• 9
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares
josh-withers-525892-unsplash.jpg
CONTENT | ISSUE 13 - 13TH SEPT, 2020

KafeHouse

Translating, Tottering Across the Realms of Super-Realism and Undulated Nature in Selected Works of Syed Mustafa Siraj

By Sreetanwi Chakraborty

ধারাবাহিক
মিছিলে নাটকে কবিতায় গানে – আরণ্যক বসু
জীবন অবশেষে সুন্দর – আবুল কালাম আজাদ

কবিতা

ইচ্ছে গুলো – পাভেল আমান
তখনো কি? – বদরুদ্দোজা শেখু
মনে থাকবে – মুহা আকমাল হোসেন
গতিপথ – রোনক ব্যানার্জী
বিলুপ্ত – Kalyan Kumar Bhattacharjee
MISFIT – Adrija Basu

ভ্রমণ কাহিনী

দীঘার চন্দনেশ্বর মন্দির – তাপসকিরণ রায়

Translating, Tottering Across the Realms of Super-Realism and Undulated Nature in Selected Works of Syed Mustafa Siraj

Sreetanwi Chakraborty

The forms of translating the Rarh Bengal, through the undulated natural terrains, an understanding of the geographical hinterlands almost coalesce with the human story of love, loss, lust for nature and longing. Understanding the ambiguities in translating how the Aleek Manush or the Mythical Man’s father can be ‘gentle, sweet-tongued and emotional’ on the one hand and irrational, stubborn and foolhardy on the other. Places that appear in the novel, the black man, the white man, the myths that translate into Bengal Rarh memories areal interwoven and presented to the readers, or better to say, to the spectators who go through the series of standardized terms and understand how the quintessential land ideas of identity, self and the evolution as well as the evaluation of the self, springs up.  

This becomes apparent when the concept of the Jinn is brought out right in the first few pages of the novel Aleek Manush or Mythical Man: the myths, oral concoction and the narratives are not just woven around the mosquito net that we see in the text, but it is, as if, with Shafi, we also try to pierce the ‘darkness’ and look inside the net. The closest source equivalent to ‘piercing’ is emphasized when the author says that Shafi narrowed and pointed his eyes to look inside the mosquito net. (“ শফি চোখদুটো তীক্ষ্ণ করে ভেতরটা দেখতে চাইতো।”)

It is also the idea of the black and white comparative disasters brought and attributed to the black and the white Jinn that make the concept of the myths much enlivening in the work of Syed Mustafa Siraj. The images are amenable to multiple interpretations in the understanding of the mythical man. If we concentrate on what Bijay Kumar Das has pointed out about the whole idea of translation, we find that:

“ At the writing level, translation is always considered a revisiting of the original text. It is a text about a text, and hence, it is a meta-text. The translator’s ultimate challenge has in carefully transmitting the soul of the original work into the target language without damaging the structure, finesse and beauty of the original text.”

Narrating and reproducing the vastness of one regional language into the larger domains of land and geographical narrative thus becomes more conspicuous as the novel moves on. It celebrates secular ideas as pitted against orthodoxy, and at the same time, the ruddy, unfazed, unabashed, pulsating tunes of Bengal get translated into what we call a larger and vast worldview, when Shafi’s father the buzoorg pir and his ideals reach out to the readers. Somewhere in Mustafa Siraj’s works, we find that simple, inaustere, unobtrusive nature that we find in novelists like Thomas Hardy. Hardy’s nature, along with the fine blend of Fate, chance and coincidence, along with the free will, volition and the ideas of human beings is alive, rugged, palpable, an all-pervasive entity in the larger trapezaic play of human beings.  (to be continued…)

আরণ্যক বসু

ধারাবাহিক (পর্ব 8 )

জীবন অবশেষে সুন্দর
আবুল কালাম আজাদ

কথা শেষ হতেই বৃদ্ধ উঠে দাঁড়ালেন। পকেট থেকে টাকা বের করে চায়ের দাম দিয়ে সোজা হেঁটে গেলেন। বুকের জমানো ব্যথা অপিরিচত কারও কাছে হলেও প্রকাশ করে তিনি হয়তো কিছুটা হালকা হয়েছেন।
সাজিদ ফিরে যায় তার পুরনো ভাবনায়। সে ভাবে, দাদার জন্য একজন নার্স রাখলে কেমন নয়? নার্স ঠিক নয়, প্রাইভেট টিউটরের মতো। এই ঢাকা শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক ছেলে-মেয়েই প্রাইভেট টিউশনির খোঁজ করে। দুই/তিন হাজার টাকা বেতন পেলেই তারা বাসায় গিয়ে ছেলেমেয়ে পড়ায়। এরকম কাউকে রেখে দিলে ভাল হয়। প্রতিদিন এসে দাদাকে দুই ঘন্টা বই পড়ে শোনাবে। আর একটু বেশি টাকা দিলে নাহয় আরও একটু বেশি সময় দিবে। অথবা দুইজন রাখা যায়। একজন সকালে, আরেকজন বিকালে আসবে। তহলে নিয়ম করে দিনে চার ঘন্টা দাদা বই পাঠ শুনতে পাবেন।
এরকম ভাবতেই সাজিদ নিজেকে অপরাধী মনে করল। দাদার কাছে এই প্রস্তাবটা তুললে, তিনি মনে কষ্ট পেতে পারেন। ভাবতে পারেন, তাকে বোঝা মনে করা হচ্ছে। আর তো কিছু নয়, শুধু একটু বই পড়ে শোনানো। এই কাজটাকেই ঝামেলা মনে করা হচ্ছে। চিন্তাটাকে সাজিদ মাথা থেকে তখনই হারিয়ে দিল।

সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে সাজিদ পাখার নিচে বিছানায় কাৎ হয়েছে। তখনই দাদার ডাক এল।
সাজিদ ঘরে ঢুকতেই মতলুব সাহেব বললেন: তোকে একটা কথা বলার জন্য ডেকেছি।
কথা বলার জন্য! তার মানে বই পড়ার জন্য না। সাজিদ আগ্রহ নিয়ে তাকাল দাদার মুখে। মতলুব সাহের বললেন: সান্টুটা তো চঞ্চল হরিণ।
: জি দাদা, চঞ্চল মায়া হরিণ।
: চঞ্চল হরিণ কথাটা কি ঠিক আছে? নাকি চঞ্চল প্রজাপতি বলবো?
: হরিণ উপমাটাই ঠিক আছে দাদা। প্রজাপতি উপমাটা ছেলেদের ক্ষেত্রে ঠিক মানায় না।
: তোর ভেতর সাহিত্যবোধ আছে।
: এই সাধারণ উপমা চিন্তা করতে সাহিত্য বোধের দরকার হয় না দাদা।
: আর লক্ষ্মী মেয়ে তনিমা তো লেখাপড়া নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত।
: জি দাদা, জেএসসি পরীক্ষা দিবে। অতী অল্প বয়সে রাষ্ট্র ওদের কাঁধে পরীক্ষার বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে একের পর এক। ও আবার ভাইদের মতো হয় নাই। ভীষণ পড়ুয়া।
: আর তুই…….।
: আমি কী দাদা?
: তুই চাকরি খুঁজিস। চাকরির জন্য পড়াশোনা করতে হয়। সামনে বিসিএস পরীক্ষা। বিসিএস-এর প্রিপারেশন নিতে গেলে বইয়ের মধ্যে নাক-মুখ গুঁজে থাকতে হবে। আমি নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণি ছিলাম। আমি চাই, তুই ক্যাডারভূক্ত প্রথম শ্রেণি হ’। চাকরি হলে অফিসের ব্যস্ততা। তারপর বিয়ে….।
বিয়ের কথায় সাজিদ একটু লজ্জা পেল। সাধারণত দাদা-দাদী, নানা-নানী এদের সাথে এমনিতেও ঠাট্টাচ্ছলে অনেক কথা হয়। সাজিদরা তিন ভাইবোন সেরকম হয়নি। দাদার সাথে ওরা কখনো ঠাট্টা করে না। সিরিয়াস কথাবার্তা ছাড়া দাদার সাথে ওদের অন্যরকম কথা হয় না।
মতলুব সাহেব বললেন: তখন তো আমাকে বই পড়ে শোনানোর সময় হবে না।
: দাদা, শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাকে বই পড়ে শোনানোর সময় আমি বের করব।
: হাহাহাহা।
প্রাণবন্ত হাসি মতলুব সাহেবের। এ বয়সেও তিনি ছাদ কাঁপিয়ে হাসতে পারেন। হাসির শব্দ শুনে পাশেরর ঘর থেকে তনিমা এল। তনিমা বলল: দাদা, মনে এত আনন্দ জাগল যে?
: আমাকে কি কখনো নিরানন্দভাবে দেখেছিস? বস বস। তুই যখন এলি তো কথাটা এখনই বলি।
সাজিদ আর তনিমা পরস্পরের মুখে তাকাল। কী বলতে চান দাদা? মতলুব সাহেব বললেন: এমন কাউকে কি মাইনে করে রাখা যায়, যে দিনে একবার কি দুইবার এসে আমাকে বই পড়ে শোনাবে?
সাজিদ হাফ ছাড়ল। যে কথাটা সে বলতে ভরসা পাচ্ছিল না, দাদা সে কথা নিজ থেকেই বললেন। সাজিদ বলল: কথাটা আপনি মন্দ বলেননি দাদা। সেরকম কাউকে রাখতে পারলে ভাল হয়। রুটিন মাফিক আপনি বই পড়া শুনতে পারবেন। রুটিনের বাইরে আমরা শোনাবো। সেটা হবে আপনার জন্য বোনাস।
: তাহলে সেরকম কাউকে খুঁজে দেখ। মাসে তিন/চার হাজার টাকা মাইনে দিব।
: অতো হয়তো লাগবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা দুই/আড়াই হাজার টাকায়ও বাসায় গিয়ে টিউশনি করে। আচ্ছা দাদা, ছেলে না মেয়ে হলে ভাল হয়?
মতলুব সাহেব কিছু বলার আগেই তনিমা বলল: ছেলে ভাল হবে না। তারা বেশি সময় দিতে পারবে না।
মতলুব সাহেব বললেন: আমার বুবুর সাথে আমি একমত। তা ছাড়া, চোখে না হয় ভাল দেখি না, মনে তো এখনও রঙের কমতি নেই। সুকেশী, সুকন্ঠী, সুদর্শনা কোনো যুবতী হলে……।
তিনজনের ছাদ কাঁপানো হাসি। তনিমার হাসি আর থামে না। সাজিদের মা চা-নাস্তা নিয়ে এলেন। বললেন: বাবা, নাতী-নাতনীর সাথে খুব জমিয়ে দিয়েছেন মনে হচ্ছে? চা-নাস্তাটা সেরে তারপর আবার…..।
চা খেতে খেতে সাজিদ তনিমাকে বলল: তোদের স্কুলের কোনো ম্যাডাম…….।
: আমি জিজ্ঞেস করে দেখব।
: তোর বান্ধবীদের কোনো বড় বোন যদি…..।
: আমি সেটাও দেখব।

বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও তনিমা সেরকম কোনো খোঁজ-খবর করতে পারল না। ওর স্কুলের ম্যাডামরা নিজেদের বাসায় ব্যাচ করে ছেলেমেয়ে পড়ায়। একেক ব্যাচে ১৫/২০ জন। সপ্তাহে তিন দিন। প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয় ১৫০০ টাকা। মাসে বিশাল ইনকাম। পুঁজিহীন বিরাট ব্যবসা। সরকার শিক্ষাটাকে ব্যবসায় রূপান্তর করে দিয়েছে। এই ব্যবসা ফেলে কারও বাড়িতে গিয়ে তিন/চার হাজার টাকার টিউশনি করার সময় তাদের নেই।
সাজিদ সান্টুকে বলল: তোর কোনো বন্ধুর বড় বোন আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এমন?
: কেন?
: দরকার আছে।
: প্রেম করবে, না বিয়ে করবে? বিয়ে করলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারি। তাদের প্রেম করার টাইম নাই।
: তুই চরম ফাজিল হয়ে যাচ্ছিস।
: যা বাব্বাহ! তাহলে মেয়েদের খোঁজ করছো কেন?
সাজিদ সান্টুকে সব খুলে বলল। সান্টু বলল: আমার বন্ধু গুড্ডুর বড় বোন আছে। বিশ্ববিদ্যায়ে পড়ে। কিন্তু তাকে দিয়ে হয়তো হবে না।
: কেন?
: গান করে। থিয়েটার করে। আবার পলিটিক্সও করে। তার সময় হবে বলে মনে হয় না।
: তাহলে অন্য কাউকে দেখ।
: দেখি…..। আচ্ছা, আমরা তো দাদাকে বই পড়ে শোনাচ্ছি।
: তুই যে কী শোনাস তা জানা আছে। এই সপ্তাহে একবার দাদার ঘরে গিয়েছিস?
: এই সপ্তাহটা একটু বিজি গেল।
: তোর সব সপ্তাহই এক।
কেউ কোনো খোঁজ করতে পারল না। সাজিদের বাবা মাহবুব রহমানও তার অফিস কলিগদের সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। যদি তাদের নিজেদের মেয়ে থাকে, কিংবা পরিচিত কারও…..। কিন্তু ফলাফল শূন্য। দেশের বেকারত্ব কি ঘুচে গেল? তিন/চার হাজার টাকায় দুই/তিন ঘন্টা কাজ করার মত কেউ নেই?
মাহাবুব রহমান সাজিদকে বললেন: অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই দেশে তুই ছাড়া আর কেউ চাকরি খুঁজছে না।
: কিন্তু ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে যে চাপ দেখি…….! সেদিনের ইন্টারভিউটা যে কলেজে হল সেই কলেজের সামনের রাস্তা ব্লক হয়ে গিয়েছিল মানুষের চাপে।
: তারা বোধহয় ইন্টারভিউ দিয়ে যায় না। তোকে চাপে ফেলতে যায়। হাহাহাহা।
মাহাবুব রহমানও তার বাবার মত উচ্চ কন্ঠে হাসতে পারেন। সাজিদ একটু লজ্জা পেল। মাহাবুব রহমান হয়ত সাজিদকে লজ্জায় ফেলতে কথাটা বলেননি। জাস্ট মজা করেই বলেছেন। কিন্তু আমাদের দেশে বেকারত্ব এক ধরনের লজ্জাজনক বিষয়, অপমানজনক বিষয়।

(To be continued)

ইচ্ছে গুলো

পাভেল আমান

ইচ্ছে গুলো রয়েছে চেপে
বক্ষ মাঝের কোনে
ব্যক্ত করি সহসা মেপে
তোমায় সংগোপনে।

নীল আকাশে উড়িয়ে ঘুড়ি
ভাবনা খোঁজে ভাষা
সাগর তটে কুড়িয়ে নুড়ি
জমছে মনে আশা।

প্রত্যাশা আজ করেছে ভর
প্রাপ্তি পূরণ নেশায়
ভুলে গিয়েছি আপন পর
পথ চলার দিশায়।

ভিড়ের মাঝে প্রতি ক্ষণেই
পড়ে আছি দিনরাত
ধৈর্য ধরে প্রহর গুনেই
তবু রাখি হাতে হাত।

ইচ্ছেগুলো স্বাধীন হয়ে
মেলেছে বাহারি ডানা
মনন যত দুঃখ সয়ে
ধরেছে নতুন গানা।

তখনো কি?
বদরুদ্দোজা শেখু

যদি ফের ডাকে কেউ ?
তখনো নিরুত্তর হবো ?
বাড়াবো না হাত ? মাড়াবো হৃদয় ?
বলবো , ‘ ভুল নাম-ঠিকানায় এসেছো ‘ ?

সেই স্বপ্নের প্রাসাদ
প্রেমের রঙ-মহল
ভালোবাসার শহর
ক্ষুৎপিপাসার চর
দরজায় দাঁড়ায়নি ব’লে
হাত ও হৃদয় বাড়ায়নি ব’লে
হারিয়েছি সবটুকু আস্থার নোঙর ,
বয়সের দৌড় বেশী নয় , বড়ো জোর
যেতে পারে আদর্শের সাঁকো-পাড়া , তারপর
হতচ্ছাড়া হ’য়ে বাঁধে অতৃপ্তি-বিলাস বৈধগ্ধের ঘর।

‘ ফিরে যাও —-
এখানে আদর্শ নাই
হৃদয়ের স্পর্শ নাই
বিমর্ষ মনের কোণে বিরহের জ্বর
লেগে থাকে , সূর্য এসে দাঁড়ায় না দরজার কাছে , ফিরে যাও ‘

তবু যদি কেউ চৌকাঠে দাঁড়ায় এসে ?
দুহাতে কুড়ায় হেসে আদর্শের মরা-ঝরা ফুল?
চুল খুলে অনাস্থার ঝুল ঝাড়ে যদি ? যদি
হাত নাড়ে চলে যেতে যেতে ?
তখনো কি নিরুত্তর হবো ? তখনো বিদায়
জানাবো কি ম্লান হেসে ব’য়ে যেতে শপথের দায়?

নাকি বরং বলবো —-

‘ ধরো এই হাত ও হৃদয়
হ’য়ে যাক প্রজন্মের জয় পরাজয় ,
ভয় সংশয় নয় , বলিষ্ট বিশ্বাস
নিয়ে’ চলো দেখে আসি যৌবন-বিলাস
ভাঙিগড়ি পূর্বাপর বর্তমান ভূত ভবিষ্যৎ
জীবন ফুরিয়ে গেলে কী হবে শপথ ‘ ?

মনে থাকবে
মুহা আকমাল হোসেন

মনে থাকবে, রেশনের চাল খাওয়া একটা বছর।
ছাতা পড়া, মোটা চালের মতো আকাশ। জীবনের সমস্ত রঙে উজ্বল করি ঘরের দেয়াল।

আমাদের পেটের আগুন –
আড়াই শো পুরনো মসুর ডালের মতো লাল।
রং মাখা দু কেজি আলু।
মনে থাকবে আমাদের সিদ্ধ না হওয়া দিন।

মনে থাকবে, ঈদের চাঁদ এসেছিল জানাজা ঘরের কাছে।
উৎসবের শূন্যতা অনলাইনে ঢেকে রাখি।

একসঙ্গে এত মানুষকে পানি হতে দেখিনি।

মনে থাকবে মানুষের ধর্ম বিরতির কথা।
মনে থাকবে একলা প্রার্থনা মিছিল…

গতিপথ
রোনক ব্যানার্জী

আছে প্রতিশোধ, আছে স্বপ্ন,তবু দুহাত ভরে যত্ন
জ্বলে আগুন,ওড়ে ফানুস,ঝাড়বাতিটা আজ রুগ্ন;
কার‌ও উচ্ছ্বাস,ভাঙ্গা সাইকেল,গ্লাসভর্তি দম্ভ,
মৃত চিরুনি, সাদা মাফলার,কাঁদে আমার প্রেমিক স্তম্ভ।

ফাঁকা মৌচাক, কাঁচা ওস্তাদ,দর বাড়ানোর ফন্দি
কৃতি সেলফোন,ফিকে স্যুটকেস,মুনশিয়ানায় বন্দি;
ভাজা মৌরি,তেঁতো চাটনি,ছোটে প্রতিশ্রুতির রাস্তা,
ক্লাসে ভাতঘুম,ফোটে মাসরুম,বাড়ে বেকারত্বের বস্তা।

অফিসে ক্যারমবোর্ড, সাথে কাটলেট, ওঠে বসের আদেশের ফুলকি
আড্ডায় লেবু চা,কানে হেডফোন,খোলে রহস্যের নানা খিড়কি;
দামি চুম্বন, খুচরো গুঞ্জন,মন জয়ের চেষ্টা
সোফা কাম বেড, ব্যাংকে এমাএস, মিটবে না মধ্যবিত্তের তেষ্টা।

কলেজে প্রক্সি, বান্ধবীর লস্যি, চলে মাসবাঙ্কের নকশা
ভুয়ো সাজেশন, রাতে পাবজি,প্রিভিআস ইয়ার‌ই ভরসা;
কষা সন্দেশ, হাতে মরচে,বাড়ে অন্নসংগ্ৰহের পারদ
ব‌উ মন্ত্রী, নাড়েন খুন্তি, থাকবে কি মায়ের প্রতি দরদ?

 

 

বিলুপ্ত
Kalyan Kumar Bhattacharjee

পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলে নিলেও অভিভাবকরা যাঁদের বলতেন বেশ করেছেন,
পাশফেলের সাথে সাথে সেই মাস্টাররাও কেমন উধাও হয়ে গেলেন।
যাঁদের ভয়াল চাউনি একক্লাস কোলাহলকে স্তব্ধ করে দিতো,
পড়া না পারলে নিল ডাউন বা বেঞ্চে দাঁড় করাতেন যাঁরা নিয়মিত,
যাঁরা ধুতি পাঞ্জাবী পরে স্বচ্ছন্দে পড়াতে পারতেন ওয়ার্ডওয়ার্থ টেনিসন, শেলী, হেমিংওয়ে,
যাঁদের শাসনের মধ্যে স্নেহ থাকতো, যাঁরা চাইতেন গাধাগুলো ঘোড়া হোক বড় হয়ে,
সেই সব মাস্টারমশাই আর দিদিমণিরা ক্রমেই বিলুপ্ত হলেন ডায়নোসরের মতো।
যদিও এই পাশফেলহীন মারধোর ব্যতিরেকে সন্তান মানুষ করার যুগে,
তাদের না থাকাটাই বোধহয় যুক্তিসঙ্গত।
শুধু কি ধমকই সব, আদরও কি পাইনি ? অনাবিল কিছু পিঠচাপড়ানি কঠিন অংক সমাধানে,
দশে আট দিয়ে সেই হেসে বলা এর থেকে বেশি আর দিই নি জীবনে,
তিনদিন না এলে কোনো বন্ধুকে দিয়ে ছিলো খোঁজ করা নিয়মমাফিক,
সেন্ট আপ হয়ে গেলে জড়িয়ে ধরাও ছিলো, বয়স্ক দুই চোখ জল চিক চিক।
গুগলের মতো হয়ে যাবতীয় নোটস আর তথ্যের ভাণ্ডার কাঁচিয়েকুঁচিয়ে যাঁরা আনতেন তুলে,
ভালো নম্বরের আগে ভালো মানুষ হও ,সে আজব কথা যাঁরা শেখাতেন স্কুলে,
কোথায় পাঠালে তাঁদের নির্বাসনে, ওহে ‘নম্বরই সব ‘বলা ব্রেকিংনিউজে বাঁচা সুশীল সমাজ?
এই খুনে নীল তিমি যুগে প্রজন্ম বাঁচাতে হলে, তাঁদের যে ছিলো বড় প্রয়োজন আজ৷

MISFIT
Adrija Basu

Guilty? Are you? Sure, forever.
Every day, every night, every month of the year.
The guilt They build in you, for being you.
Being I, is what They deny.
If not I, if not you, then who are we?
A fitting structure They want us to be.
“You are dark, you are gay, tall, short or fat
You are not man enough to be a fine lad”.
You are a label, you are a tag, a kind and a class
Enough is never enough; you or I can never be us.
The fear, the guilt, the threats and inhibitions
The choking clutches of murdered aspirations.
Why bother Their wants? And care the demands?
Fragile garb of perfection, the eternal urge to fit,
Let me, let you, for once be guiltlessly misfit.

 

দীঘার চন্দনেশ্বর মন্দির
তাপসকিরণ রায়

যেখানে যাও লোটা কম্বল’ নিয়ে পুরুষরা বেরিয়ে যেতে পারে–মেয়েরা ? নৈব নৈব চ। এমন কথা শুনতে পেলে স্ত্রীরা স্বামীকে ছেড়ে কথা বলবেন না জানি। বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়ে যাবে। এই আমার স্ত্রী বলে উঠবেন, যা তা বলো না তো–সঙ্গে তুমি থাকবে বলেই এত লেঠা পোহাতে হয়। পুরুষদের মত নেড়া -ন্যাংটা হয়ে তো আর মেয়েরা চলতে পারে না !
ওসব বাক-বিতণ্ডা থাক এখন। গাড়ি এসে গেছে। আমার সাইড ব্যাগ আর ছোট ট্রলি ব্যাগ একটা। স্ত্রীর, মানে সময়ে-অসময়ে আমায় যেগুলি টানতে হবে তা হল ৩৬ ইঞ্চি হুইলওয়ালা ব্যাগ একটা, আর একটা সাইড ব্যাগ, তা ভরলে পরে ২৫ কিলো তো হবেই।
দীঘা উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। জবলপুর থেকে হাওড়া, তারপর হাওড়া থেকে ট্রেনে দীঘা। রাস্তা লম্বা হলেও একবার মাত্র ট্রেন বদল। মাঝখানে দীঘা অনেকবার গিয়েছি। সমুদ্র দেখেছি। ঢেউয়ের মাঝে ডুব দিয়ে মজা নিয়েছি। যতবার যাই দেখি, সমুদ্রের রূপের মাঝে রূপান্তরের শেষ নেই ! এ যে অনন্ত, নিজেকে হারিয়ে ফেলার জায়গা, অস্তিত্বকে ভুলে একাত্ম হয়ে যাওয়ার ভাবনায় মিশে যাওয়া পারে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।


স্ত্রী বললেন, কই গো আর কবি কবি ভাব এ বয়সে মানায় না তোমায়–চলো কোথাও–
–কোথায় ?
–ওই যে এত দোকানপাট বসেছে, কিছু কেনা যায় কিনা দেখি।
–দাঁড়াও আরেকটু দেখে নাও সমুদ্রের রূপ।
–ও আর কত দেখব ? এই তো প্রতিবারেই এসে দেখছি।
স্ত্রীর কথার উত্তর দিতে গিয়ে চেপে থাকলাম। তবু মনের মধ্যে উত্তরগুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করে নিলাম। অনেক সময় এমনি ভাবেই মনকে শান্তনা দিই, তোমার দোকানপাট দেখা তো শেষ হয় না কোথাও, রামেশ্বর যাও, সিমলা হিল স্টেশনে যাও, যেখানেই দোকানপাটের জটলা সেখানেই তো তুমি হুমড়ি খেয়ে পড়ো ! কথাগুলো জনান্তিকে আওড়ে নিয়ে একটু মানসিক শান্তি পেলাম আর কি ।
দীঘা দেখার পর একটা দিন এখানে কেটে গেল। স্ত্রী বললেন, চলো চন্দনেশ্বর মন্দির ঘুরে আসি। স্ত্রী আমার পূজা আচ্ছা নিয়ে থাকেন। মন্দির দেখলেই তার পূজা দেওয়ার ইচ্ছে হয়। আর সেই সঙ্গে কোন মানত করে বসেন। স্বামী ছেলে-মেয়ে জামাই সবাইকে সুখে রাখার এমন পূজা পদ্ধতিতে আবার আমার বিশ্বাস নেই। কিন্তু স্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা না দিলে আমার মর্যাদা থাকবে কোথায় ? অগত্যা ঠিক হল নিউ দীঘার পাশেই চন্দনেশ্বর মন্দির আছে তা দেখে আসব। যেতে হবে যখন তখন গাড়ি ঠিক করতে হল। নিউ দিঘার সমুদ্র পার থেকে চন্দনেশ্বর মন্দির বেশি দূর না। এই তিন চার কিলোমিটার হবে। চন্দনেশ্বর মন্দিরের প্রাক ইতিহাস কথার আমি একটা পাতলা বই গত বারই কিনে নিয়ে ছিলাম। স্ত্রীর অনুরোধে আমায় তাঁকে সে ইতিহাস শুনাতেও হয়েছিল। এই মুহূর্তে তার কথা আমার মনে পড়তে লাগলো–


শুনো শুনো ভক্তগন শুনো দিয়া মন,
চন্দনেশ্বরের আবির্ভাবের কথন।–এভাবেই সমস্ত বইটা পাঁচালীর আকারে লেখা। আমি গদ‍্যাকারে লিখলাম–
সুবর্ণরেখার পারে ছিল পিপলি বন্দর। এই বন্দর থেকে তিন ক্রোশ দূরে এক ঘন বিস্তৃত বন । বাংলার পশ্চিম সীমানায় ছিল সেটা, তার দক্ষিণে ছিল সমুদ্র তার চারদিকে বিস্তৃত বালুকা রাশি। এই বনের আশপাশের লোকেরা দেখতে পেত প্রতি রাতে বনের মাঝে অজস্র প্রদীপ জ্বলে থাকে। সবাই এটা ভূতের উপদ্রব বলে ভাবতো। তারা ভীষণ ভয় পেয়ে সে দিকে যেত না। এই জঙ্গলে না না হিংস্র জন্তু জানোয়ারের বাস। বনের মাঝে ছিল বড় এক ঝর্ণা। তার জল গড়িয়ে যেত সমুদ্রে। এই জঙ্গলে অনেক চন্দন বৃক্ষ ছিল। এই ঝর্ণার জল চন্দনের গন্ধে পরিপূর্ণ ছিল। এ জন্য সবাই এই নাম দিয়ে ছিল, চন্দন ঝর্ণা। এই জঙ্গলে নাকি অনেক ভূতেদেরও বাস সে কারণে এ জঙ্গলের অপর নাম হয়েছিল ভূতবন।
এই ঝর্ণার জলে ফুটতো পদ্ম ফুল। ঝর্ণার জল জমে তৈরি হয়ে ছিল এক জলাশয়। এই জলাশয় থেকে সদাই বুদবুদ উঠে আসত। এর জল ছিল দুধের মত, বর্ণ গন্ধ সব মিলিয়ে মনে হত যেন পঞ্চামৃত। এই সব জানত শুধু এখানকার বনবাসীজন। এই ঝর্ণার পারে হোগলা জঙ্গল ছিল।
কিছুকাল পরে লোকের নজর এলো এক মালতি বৃক্ষ। সেটি ছিল বনের দক্ষিণ দিকে, গোচারণভূমির পাশে । এই বৃক্ষের নিচে এক সন্ন্যাসী বসে ধ্যান জপ করেন। মাঝে মাঝে সে সন্ন্যাসী বনের শেষ প্রান্তের মাঠে এসে দেবতাদের বন্দনা গান করেন। সে মধুর গান বনবাসীরা শুনতে পায়। যারা শুনতে পায় তাদের দুঃখ দূর হয়ে যায়।
এই সন্ন্যাসীর মাথায় ছিল জটা। সেই জমার মাঝে যেন অর্ধচন্দ্র বিরাজ করত। তার হাতে ছিল শিবের ত্রিশূল, পরিধানে ছিল ব্যাঘ্রচর্ম। বনের মধ্যে তার অস্তিত্ব বিরাজিত ছিল কিন্তু কেউ তার দর্শন পেত না। তিনি প্রায় অদৃশ্যই থাকতেন। এখানে প্রভাতে ও সন্ধ্যায় এক ষোড়শী তরুণী তাপসীর বেশ ধারণ করে আসত। রূপে ছিল সে সুন্দরী, কামিনী, একেবারে যেন সে ছিল গৌরী সতী ! শিব স্তোত্র গেয়ে সে নারী ঘুরে ঘুরে গান করে বেড়াত। সেই গান শুনতে শতশত লোক এসে হাজির হত, বনের অনেক পশুপাখিরা গান শুনতে আসত। তারপর এক সময় সে নারী তার গান থামিয়ে সবাইকে আশীর্বাদ দিয়ে বনের মধ্যে চলে যেত। সেই নারী ও সন্ন্যাসীকে বনের নির্জনতায় কেউ কেউ নাকি ঘুরে ফিরতে দেখেছে।
তারপর একদিন বঙ্গ নবাবের নাতি সিরাজউদ্দৌলা এই বনের দক্ষিণে ছাউনি ফেলল। সাগর দর্শনে এসে ছিলেন তিনি। চন্দন বনের পাশে তার ছাউনি লেগেছিল। ঝর্ণার পাশে এক দিন সকালে সিরাজ দেখলেন, অপূর্ব এক নারী মাঠে ঘুরেফিরে গান গাইছিল। পশুপাখিরা তাকে ঘিরে ধরেছিল। সিরাজ সে নারীর প্রতি আকর্ষীত হলেন। তিনি স্থানীয় গ্রামের মোড়লকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তাঁর অনুচর ও লোকজন সঙ্গে নিয়ে বনে প্রবেশ করলেন। উদেশ্য ছিল সেই নারীকে পাবার। ঝর্ণার কাছে এসে সবাই দেখল, হাজার হাজার সাপ সবাইকে ঘিরে ধরেছে। কোন মত সেবার সবাই প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে এলো।
সিরাজ তবু হাল ছাড়লেন না। সেই তরুণীকে পাবার জন্যে তিনি ভাবলেন দরকার হলে তোপ দেগে জঙ্গল ধূলিসাৎ করে দেবেন। সাধুকে মেরে ওই তরুণীকে তিনি নিয়ে আসবেন। ঠিক এমনি সময়, মূল পাঁচালির কথা ছিল এই রকম–
“নবাব আলীবর্দীর অসুস্থ খবরে,
সিরাজ গেলেন মুর্শিদাবাদ নগরে।
ধন্য বাবা ভোলানাথ মহিমা তোমার,
ছাড় এই নিশির জ্ঞান নাহি বর্নিবার।”
মাঝখানে আমার ধ্যান ভঙ্গ হল। হঠাৎ খেয়াল হল, স্ত্রী আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলছেন, এই বোবা কালা ! কার চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছো শুনি? গাড়ি থেকে নামার ইচ্ছে আছে কি নেই ?
আরে সত্যি তো দেব মহিমা স্মরণ করতে করতে সব কিছু আমি গুলিয়ে ফেলেছি–আমরা চন্দনেশ্বর মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি !

তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে এলাম। পূজা দিতেই হবে। ফুল বেলপাতা পূজা সামগ্রী নিয়ে আমরা মন্দির চত্ত্বরে প্রবেশ করলাম। দেখা মন্দির, তবু এক বছর পরের চোখে আবার তাকালাম। বেশ বড় মন্দির। মন্দির সংলগ্ন ঘরে পূর্বের দেখা সাধুবাবার দেখা মিলল। বছর ষাটের ওপরে বয়স হবে তাঁর। এই মন্দির দেখাশোনার ভার তার উপরেই ন্যাস্ত। মন্দির দর্শন করে আমি এসে সাধুবাবার সামনে বসলাম। তাঁর মুখে মন্দিরের ইতিহাস আগেই জানতে পেরেছিলাম। তিনি বলে ছিলেন, এই মন্দির নিয়ে লেখা আমাদের একটা বই আছে, চাইলে কিনে নিয়ে পড়তে পারেন। আমি আবার একটু একটু লিখি, ছোটখাটো কিছু একটা লেখার প্রয়াসে বইটা পঁচিশ টাকায় কিনে নিয়ে ছিলাম।
চন্দনেশ্বর আসলে শিবের রূপান্তরিত নাম। একই প্রধান শিব ঠাকুরের বিগ্রহ এখানে স্থাপিত। মন্দিরের আভ্যন্তরে স্থাপিত বাব চন্দনেশ্বরের প্রস্তর বিগ্রহ—

অবশ্য একটু বড় মন্দির হলে প্রধান দেবতার আশপাশ জবরদখল করে নেন অন্য দেবদেবীরা। আসলে এটা মনুষ্য ভক্তের কাজ, তার সঙ্গে স্বার্থ তো জড়িত থেকেই। ছোটখাটো একটা মূর্তি বসিয়ে ধূপ ধুনো জ্বালিয়ে বসে পড়লেই হল। আমার স্ত্রীর মত ভক্ত-অনুসরণকারীর দলের অভাব হয় না। সেই মত ভাবে এখানেও বেশ কিছু দেবদেবী বাসা বেঁধে নিয়েছেন।
এবারও আমি মন্দিরের অফিস ঘরে বসে আছি। সাধু বাবার সামনে ভিড় জমে আছে। চন্দনেশ্বরের আবির্ভাবের কথা আবার আমার মনে এলো–
ঘটনা এমনি ভাবে এগিয়ে যেতে লাগলো। আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজ হলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব। নবাব হয়েও কিন্তু তিনি সেই চন্দন বন ও সেই সুন্দরী নারীর কথা ভোলেননি। অর্ধ লক্ষ সৈন্য নিয়ে প্রথমে কলকাতা তারপর গিয়ে হাজির হলেন সেই চন্দনবনে। মনের কামনা লিপ্সা, সেই সুন্দরী নারীকে তার চাই। আবার তাঁবু ফেললেন তিনি। চন্দন বা ভুত বনের পাশে সে দিন সেই রমণী ও সাধু একবার বেরিয়ে এসে আবার বনে প্রবেশ করে গেলেন। নবাব আর অপেক্ষায় থাকতে পারলেন না। স্থানীয় লোকজন সঙ্গে নিয়ে সৈন্যদের ডাকিয়ে আদেশ করলেন, দেখো হে সৈন্যগণ ! এই জঙ্গল কেটে সাফ করে দাও আর ওই সাধু ও কন্যাকে আমার সামনে নিয়ে আসো। অন্যথায় তোমাদের কারও কাঁধের উপর মাথা থাকবে না জেনো। এর পর কুড়ি হাজার অশ্বারোহী, বাকী সৈন ও স্থানীয় লোকজন মিলে জঙ্গল ঘিরে ফেলল। নবাবের সৈন্যরা জঙ্গলের দিকে এগিয়ে চলল। খানিক পরেই বন্য পশুরা তাদের আক্রমণ করল। শত শত বিষাক্ত নাগ তাদের দংশন করতে লাগলো। তাতে অনেক সৈন্যর মৃত্যু বরণ করল। সিরাজ আরও রেগে গেলেন, এবার তিনি আদেশ দিলেন, তোমরা জঙ্গল জ্বালিয়ে দাও–
আগুন লাগানো হল বনে। চারদিক থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। বনের পশুপাখি সাপ ভয়ে জঙ্গল ছেড়ে পালতে লাগল। এদিকে আকাশে মেঘ দেখা দিল, ঝড় দুর্যোগ ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেল। তাতে নবাবের বহু সৈন্য সব মারা গেল। বনের আগুন নিভে গেলো। এক পরাজিত অসহায় নবাব এমনি এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হলেন। মাথা নত করলেন তিনি। মন থেকে তার ভক্তিভাব উদিত হল। যবন হয়েও তিনি সেই জঙ্গলে হিন্দু দেবদেবীর স্থাপনা করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, সেই সাধু ও রমণী আসলে কোন দেব-দেবী হবে। তিনি স্থানীয় মোড়লকে ডেকে সেই জঙ্গলে জলের বুদবুদ স্থানে পূজার ব্যবস্থা করলেন। সিরাজ পুরীর এক ভিক্ষুক আচার্য ব্রাহ্মণকে নিষ্কর ভূমিতে থাকার ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা লিখিত ভাবে করে দিয়ে গেলেন। দেব মহিমার পাঁচালি গানে তা এমনি ভাবে বর্ণিত হয়েছে–
“এই বলে এ ঘটনা তাম্রের ফলকে,
সিরাজ লিখিয়া দিয়া গেলেন বৃদ্ধরে।
ইতিহাসের পাতায় ইহা নাহি মেলে,
নবাবের সুলিখিত তাঁর ফলক বলে।
আর বলে সেকালের তালপাতা পুঁথি।
বাবার আবির্ভাবের কিংবদন্তি সাথী।”–সে পুরোহিত সেখানে নিয়মিত আমরণ পূজা করে গেলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সন্ন্যাসী ও তরুনীর আর দেখা পাওয়া গেল না। ভক্তের অভাবে সবাই কোথায় যেন চলে গেল, কেউ তা জানে না। জঙ্গল ক্রমশ গভীর ও আরও বিস্তৃত হল। এসব ঘটনার অর্ধশতাব্দীর পর লছমীর জন্ম হল।
হঠাৎ স্মৃতি স্বপ্ন ভাঙলো আমার। চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম, না, আমার স্ত্রী এখনো পূজা দিয়ে ফেরেননি। পূজা দেওয়া অবধি এক সঙ্গেই তো ছিলাম ? স্ত্রীর এত দেরী হবার কারণটা কি ? ও বাবা এগিয়ে গিয়ে দেখি, তিনি মন্দিরের দেয়ালে মাথা খুঁটছেন। আমি তড়িঘড়ি তার পাশে গিয়ে পৌছালাম। বললাম, কি করছো গো তুমি ? মাথা ফেটে যাবে যে ! ভক্তি চোখেও দেখলাম তিনি চোখ পাকিয়ে আমায় বললেন, নাস্তিক !
কি জানি বাবা, তা আমি জানি না। নারকেল একটা কিনে দিয়ে ছিলাম মাত্র, দেবস্থানে গিয়ে আমিও উল্টোপাল্টা কিছু বলে ফেলে ছিলাম বটে। স্ত্রীকে বলেছিলাম, এবার বাবার মাথায় নারকেল ফাটাবো? স্ত্রী গটগট করে তাকালেন আমার দিকে, বললেন, তোমার না বোধগম্য আর হবে না !
–কেন ?
–বাবার মাথায় নারকেল ফোঁড়ে কেউ ?
–না মানে পাথরের তৈরি তো–
–বোধগম্য শূন্য, নাস্তিক একটা তুমি–
পাশে দাঁড়ানো বউটা আমার দিকে তাকিয়ে কেমন যেন হাসলো। সে মুহূর্তে আর কথা বলিনি, নিজেকে সত্যিই বোধগম্যহীন নাস্তিক বলে মনে হয়েছিল। এই দেখুন না, এই লেখাটা লিখবো বলে বসে ছিলাম, সেই শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলেছি। আজকের বিষয়বস্তু ছিল চন্দনেশ্বর যাত্রা।
মনে পড়লো, এক পত্রিকা থেকে কল এসেছিল, এবার একটা ভ্রমণ কাহিনী দেবেন। না, বেশি বড় করবেন না যেন !
এই বড় না করাটা আমার অসুবিধা হয়ে পড়ে। লেখার মধ্যে সীমানা তুলে দেওয়া ভাল লাগে না। দেশ প্রদেশ, মহাদেশ পদ জনপদ ভাগ করতে করতে শেষে লেখার মধ্যেও সীমা টানতে হবে ?
আমার এক পরিচিত সম্পাদক লেখা চাইলেই বলেন, দেখবেন বেশি বগবগাবেন না যেন–
বাবাঃ, অবাক হই আমি। এ ভাবে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার বেড়ে উঠলে আমরা কোন ঘাটে গিয়ে উঠব ?
মাঝে আর এক সম্পাদক তো বলেই ফেলেছিলেন, আপনি বড় টুকলিফাই করে লিখেন।


আমি বলি আজকাল গুগুলে টোকা মারলে কি না জানা যায় বলুন ? আমি তথ্য নিই, নিজের লিখনে– সম্পাদক বললেন, ওই হল–রাগ করবেন না, লেখা পাঠান, যাই হোক আপনার লেখা পাঠকেরা খুব খায়। জানি না বাবা লেখা খায়, না পড়ে ! এমনটা বলার আগেই ঝম শব্দ করে সম্পাদক ফোনের রিসিভারটা রেখে দিলেন। এবার প্রসঙ্গে আসি, চন্দনেশ্বর মন্দিরের বাকি অংশটুকু লিখে ফেলার চেষ্টা করি–
সেই ভক্তি ভূমির আর এক কাহিনী–
ভক্ত লছমীর ইতিকথা
সেই ভূতজঙ্গলের কিছুটা দূরেই দেহলি নামে এক তেলেনী বাস করত। সে গাভির দুধ বেচে সংসার চালাত। তার একমাত্র কন্যার নাম ছিল, লছমী। সে রূপে লক্ষ্মী, গুণে গৌরী ছিল। ওদের পাশের গ্রামে ছিল বাঁকুড়ার জমিদারের এক তহশিলদার। তিনি শ্রীহরি নামে খ্যাত ছিলেন। তাঁর ঘরে লছমী দুধ দিতে যেত। শ্রীহরি তার চলন-বলন ও শ্রীমুখ দেখে বুঝতে পেরে ছিলেন যে লছমী যে সে মেয়ে নয়। লছমীর হস্তরেখা দেখে তিনি বুঝতে পেরে ছিলেন যে লছমী খুবই ভাগ্যবতী নারী। শ্রীহরি লছমীকে বিদ্যা দান করতে চাইলেন।
লছমীর মা বলল, আমরা গরীব–
এ কথা শুনে শ্রী হরি বিনা পয়সায় লছমীর পড়া-লেখার ভার নিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই সব পাঠ শেষ করে, পুরাণাদি পড়তে লাগলো লছমী। এ ভাবে লছমী শিবের বড় ভক্ত হয়ে উঠলো। শিবের নাম ধাম ধ্যান স্তুতি করতে লাগলো। অহরহ জপ করতে লাগল। শিক্ষা পূর্ণ করে সে ঘরে এলো। ঘরে এসেও সে সারাদিন শিবের জব নিয়ে ব্যস্ত থাকল। ভূত বনের পশ্চিম দিকে এক পরিবারের বাস ছিল। সেখানে পুত্র কন্যা নিয়ে তার মা বাস করত। সেই ছেলে, লছমনের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল লছমীর।
শ্বশুরবাড়িতে, সংসারে মন লাগে না লছমীর। সে শিবের আরাধনায় সদা ব্যস্ত থাকে। শাশুড়ি ও ননদ তার উপরে রাগ করে। তারা একদিন লক্ষণকে নালিশ জানাল, বলল, লছমী রাতদিন শিব পূজায় ব্যস্ত থাকে–
লক্ষণ তখন লছমীকে ডেকে বলল, শোন লছমী, তোমার ননদ ও শাশুড়ি ঘরের সব কাজ করে, দিন ভর গাভী চড়ায়। তোমার কি তাদের কাজে সাহায্য করা উচিত নয় ? গুরুজনের সহায়তা করা বউয়ের ধর্ম।
স্বামীর কথা শুনেও লছমী চুপচাপ থাকে। নিত্যদিনের শিব আরাধনা তার আরও বেড়ে যায়। শাশুড়ির আদেশ, ননদের গঞ্জনা, স্বামীর আদেশ সে মানে না। শেষে শাশুড়ি তাকে মারধর করতে শুরু করে। ছেলেকে ডেকে বলে, বউকে তার বাপের বাড়ি দিয়ে যায় !
এরপর লছমীকে সারাদিনের জন্যে গাভী চড়াতে হত। সে আর শিবের নাম নিতে পারে না। তবু সে ভূত বনের ধারে এক বট গাছের নিচে বসে ধ্যান জপ করা শুরু করে। গভীরা সে সময় দূরে কোথায় চলে যায়, আবার সন্ধাতে তারা চলে আসে। তখন লছমী তাদের ঘরে নিয়ে আসে। কিন্তু এবার আর এক সমস্যা দেখা গেলো। গাভীদের দুধ দোয়াতে গেলে আর দুধ পাওয়া যায় না। এবার শাশুড়ি বউকে গাভীর দুধ কোথায় যায় ? প্রশ্ন করে।
তার উত্তর দেয় না লছমী। এমনি চলে সাতদিন। গাভীর দুধ নেই, রাগে ননদ-শাশুড়ি মিলে লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে লছমীকে। লছমী আর সহ্য করতে পারে না। সে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকে আর বলতে থাকে, আমি চোর নই ! আমি চোর নোই !
শাশুড়ি বলে, আমি জানি না ওসব। তুই দগ্ধ চোরকে ধরে আনতে পারলে তবেই জানবো তুই চোর নোস। আজ থেকে তোর খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হল, তুই ঘরের ভেতর কখনও ঢুকবি না।
না খেয়ে লছমীর শরীর আর চলে না। তবু তার মাঝেই সে শিব আরাধনা করে। এ ভাবে না খেয়ে এক দিন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইল। যখন তার জ্ঞান ফিরল সে দেখলো তার গভীরা ভুতজঙ্গলের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। সে উঠে ধীরে ধীরে গাভীদের অনুসরণ করতে লাগলো। দুর্গম সেই চন্দন বনেই ভেতর অনেক পথ হাঁটতে হাঁটতে লছমী খুব পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ল। কাটা গাছে তার শাড়ি ছিঁড়ে গেছে, শরীর ক্ষতবিক্ষত হল। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এল। সাঁঝের আঁধার নামল।
সে বনে চন্দন বৃক্ষ আছে, আছে চম্পা, নাগেশ্বর আরও কত তরুবর। চন্দনার ঝর্ণার জলাশয়ের কুলে কুলে হুগলা জঙ্গল–জায়গাটা ফুলের গন্ধে ম ম করছে। এখানে এসে থামলো লছমী। সে হঠাৎ দেখতে পেল, একটা জায়গায় ধীরে ধীরে মাটি দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল। আর তখনই চারদিক থেকে দুন্দুভি বেজে উঠল। বিল্ল বৃক্ষ থেকে পত্র ঝরে পড়তে লাগলো। নানা পুষ্প, চাপা, নাগেশ্বর, ধুতুরা আকাশ থেকে ঝরে পড়তে লাগলো। কোথা থেকে শঙ্খ, ঘণ্টাধ্বনি বেজে উঠল, ধূপধুনা গন্ধে ভরপুর হয়ে গেল চারদিক। লছমী দেখল, গাভীর বাট থেকে সেই দ্বিখন্ডিত মাটির কুণ্ডে দুধ গড়িয়ে পড়ল। তারপর এক সময় তার গাভীরা ফিরে গেল আর ধীরে ধীরে গর্তের মুখ বন্ধ হয়ে গেল।
বৃক্ষের আড়াল থেকে সব কিছুই দেখতে পাচ্ছিল লছমী। এসব দেখে স্তম্ভিত হল সে। এ কোন দৈব ঘটনা ? বুঝতে পারল সে। সে ভাবলো, যাই হোক, এই গর্তেই আছে দুধ চোর। চোরকে ধরে নিয়ে তবেই আমি ঘরে ফিরবো। লছমী তখন দিনরাত এখানে বসে শংকর ভগবানকে ডাকতে থাকলো। কোথায় হরিহর–ভোলানাথ –কোথায় তুমি মহেশ্বর ? লছমী শংকর ভোলেনাথকে ডেকেই চললো। একটা সময় এলো, তার দুঃখে বনের পশুপাখি, গাছপালা, লতাগুল্ম কেঁদে আকুল হল। এই ভাবে তিন দিন ধরে দিবানিশি সে ভোলানাথকে ডেকে চলেছে। অবশেষে সত্যি এক দিন শঙ্কর ভোলানাথ প্রকট হলেন। লছমী চোখ খুলে তাকে দেখতে পেল। আনন্দে তার চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এলো। প্রসন্ন হয়ে শিব বললেন, আমার কথা শোন–তোর ডাকে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। এবার বল কেন আমায় তুই এত ডাকছিস ?
লছমী বলল, আমায় বলে দাও বাবা দুগ্ধ চোর কে ?
–আমি সেই চোর। একথা সত্যি, আমি বহুদিন ধরে এই বনে আছি। নবাব সিরাজদুল্লা তা জানে। তুই সরল সাদাসিধে আমায় সদাসর্বদা ডাকিস, তাই না থাকতে পেরে তোকে দেখা দিয়েছি। এবার বল কি চাস তুই ?
লছমী বলল, আমি কিছুই চাই না, আমি যেন তোমায় জীবনভর ডেকে যেতে পারি।
শিব তুষ্ট হলেন, তাই হবে–আমি তোর জন্য এই কুন্ডে বাস করব। এখানে শুধু এই কুন্ডটা থাকবে। এই কুন্ডে যে দুধ জল পঞ্চামৃত দিয়ে আমার স্তুতি করবে তার মনোবাঞ্ছা পূরণ হবে। চাঁপা নাগেশ্বর ধুতুরায় আমি সন্তুষ্ট হবো। যে বেল পত্র ফুলে আমায় অভিষিক্ত করবে তার মনোবাঞ্ছা অবশ্যই পূর্ণ হবে। আমার আশীর্বাদে নিঃসন্তান সন্তান পাবে, দুরারোগ্য রোগ মুক্ত হবে, মূর্খরা পণ্ডিত হবে, কন্যারা যোগ্য স্বামী পাবে। আমার মহিমা সব ভক্ত প্রচার করবে। আমার মহিমা যারা মধুর ভাষায় বর্ণনা করবে, শুদ্ধ মনে মুক্ত হয়ে পাঠ করবে, তাদের সবার জন্য আমি চন্দনেশ্বরে বিরাজ করব। চন্দনেশ্বর বললেন–
‘”হুগলা বনেতে পীঠ তাই তীর্থ নাম
হবে খ্যাত হুগলি চন্দনেশ্বর ধাম।”
এদিকে লছমীর স্বামী শাশুড়ি ননদ তিন দিন ধরে লছমীকে খুঁজে খুঁজে অস্থির হয়ে গেল। কোথাও তারা তাকে পেলো না। এবার মহেশ্বর লছমীর শাশুড়িকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে সব ঘটনা খুলে বললেন, তোমরা অযথা লছমীকে গঞ্জনা দিয়েছো। আসলে দুগ্ধ চোর তো ছিলাম আমি। লছমী আমার পরম ভক্ত। ওকে তোমরা ঘরে নিয়ে যাও !
সব জানতে পেরে শাশুড়ি ছেলে ননদ বনে এসে উপস্থিত হল। তারা দেখল, লছমী সেই শিব স্থানের কুন্ডের পাশে তখনও ধ্যানস্থ বসে আছে। ওরা সমাদরে লছমীকে ঘরে নিয়ে এল।
তারপর থেকে এখানকার জঙ্গল ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে গেল। বহু ভক্ত পণ্ডিতদের সমাগম হল এখানে। কালক্রমে এখানে স্থাপনা হল মন্দির–বাবা চন্দনেশ্বরের মন্দির। সে সঙ্গে পান্থশালা, বিশ্রাম ভবন তৈরি হল। সমস্ত বাংলা-বিহার-উরিষ্যা থেকে ভক্তরা এখানে এসে পূজা দিয়ে যার যার মনের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  •  
    9
    Shares
  • 9
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •