• 25
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    25
    Shares

জন্মদিনের শুভেচ্ছা

কবি প্রবালকুমার বসু

আমি যখনই ভালোবাসতে চেয়েছি
বারবার যখনই ভালোবাসতে গিয়েছি
অচেনা অস্পষ্ট একটা মুখ
বৃষ্টিভেজা বিকেলের সোনালী আলোর মত উদ্বেগহীন
আমাকে ক্রমাগত বিপর্যস্ত করে
মনে করিয়ে দিয়েছে ভালোবাসতে না পারার অক্ষমতা
সেই মুখটা যে কার, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারিনি

যখনই ভালোবাসতে চেয়েছি – প্রবালকুমার বসু

Celebrating Poetic Peregrination In The Poems Of Prabal Kumar Basu

Sreetanwi Chakraborty

Prabal Kumar Basu (Bengali: প্রবালকুমার বসু, born 1960) is an Indian poet, essayist and editor. Writing in his mother tongue Bengali, Prabal enjoys a distinguished position in the national literary scenario as a post-independent Bengali poet. His works are significant in the long and rich tradition of Bengali literature. If we consider the kind of new wave and experimentation that is related to the structural paradigms and stylistic innovation in terms of modern Bengali poetry, we find how Basu’s poetry becomes an appropriate example of the same:

“ I have spoken a lot.”, his words almost take us to a sudden halt, with the full stop, continuing, in anticipation to what the next few lines highlight:

“So much utterances before sunrise

Seem superfluous

To people, and even to me.” (‘Spoken Words’ from As I Wander Along)

Or else, when we discover how in instances of an intensified poetic moment, the poet, the self, the essence that is present in ‘absolute secrecy’ strives constantly tries to:

“Trying to forget all these

I might kill myself secretly.” (‘n Absolute Secrecy’ from As I Wander Along)

When we talk of the non-linear, modern, imagistic ideas and patterns interwoven in an ambidextrous manner, we consider the poems of Basu to be of a global nature. In fact, travelling, trotting across the globe has been a part of his life, due to official purposes and poetic peregrinations. Prabal has been an Invitee at the 3rd Wellington International Poetry Festival in New Zealand (2005), he was also invited to the 4th World Haiku Conference in Tokyo (2007) and a wonderful experience that he shared with me talking about his days spent at the President House, India, for fifteen days to join “Writers & Artists In-Residence” Program (2017), where he was invited by the then President of India, late Shri Pranab Mukherjee.

It is true that poetry is not just an esoteric pursuit cultivated only in the serpentine mazy patterns of dream, but it is also a rigorous exercise that involves reading, having a distinct worldview, and a sane, inobtrusive knowledge of the realms that are not restricted only to the domains of literary art. Prabal’s poems are a curious amalgamation of music, art, surrealistic vision at times, and of course, emblematic of the democratic vistas that a modern human mind always searches for. Some of his major works that include Tumi i Pratham (1983), Byaktigata Smritistambher Pashe (1987), Sthayee Abaas O sthayee Thikana (1989), Janmobeej (1993), Yapanchitra (1994), Isworer Mukh (1998), Jemon Kore Gaichhe Akaash (2002), Manobanchha Ek Bindu Jol (2004), KothaTheke Shuru Karbo (2006), Shreshtho Kabita (2007), Aapnakei Thik Karte Hobe Gantyabyo (2008), Adharma Katha (2009) and the English edited volume titled Signposts: Bengali Poetry Since Independence all coincide with this global poet, the wandering minstrel who can love beyond limit, who can communicate through an advanced style, extended and simple metaphor varieties, condensed and swift musical and rhythmical pattern at the same time: If we want to realize what poetic magic is, then of course, Prabal is the finest poetic magician of our times. To reiterate what he himself writes:

“ The touch which carries fire

The touch which blossoms a bud

The touch which breaks all relationships

balite joler dag

To feel the sensation, one craves for such a touch.” (‘The Touch’ from As I Wander Along)

It is in fact, this touch of fire, the sweet sensation and the deft poetical brush strokes that we find in his poems and also in his verse-drama, sometimes, of course, if we want to soar somewhere beyond the reachable domains of what we have read in Federico Garcia Lorca.

Here’s wishing a very HAPPY AND HEALTHY BIRTHDAY to dear poet Prabal Kumar Basu. Let your lines keep on playing an orchestra of human emotions, forever.

insightfulsite
CONTENT | ISSUE 14 - 20TH SEPT, 2020

KafeHouse

ধারাবাহিক
মিছিলে নাটকে কবিতায় গানে – আরণ্যক বসু

কবিতা

নদী – রাস্তার গল্প- তীর্থঙ্কর সুমিত
স্মৃতিতে আঁটকে থাকে পাথরের গাছ – পিনাকী রঞ্জন মিত্র 
সময় কথা বলে – প্রীতিলতা রায় (হালদার)
রূপান্তর – তনিমা সাহা

Short Story
LEARNT IT THE HARD WAY!  – Ipsita Seth Biswas

গল্প
টেরিলিনের শার্ট – সমাজ বসু
চেয়ার – তনিমা সাহা

আরণ্যক বসু

নদী – রাস্তার গল্প
তীর্থঙ্কর সুমিত

এই কথাগুলো একদিন তুমি বলেছিলে
বৃষ্টিতে মজে যাওয়া নদী
আজ সৃষ্টির উল্লাসে মেতেছে
তুমি ও পা বাড়িয়েছো
সাবধানে …
আজও ছেলের দল
স্কুল পালিয়ে খেলার মাঠে
অথচ
বড় মেঘ ___
##
কখন যে নদীটা রাস্তা হয়ে গেলো
বুঝতে পারলাম না।

স্মৃতিতে আঁটকে থাকে পাথরের গাছ
পিনাকী রঞ্জন মিত্র 

পাতারা কথা বলে আমি বুঝতে পারি না
কীটপতঙ্গ, পশু, পাখি কথা বলে
জোরে জোরে অথবা আস্তে শোনা যায় বারবার,
আমি বুঝতে পারি না
ওরা কাছে এসে অভিমানে দূরে সরে যায়
নিয়ে যায় ঘর সংসার,
ফেলে যায় বাসা খড়কুটো ঘরের চালায় এক কোণে
মানুষের কাছে সেটা ফেলা হবে ডাস্টবিনে

LEARNT IT THE HARD WAY!

Ipsita Seth Biswas

Walking down memory lane, I vividly remember how as children and as young adults we eagerly waited for a year to end. How we made elaborate plans to bid adieu to the year we spent 365 days with. Even after growing up and having seen the hideous side of life, this was the time we often gathered to celebrate and welcome the new year. A year that would leave behind unpleasant memories and pave the way for alacrity!

Year 2020 is unlike other years, however. Alas! Just half way through and each one of us is despondent. In a period of few months we witnessed blood-curdling violence on humans and animals, a pandemic, raging wildfires, devastating cyclones, spine-chilling earthquakes, loss of lives, and loss of livelihoods. The list seems endless! Nonetheless, where it brought adversities on the one hand, it taught us valuable lessons on the other. Yes you read that right.

We learnt that nature is all powerful and human beings are frail in comparison. We may have mastered the art of living but we can never be the masters ourselves. We are equivalent to other living creatures in the hands of Mother Nature. The cognitive faculties that we are blessed with are not meant to tame but heal others. We also learnt that as human beings we can survive happily with limited resources. Exploiting the resources is not a necessity but a luxury. The only regret is we learnt all of these the hard way.

So can’t we take a detour and walk the path that is forgotten? We can definitely. Spending quality time with family members, being compassionate towards the less privileged ones, accepting and acknowledging differences, learning the virtue of coexistence, taking responsibility of our actions, to mention a few, are few things we can begin with. All it takes is being humane; won’t cost us an extra penny.

Sadly, the virtues that make us human are somehow soiled and we needed a bunch of catastrophes to realize and dust it away.

Thank you 2020, you came.

ছোট গল্প
 
টেরিলিনের শার্ট
সমাজ বসু
 
         টাইয়ের নটটা বাঁধতে বাঁধতেই দরজা খুলল অলীক। 
    — আরে,কালী দা তুমি! এসো এসো, ভেতরে এসো। সাড়ে তিন বছর পর তোমায় দেখলাম। অলীকের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর  কালী দা মুখ খুলল।
    — তুমি বুঝি অফিস যাচ্ছ? সেই বিদেশে যাবার আগে তোমার সাথে দেখা হয়েছিল,তারপর এই আজ। কথার ফাঁকে কালী দার চোখ চলে যায় দেওয়ালে টাঙানো ছবিতে।
     —একি, সাহেব নেই? কবে চলে গেলেন?
       — এই তো বছর দুয়েক হলো। মা একা, তাই কলকাতায় ফিরে এলাম। এখানে আসার পর নানান কাজে ব্যাস্ত থাকায় আর দেখা করতে পারিনি।
    — না, না সে ঠিক আছে। সাহেবের কি হয়েছিল?
    — আসলে কি জানো তো, তোমার জেলে যাবার পর থেকেই বাপি কেমন মুষড়ে পড়েছিল। কোন কাজে মন ছিল না। সাইটে যেতে হয় তাই যেত। অফিস থেকে ফিরে সব কথা হবে। তোমাকে আজ থাকতে হবে কিন্তু কালী দা। 
      কালী দার সব আপত্তি নাকচ করে,তাকে মায়ের জিম্মায় ছেড়ে অলীক বেড়িয়ে পড়ল।
       কালী মজুমদার অলীকদের প্রায় তিরিশ বছরের পুরনো বিশ্বস্ত ড্রাইভার। অলীকের বাবা, সৌগত রায় এই কালী দাকে সঙ্গে নিয়েই আলিপুর শো রুম থেকে জীবনে প্রথম গাড়ি কিনেছিলেন। আম্বাসাডার। হালকা নীল রঙটা কালী দাই পছন্দ করেছিল। সৌগত বাবু কালী দাকে খুব বিশ্বাস করতেন। কালি দাও সাহেব বলতে অজ্ঞান। কালী দা এই বাড়ির শুধু ড্রাইভারই নয়,সদস্যও বটে। সৌগত বাবুকে ব্যাবসার প্রয়োজনে প্রায়শ কলকাতার বাইরে থাকতে হতো। বাড়ির সব ঝক্কিঝামেলা কালী দাই সামলেছে। একটু বড় হতেই অলীকের যত আবদার কালী দার কাছেই। 
     — শোনো কালী,বাপ্পাকে(অলীকের ডাক নাম)আশকারা দিয়ে মাথায় তুলো না। যা চাইবে সঙ্গে সঙ্গে কিনে দেবে না।   
      — সাহেব,ও আপনি ভাববেন না। বাপ্পা আমার কোলেপিঠেই বড় হচ্ছে, তাই ওর দু একটা বায়না রাখি। 
     — সেইজন্যই তো ও সবসময় তোমাকেই চায়। এখন থেকে ভাবছি তোমার মাইনেটা একটু বাড়াতে হবে। তুমি যে হারে বাপ্পার জন্য খরচ করছ,তাতে তোমার হাতে টাকা তো থাকেই না। 
       এইরকম আকাশের মত মন ছিল সাহেবের। সৌগত বাবুর কথা মনে পড়তেই চোখ দুটো ভিজে কালী দার। মানুষটার অগাধ বিশ্বাস ছিল তার ওপর। অমন সুন্দর একটা মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সেই দিনটার দুর্ঘটনায় দুবার ভাবেনি সে। 
      — সাহেব,আজ এই অবস্থায় আপনাকে আমি কিছুতেই গাড়ি চালাতে দেব না। 
     — তোমার কোন ভয় নেই কালী। আমি ঠিক চালিয়ে নিয়ে যাবো। কেন তোমার মনে নেই, তুমি অসুস্থতার জন্য দিন পনেরো আসোনি,আমি দিব্যি চালিয়েছিলাম।
      সাহেবের এই একটা  অভ্যাস ছিল। সপ্তাহের শেষে তার বারে যাওয়া চাই। সেইদিন সব কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বার থেকে বেরিয়েই সাহেবের জেদ শুরু হয়েছিল। রীতিমত অপ্রকৃতিস্থ মানুষটার জেদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল তাকে। 
       তখন রাস্তায় এত সিগন্যাল ছিল না। রাত দশটার পর ট্রাফিক পুলিশও উধাও হয়ে যেত। আম্বাসাডারের পিকআপ ঠিকই ছিল। হঠাৎ যেন একটা তীব্র আলোর ঝলকানি সাহেবের মুখে এসে পড়তেই, সেই দুর্ঘটনা। রাস্তার ধারে ছোট একটা বন্ধ চায়ের দোকান ঘেঁষা ল্যাম্পপোস্টের ধাক্কায় সব দৃশ্য স্তব্দ। স্টিয়ারিইং এ সাহেবের মাথা। কালী দার আজ সবকিছু নতুন করে মনে পড়ছে। 
     
       কিছুক্ষণ পর কালী দা ঘাটালে নিজের বাড়িতে  ফিরে যাবে। চায়ের পাট শেষ হতেই অলীকের হাতে একটা ছোট প্যাকেট তুলে দেয় কালী দা।
     — বাপ্পা তোমার মনে  আছে, তোমার চাকরির প্রথম টাকায় তুমি সাহেবকে একটা টেরিলিনের শার্ট দিয়েছিলে? কালী দার প্রশ্ন অলীককে ধাঁধায় ফেলে। প্যাকেট খুলতে খুলতেই অলীক জিজ্ঞেস করে, কিন্তু এত বছর পর হঠাৎ সেই জামার কথা? প্যাকেট থেকে জামাটা বের করে  অবাক হয়ে যায় অলীক।
     — একি! এ তো বাপির সেই জামাটাই। তোমার কাছে গেল কিভাবে? জামার ভাঁজ খুলতেই অলীকের আরো একবার বিষ্ময়ের পালা। ডান দিকে কাঁধের কাছে রক্তের দাগ,যা ধোওয়ার পরেও যায়নি। 
     — কালী দা,এই জামাটাই কি বাপি সেদিন পরেছিল? আমার মনে হয় তুমি কিছু একটা লুকোচ্ছ। 
    — আরে না, কিছুই লুকোচ্ছি না। সাহেব কে দেওয়া তোমার উপহারটা ফিরিয়ে দিতে এলাম। কালী দা সত্যিটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে।
      — কালী দা,আজ তোমাকে সত্যি বলতে হবে। অলীক কালী দার 
ডান হাতটা নিজের মাথায় টেনে আনে।
     — একি করছ বাপ্পা। 
    — দ্যাখো কালী দা,আজ আর সেই আম্বাসাডার নেই। বাপিও নেই। অহেতুক সত্যিটা গোপন রেখে, কষ্ট পেও না। আজ তোমাকে সব বলতেই হবে।
    অলীকের কথায় কালী দা কিছুক্ষণ নির্বাক থাকার পর নীরবতা ভাঙে।
      — সত্যিটা কি জানতেই হবে? কালী দা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় অলীককে।
    — কালী দা আমাদের পরিবারের তুমি একজন  সক্রিয় সদস্য ছিলে,আছো এবং থাকবে। মা আর বাপির মতই তুমিও আমাকে স্নেহ দিয়েছ। আমি কিছুই ভুলিনি। কাজেই তোমার ব্যাক্তিগত কথা জানার অধিকার আমার আছে।
    অলীকের বিশ্বস্ত স্বীকৃতির কাছে কালী দাকে হার মানতে হয়। 
    — আমি বহুদিন সাহেবের নুন খেয়েছি।তাই ভেবেছিলাম,নুনের দাম ফিরিয়ে দিতে হবে।তাই বিন্দুমাত্র দেরি না করে,সেইদিন তোমার বাপির এই রক্তমাখা টেরিলিনের শার্টটা গায়ে দিয়ে,সাহেবকে অপরাধের হাত থেকে বাঁচিয়ে আমি আমার পবিত্র কর্তব্য পালন করেছিলাম।
     কালী দার কথা শুনে  অলীক হতভম্ব হয়ে যায়। বিষ্ময়ের জাল তাকে বেঁধে ফেলে।  কালী দার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সে। একজন মানুষ শুধু মনিব ও তার পরিবারের স্বার্থে, নিজের জীবনের অমূল্য কয়েকটা বছর বিসর্জন দিতে পারে,সে ঈশ্বর না হয়ে মানুষ হতে পারে না। 
    একসময় কালী দাকে জড়িয়ে বাচ্চা ছেলের মত ডুকরে ওঠে অলীক। আর কালী দা তার আদরের বাপ্পার মাথায় স্নেহের হাত রাখে।

Publish Your E-Book at INR 600/- 

Mail us: insightfulsite@gmail.com

সময় কথা বলে
প্রীতিলতা রায় (হালদার )

যে দিন নিজেকে চিনতে পেরেছিলাম
সেই দিন প্রথম  –
                 ছাল-বাকলে লজ্জা ঢাকতে শুরু  করেছিলাম।

তারপর শাড়ি-সালোয়ার , জিন্স-টপ
ক্রমশ নিজেকে খুঁজে নিতে গভীরে নামলাম …

ঠিক তখনই শূন্যতা এঁকেছ
শূন্যতা বরাবর  বিপন্নতা  মুড়েছ

আজ আমি সময়ের হাত ধরে তোমার সামনে এসে দাড়ালাম ।

 

Book your ads for Pujabarshiki now

 রূপান্তর

 তনিমা সাহা

     নমস্কার, আমি বিনীত, সেই শীমূলডিঙ্গার মস্তো এক বংশের,
মস্তো এক পরিবারের,
           একমাত্র রাজকুমার;
 পরিবারের সবাই করে আদর,শোনে সবকথা-
রায়বংশের ছেলে হওয়া কী আর চাট্টিখানি কথা;
চলছিল সবই ঠিকই হঠাৎ এক কালবৈশাখী ঝড়,
ওলোট-পালট দিল করে আমার অন্তরের ঘরদোর,

★★★★★★★★★★★★★

এখন শুধু মনে হয় ঈশশ্ হতে পারতাম যদি মেয়ে, বাঁধতে পারতাম চুল, সাজতেও পারতাম কতো,
 রান্নাবাটি, পুতুল নিয়ে খেলতে আমার-
                        বড়ই ভাল লাগে
   পুতুলের মতো সাজতে কেন যে মন কাঁদে;
    মনের ভেতর তোলপাড় করে উঠে অনুভূতি সকল,       
        আবেগের মুষ্ঠিবদ্ধ শৃঙ্খলে-
     মনের সাথে আমার সম্পর্ক যেন লেলিহান এক  যুদ্ধক্ষেত্র;

★★★★★★★★★★★★★

মা যেন কেমন করে বুঝতে পারে আমার মনের কথা,
বাবা থেকে লুকিয়ে শুধু আঁচল চেপে কাঁদে,
মানতে পারিনি জানোতো মনের এই রূপান্তর;
কী বলবে সমাজ!করবে ছিঃ,ছিঃএই লোকলোকান্তর,
লজ্জা নিয়ে বাঁচার চেয়ে যেন মরে যাওয়াটা শ্রেয়;
ব্লেড হাত বসে আমি কূয়োতলায় ভাবছি এক পোচেই
   করে দেব এই জীবন সাবার;

★★★★★★★★★★★★★

কলেজের প্রিন্সিপাল এখন আমি বিনীতা রায়,
ভাগ্যিস সেদিন বাবা এসে আঁকড়ে ধরেছিলেন 
               আমার কম্পিত হাত;
আমার জন্য ছাড়লেন বাড়ি, ছাড়লেন নিজের পুরোনো শহর,
বললেন,”ঘাবরাস না তুই একেবারেই, আছি আমরা পাশে তোর সবসময়”;
রূপান্তরিত আমি,
রূপান্তরিত আমার পিতা-মাতা,
 রূপান্তরিত এই সমাজ,
 তবুও যে কেন আজও লড়তে আমার মতো সব-  
রূপান্তরকামীদের।

Advertise with us

Publish your ads in Pujabarshiki 2020

Full Page- INR 600 | Half-Page- INR 300 | Classifieds INR 150

Mail your ads to insightfulsite@gmail.com

গল্প :-

চেয়ার

 তনিমা সাহা

গড়িয়াহাটের মোড়ে বাসন্তীদেবী কলেজটার চৌহদ্দি ছাড়িয়ে বড়ো রাস্তা বরাবর যে দোতলা বাড়ীটি রয়েছে, সেটি হলো প্রাণকেষ্ট বাবুর বাড়ী| পৃথিবী এধার থেকে ওধার হয়ে গেলেও প্রাণকেষ্টবাবু নিজের বসত-বাড়ীটি ছেড়ে কোথাও গিয়ে এক রাতও কাটান নি| যাদের নিজের বিছানা, নিজের বালিশ ছাড়া ঘুম হয় না, প্রাণকেষ্ট বাবু সেই দলেই পড়েন| আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক তেমন ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে নেই| কারণটা আর কিছুই না, ঐ উনি পরনিন্দা-পরচর্চ্চা করাটা একদমই পছন্দ করেন না| দূর-সম্পর্কের এক পিসীমা আছেন| দেখা করতে যান ঠিকই আবার রাতের মধ্যেই ফিরে আসেন| উনি যে পাড়াটিতে থাকেন সে পাড়ার একটি ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ‘শারদ পত্রিকা’ নামে একটি ম্যাগাজিন বেড়োয়| যেখানে জরুরী তথ্য, প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বারের পাশাপাশি পাড়ার বাসীন্দাদের লেখা কবিতা, গল্প বা যারা হাতের কাজ জানেন সেই হাতের কাজের ছবি, হোম ডেলিভারীদের ঠিকানা সুদ্ধু ফোন নাম্বার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের সাথে প্রকাশিত হয়| সেই পত্রিকাটিতে প্রানকেষ্টবাবু ছোটো গল্প লেখেন| চাকরীসূত্রে দেশে-বিদেশে অনেক জায়গায় গেছেন, সেই সমস্ত অভিজ্ঞতা গুলোকেই গল্পের আকারে তুলে ধরেন| পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে উনার বেশ লাগে আর তাছাড়া অবসর জীবনে সময়টাও ভালই কাটে|

একদিন সকালে প্রাণকেষ্টবাবু বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছিলেন| হঠাৎ মড়্ মড়্ মড়্ মচাৎ …. যে চেয়ারটিতে বসে প্রাণকেষ্টবাবু চা খাচ্ছিলেন,সেটা ভেঙ্গে গিয়ে উনাকে নিয়ে হুরমুড়িয়ে পড়লো| কিছু ভারী জিনিষ পড়ার আওয়াজ শুনে ঠিকে কাজের লোক বাসন্তী দৌঁড়ে বারান্দায় এসে প্রাণকেষ্ট বাবুকে পড়ে থাকতে দেখে কোনোরকমে হাত ধরে টেনে ওঠালো| তারপর ধরে ধরে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটা সোফায় বসিয়ে বলল,” পড়ে গেলে কী করে দাদাবাবু, চেয়ারটাও ভেঙ্গে গেল| আহারে! চেয়ারখানা তোমার বড়ো সাধের ছিল| তুমি এইখানেই বসে থাকো, আমি দৌঁড়ে গিয়ে একবার অনিশ ডাক্তারকে খবর গেই, বুঝলে| তুমি কিন্তু নড়ো না এখান থেকে| আমি এ যাব, এই আসবো”| 

ডাক্তার অনিশ এসে প্রেসার, সুগার মেপে দেখলেন সব ঠিক আছে| তারপর হাত-পা নাড়িয়ে, ওনাকে একটু হাঁটিয়ে দেখলেন যে তেমন কোনো চোট পায় নি| তাও ব্যাথার জন্য একটা ওয়েন্টমেন্ট আর একটা ট্যাবলেট লিখে প্রেসক্রিপসনটা হাতে ধরিয়ে দিতে গিয়ে দেখেন যে, প্রাণকেষ্টবাবু ভীষণ মনমরা, দুঃখী দুঃখী একটা মুখ করে হয়ে বসে আছেন| অনিশ ডাক্তার বললেন,”কি হে ভায়া! মন খারাপ কেন? ভগবান ধন্যবাদ দাও যে কোথাও চোট লাগেনি| নইলে এই বয়সে হাড়-গোড় ভাঙ্গলে খুব মুশকিলে পড়তে”| একটু রাগতঃ স্বরে প্রাণকেষ্টবাবু বললেন,”দূর মশাই, চোট নিয়ে আমি মোটেই ভাবছি না| চেয়ারখানার জন্য বড্ড কষ্ট হচ্ছে, ওটা আমার বিয়েতে পাওয়া, খাঁটি সেগুন কাঠের জিনিষ, বুঝলে| স্ত্রী গত হবার পর থেকে ওই চেয়ারটাই ছিল আমার স্মৃতি রোমন্থনের জায়গা| চেয়ারটাতে বসে,চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের একসাথে কাটানো সব মূহুর্তগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতো| ও তুমি বুঝবে না| বিয়েই করলেনা, তো প্রেম-ভালবাসা কী ছাই বুঝবে”| ডাক্তার অনিশ বললেন,” না ভায়া, আমার মধ্যে অত প্রেম নেই, তবে বাস্তবিকতাটা যথেষ্ঠ আছে”| প্রাণকেষ্টবাবুর হাঁ করা মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,” যদি অতই পেয়ারের ছিল চেয়ারটা তবে সেটাকে ঘরে ঢুকিয়ে রাখলেই পারতে| বাইরে থেকে থেকে রোদে, জলে কমজোড় হতো না”| কথাটা অবশ্য ঠিক| আসলে প্রাণকেষ্টবাবু বারান্দায় বসতে বড্ড ভালবাসেন| বারান্দায় বসে বসে বর্ষাকালে বৃষ্টি দেখা , শীতকালে রোদ পোহানো, গরমে যখন ঘরের ভেতরে হাঁস-ফাঁস করেন তখন বিকেলে বারান্দায় বসে হাওয়া খাওয়া | ভারী চেয়ার বলে ঘরে-বাইরে টানা-হ্যাঁচড়া করাও মুশকিল, তাই বারান্দায় রেখেছিলেন চেয়ারটাকে| সরাসরি রোদ বা জল কোনোটাই লাগতো না তার গায়ে| সামনে একটা ছোটো চৌকোনা টেবিলও রেখেছেন লেখালেখির জন্য| হয়তো পুরেনোই হয়ে গেছিলো চেয়ারখানা| আর তাছাড়া বাইরের খোলা পরিবেশে যেন উনি শ্বাস নিতে পারেন| কিন্তু অত কথা কী আর ওই বুড়ো অনিশ ডাক্তার বুঝবে| তাই চুপ করেই রইলেন| বাসন্তীও যাবার আগে পই পই করে বলে গেল যে মন খারাপ না করে বাইরে বেড়িয়ে আরেকটা চেয়ার কিনে আনতে| এখন নাকি হরেক রকম চেয়ার পাওয়া যায় দোকানে| প্রাণকেষ্টবাবু খুব একটা আসবাবপত্র কেনেন না তাই সেরকম ধারনাও নেই ঐ ব্যাপারে| প্রাণকেষ্টবাবুও ভাবলেন চেয়ার তো একখানা লাগবেই| সামনের মাসেই ‘শারদ পত্রিকা’টি বেরোবে, সেখানে দেবার জন্য একটা গল্প ভেবে রেখেছেন| স্থির করলেন বিকেলেই বেড়িয়ে একখানা চেয়ার কিনে আনবেন|

বিকেলের দিকে বেড়িয়ে বেশ কয়েকটা ফার্নিচারের দোকান ঘুরেও মনমতো একটা চেয়ার পেলেন না|মনে মনে বড়োই বিরক্ত হলেন, ভাবলেন,”কি যে ছাতা-মাথা জিনিষ বানায় কোম্পানীগুলো, দাম অনুযায়ি জিনিষই নয়| আমাদের সময় করিৎকর্ম্মা কারিগড়েরা নিপূণ হাতে কাঠের কাজ করতো| এখন তো আর সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই”| ভাবতে ভাবতে রাস্তাটা ধরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন| হঠাৎ দেখলেন রাস্তাটা বেঁকে গিয়ে একটা গলিতে ঢুকেছে| আর গলির মুখেই একটা বড়ো ফার্নিচারের দোকান| সেখানে হোর্ডিংটায় জ্বলজ্বল করছে ‘এখানে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরী আসবাবপত্র বিক্রি হয়’| স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন, যাক এতক্ষণে একটা পছন্দের দোকান পেলেন| কিন্তু ভারী আশ্চর্য্যও হলেন, এত বছরে তো কোনোদিন এই গলিতে কোনো ফার্নিচারের দোকান দেখেন নি, পরে ভাবলেন হয়তো নতুন খুলেছে| তাছাড়া উনি তো মাস চারেক এদিকটায় আসেন নি|

দোকানটায় ঢুকতেই দোকানের মালিক নিজেই হাত-জোড় করে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন| একটু অবাকও হলেন কোনো কর্মচারীকে না দেখে| দোকানের মালিক বিশ্বম্বরবাবুকে বললেন যে একটি আরামদায়ক উৎকৃষ্ট চেয়ার দেখাতে| অনেক রকম চেয়ারও দেখালেন, কিন্তু কোনোটাই উনার মনে ধরলো না| ফিরেই আসছিলেন, হঠাৎ চোখ গেল কোনার দিকে নীলাভ গদি দেওয়া একটা বাদামীরঙয়ের চেয়ারের উপর| বেশ সুন্দর আর ছিমছাম্| ওটাকেই নেবেন বলে স্থির করলেন| দরদাম করে হাজার টাকায় চেয়ারটা কিনে নিলেন| বাসন্তী দেখেই বলল,” দাদাবাবু চেয়ারখানা কিন্তু দারুন হয়েছে”| গদগদ হয়ে বললেন,”বলছিস্ তাহলে”| 
এবার চেয়ারটিকে ঘরের ভেতরে রাখলেন| 

চেয়ারটিকে কিনে আনার পর থেকেই সেটার প্রতি এক অদ্ভূত আকর্ষণ বোধ করতে লাগলেন| যেন চেয়ারটা টানছে উনাকে| রাতে তারাতারি খাওয়া-দাওয়া শেষ করে চেয়ারটা নিয়ে ডাইনিং টেবিলের কাছে এনে টেবিলে লেখার খাতাটা রেখে চেয়ারটা টেনে বসলেন| লিখতে লিখতে বেশ রাতও হয়ে গেছিলো, ভাবলেন বাকিটা কাল লিখবেন| যে মাত্র চেয়ারটা ছেড়ে উঠতে যাবেন, সেমাত্র উনি অনুভব করলেন যে কিছু চ্যাটচ্যাটে আঠালো জাতীয়  পদার্থের জন্য চেয়ারের সাথে উনার শরীরটা সেঁটে আছে| উনি উঠার চেষ্টা করতেই আরো সেঁটে যাচ্ছেন| তারপর পিঠের দিকে কিছু একটা খোঁচা খোঁচা লাগছে|উনি জোর করে উঠতে চেষ্টা করতেই সেই খোঁচা খোঁচা লাগার জিনিষটা ইন্জেকসনের সূঁচের মতো তার সর্বাঙ্গে বিঁধতে লাগলো| যেমন করে সিরিন্জ দিয়ে রক্তটানা হয় তেমনি ভাবে উনার শরীরে সব রক্ত ওই চেয়ারটি শুষে নিতে লাগলো| উনি যতবারই উঠতে যান চেয়ারের ওই আঠালো জিনিষটা আরো উনাকে সাঁটিয়ে দিতে লাগলো আর ওই সূঁচগুলো আরো সেঁদিয়ে যেতে লাগলো উনার শরীরে | আরো দ্বিগুন গতিতে শুষতে লাগলো উনার শরীরের গরম তাজা রক্ত| উনি সর্বশক্তি দিয়ে আরো একবারের মতো চেষ্টা করলেন উঠার কিন্তু পারলেন না, সূঁচগুলো এবার হুকের মতো গেঁথে আছে| বুঝতে পারলেন উনার মৃত্যু নিশ্চিত| উনি শেষবারের মতো স্ত্রীকে একবার মনে করলেন| চেয়ারটি প্রবল গতিতে নিঃশোষিত করতে লাগলো প্রাণকেষ্টবাবুর শেষ রক্তবিন্দু, যেন বহুদিনের তৃষিত ছিল সে তাই আকন্ঠ ভরে রক্তপান করছিল| চেয়ারটির নীলাভ গদিটি ক্রমশঃ হয়ে উঠলো টকটকে লাল| প্রাণকেষ্টবাবু একটু হাঁ করে শ্বাস নেবার চেষ্টা করলেন কিন্তু নিতে পারলেন না| ক্রমাগত রক্তনিঃসরণের ফলে উনি ক্রমশঃ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিলেন| শেষে প্রাণকেষ্টবাবুর শরীরে প্রাণের কোনো স্পন্দনই রইলো না|

পরদিন সকালে বাসন্তী শত দরজা ধাক্কানোর পর যখন প্রাণকেষ্টবাবু দরজা খুললেন না তখন এক অজানা আশঙ্কাবশতঃ সে ডাক্তার অনিশকে ডেকে এনে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকলো| ঘরে ঢুকে ডাইনিং টেবিলের সামনে নতুন কিনে আনা চেয়ারটায় ওই রকম রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে অবস্থায় বসে থাকতে দেখে ভয়ে চিৎকার করেই অজ্ঞান হয়ে গেলেন| বাসন্তীর চিৎকারে পাড়ার লোক ছুটে আসলো| ওইরকম একটা পরিস্থিতি দেখে সবাই আতঙ্কিত| যথাসময়ে পুলিশ এলো| একেএকে ডাক্তার অনিশ, বাসন্তী আর বাকি উপস্থিত সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো, কিন্তু সন্দেহের কিছু পাওয়া গেল না| বেশ কিছুদিন তদন্ত চলল|কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না| তাই কেসটা unsolved case বলে বন্ধ করতে হলো|

কিছুদিন পর প্রাণকেষ্টবাবুর পিসীমা এলেন| উনি ডাক্তার অনিশের সাহায্যে বাড়ীটি বিক্রির ব্যাবস্থা করলেন| বাসন্তী সেসময় প্রাণকেষ্টবাবুর নতুন চেয়ারটিকে অনেক খুঁজেছিল, কিন্তু আশ্চর্য্যজনক ভাবে প্রাণকেষ্টবাবু মৃত্যুর পরদিন থেকেই চেয়ারটিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না|

এঘটনার কয়েকদিন পর এক সকালে বিশ্বম্বরবাবু ঘুম থেকে উঠে দেখলেন যে তার পায়ের কাছে একটা ব্যাগ পড়ে আছে| ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো তার| তিনি জানেন যে ওই ব্যাগটিতে কী আছে| বিছানা থেকে নেমে তিনি সোজা চলে গেলেন তার প্রার্থনা গৃহের দিকে, যেখানে রয়েছে তার গুরুদেব কাপালিক গৌড়চন্দ্রানন্দের ছবি| তিনি ছবির সামনে হাত জোড় করে বললেন, “আশীর্ব্বাদ রাখবেন, গুরুদেব| আজ আপনার আশীর্ব্বাদেই এসব কিছু সম্ভব হয়েছে| এখনো মনে আছে আমি যখন অর্থ সংকটে বিহ্বল হয়ে আত্মহত্যা করতে গেছিলাম তখন আপনিই আমার হাত ধরে আটকেছিলেন| টাকা-পয়সাটা সবসময়ই আমার কাছে বেশী মূল্যবান ছিল| সেখানে কন্দর্পশূণ্য হওয়াটা মেনে নিতে পারছিলাম না| আপনি আপনার তন্ত্র-সাধনা দিয়ে ঐ চেয়ারটিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন| বলেছিলেন যে চেয়াটিকে ভোগ দিতে হবে, তবে সেও আমায় ভোগ দেবে এবং সে নিজের ভোগ নিজেই স্থির করবে| প্রথম প্রথম তো রাস্তার কুকুরগুলোই যথেষ্ট ছিল| তারপর তার খিদে বাড়তে লাগলো| আমার স্ত্রী আর কন্যাকে সে নিজের ভোগ হিসেবে নির্বাচিত করলো| দিয়ে দিলাম, ধন সম্পত্তির জন্য সব কিছুই করতে পারি আমি| আমার সম্পত্তির বৃদ্ধি ঘটতে লাগলো| অনেকদিন পর চেয়ারটি আবার নিজের ভোগ হিসেবে নির্বাচিত করলো সেই লোকটিকে| জানি আমিও আমার ভোগটা পাব| সবই আপনার আশির্ব্বাদ গুরুদেব”| এই বলে পাশে রাখা স্ত্রী আর কন্যার ছবির নিচে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে দিলেন| তারপর কন্যার ছবির নিচে লুকিয়ে রাখা এক গুপ্ত সুইচে টিপলেন| সঙ্গে সঙ্গে পিছনের দেয়ালটা সরে গিয়ে একটা ঘরের মতো হয়ে গেল| সেখানে তিনি ঢুকলেন| ঘরটির চারদিকে সাজানো আছে বিভিন্ন রকমের অমূল্য হীরে,জহুরত, মণি,মুক্তো আর ঠিক মাঝখানে রয়েছে সেই নীলাভ গদি আঁটা বাদামী চেয়ার| তিনি জানেন সময় হলে চেয়ারটি নিজেই এই ঘর থেকে বেড়িয়ে যাবে নিজের ভোগের সন্ধানে|

  •  
    25
    Shares
  • 25
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •