি ভালোবাসা,
জানি তা দিতে পারো তুমি,
তাইতো বারে বারে আসি,
তোমারই শীতল স্পর্শ পেতে,
শান্ত করো তুমি।
ভুলে যাও সব বিবাদ,
শুধু মনে রেখো আজ,
আমি বড্ড একা!
চাই তোমারই মৃদু ঠোঁটের
আলতো ছোঁয়া,
আর বল তুমি আমার।
শেষ করো অভিমানের পালা,
কাছে এসে বসো একটুখানি,
তোমার শীতল হাতে,
দিও একটুখানি স্পর্শ,
ধন্য করো আমারে
গেয়ে ওঠো ভালোবাসার গান।

অতীশ

1

কেউ খেয়ে নিলো ‘ভাত’
কেউ ‘ভালো থাকা’
কেউ খেয়ে নিতে চায় –
‘একসাথে থাকা’
কেউ খায় ‘স্বপ্ন’ – কেউ খায় ঘুষ
খেতে খেতে সব শেষ –
নেই কারো হুঁশ |

2

আমাকে তুমি মারতে পারো

হারাতে পারবে না

আমার মনন
একরোখা সেই অশ্বথের মতো
উঠবে বেড়ে, দেয়াল জুড়ে
আটকাতে পারবে না
প্রতিবাদ শুধু রাজপথে নয়
বিশ্বাসে আর নিঃশ্বাসেও হয়
জালকামানেরা যতই ঘুরুক
দাপুটে বুলেট যতই ছুটুক
প্রতিবাদ তুমি আটকাতে পারবে না
আমার শরীরে বিষ দাও যত
মননে অজান্তে অমৃত ঢালো
দৃঢ় থেকে আর দৃঢ়তর হয় আমার বিশ্বাস
আমার মননের অমরত্বে দেখি তোমার সর্বনাশ

স্বদেশ
চিত্তরঞ্জন গিরি

জ্যোৎস্নার ভাঁজ খুললেই দেখতে পাবে
একটি নদীর আত্মকথা
পরিযায়ী পাখিরা হিন্দুকুশ পেরিয়ে
হিমালয়ের পথ ধরে এক একটা ছবিএঁকেছিল
যা উজ্জ্বল নদীমাতৃক দ্বীপ দর্পণ স্নিগ্ধতা ।

আলো আঁধারের মিলন তরঙ্গে
আর্য-অনার্যের ভাটিয়ালির প্রতিবিম্ব

লোপমুদ্রা খনা গার্গেই বিশ্ববারার
কৃষ্টিময় অলকানন্দায়
নাক্ষত্রিক যে পদ সঞ্চালন
বেদ উপনিষদের আকাশভরা তারা
স্থলপদ্মে আঁকা -রামায়ণ মহাভারতের নির্যাস
নদীকে দিয়েছে, সরস্বতীর তরঙ্গময় কাব্যিক
অনুশাসন

পারিজাতের ছত্রছায়ায়- যে মাঝিরা ছুঁয়েছিল দাঁড়
আর্যভট্ট ,বরাহমিহির ,জীবক কালিদাস থেকে
আজকের- বোস, কালাম কিমবা সি ভি রমন
পার্থিব কল্পতরু-সৃষ্টির আষাঢ় ।

অথচ কত লুটেরার হিংস্র থাবা ,বিচ্ছিন্ন আশ্বাস
পাঁপড়ি কেঁদেছে কীটের জ্বালায়
যুগ থেকে কাল
চলমান বেদনার দীর্ঘশ্বাস !

লুণ্ঠিত নদী ফসল হারায়- বিভীষিকাময় দ্বন্দ্ব
মামুদ ,ঘোরী ,ইঙ্গ-ফরাসির সিন্দুকের অভিকর্ষ
পশ্চিম দিল পরমাণু বোমা হাহাকার মাতৃদুগ্ধ
মাটির কুটীরে, আঁকা লাবণ্য-হারায় তার
স্বাভাবিক উৎকর্ষ !

তবুও আছে জলপ্রপাত ,পাঞ্চজন্য শাঁখ ,হিমালয়
জ্বালে প্রদীপ – গঙ্গা যমুনার শীতলতায়
কত দ্বীপের সমাহার ।
পারাবত উড়ে, এদেশ -ওদেশ,শান্তির ললিত ধ্বনি
গাঙচিলে ভরা তীর্থ-মুখর প্রেমেরই অভিসার ।

যারা এসেই ফেলেছে পা-নদী গর্ভগৃহে
দেওয়া নেওয়া করে ছায়ায় মিলেছে
আধ্যাত্ম-পরমাত্মিক আবহে !

সূর্যের দেশ ,সবুজ বনানী -মরূও উঁকি দেয়
আমার স্বপ্ন, ক্যানভাসে এখনো
নক্ষত্রের আলো সাজায় !

এখনো মেহেন্দী ,অপূর্ণতায় -হাস্নুহানার দিগন্তে
আবর্জনা ,রেষারেষি-যাক মুছে যাক
জননীর নিষ্কলুস পদপ্রান্তে

কালবেলা
জয়ীতা চ্যাটার্জী

আজ এক স্হির দিন পৃথিবীতে আসে অমলিন
মলিন প্রেরণা সময়ের হাতে
যদি মুছে দিতে পারে সেই আদিকাল থেকে
আজকের মূহুর্ত অবধি
মানুষের কাহিনী দাঁড়িয়েছে প্রান্তে
দাঁড়িয়েছে অনাদির ক্ষুধা লোভ লালসা নিয়ে অন্ধকার অবধি
দাঁড়িয়েছে মরুভূমি মলিন বালির দান নিয়ে
করাল দুপুরে
দিগন্তের মাঝামাঝি অপমৃত্যু মরিচীকা হয়ে
বুদবুদে হারাতে শিখেছে জলের নুপুরে
হৃদয়ে কুয়াশা নিয়ে
মানুষের কাছে মানুষের দাবী থেকে গেছে
করুন প্রশ্ন অব্যক্ত ব্যথা খেলা করে চলে মানুষের হাড়ে
সূর্যের দিগন্ত দেশ তুলে নিতে চায় ঢেউয়ের ওপরে
নিঃসহায় ডুবুরির মতো ডুবে মরে যারা প্রানের সমুদ্রে
বিরহীর মতো ডানা ঝাপটায় তারা শূন্য অন্ধকারের ভেতরে
ব্যথা নিরাশার ঢেউয়ে ভিজে মানুষ দাঁড়ায় এসে মরণের সমুদ্রে
ভয় নেই ভয় নেই গেয়ে যায় জীবনের সুর ভোরের সূর্য সমুখে
যে কবি খুলেছিল সাদা পাতা লিখেছিল কবিতার ঢের
আকাশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক আকাশের মতো লিখেছিল নীল মেঘেদের।

  •  
    19
    Shares
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •