•  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

CONTENT | ISSUE 16 | 4th Oct, 2020

KafeHouse

ধারাবাহিক
মিছিলে নাটকে কবিতায় গানে – আরণ্যক বসু

অবান্তর
মেয়েগুলো, প্রেমিকা, মহিলাগুলো
– শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

অন্যান্য / Others

Coffee and Memories –
Anushka Chatterjee

কবিতা / Poetry

বৃষ্টি – তনিমা সাহা

চপল ভাদুড়ী – চপলরানি – সুপ্রিয় চক্রবর্তী

আরণ্যক বসু

মেয়েগুলো, প্রেমিকা, মহিলাগুলো

শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

আহা!, ওরকম করলে তো মুশকিল! আপনি বড়ই ভুল ভাবছেন, উদ্যত তরবারী, মোমবাতি মিছিল, স্লোগান, জপমালা, কাফকা- কামুর বৈশিষ্ট্যের হ্যান্ডবুক আর গুটিকতক ভাঙা-চশমায় এঁটো হয়ে যাওয়া রোদ- আমাদের এগুলোর কোনোটাই নেই !

মেয়েগুলো স্নিগ্ধ কেউ, প্রেমিকা আপনারও, ভুল ভাববেন না সত্যতার পিস্টনের আগ্রাসনে, মহিলাগুলোও। হ্যাঁ রে বাবা হ্যাঁ, ‘বি বিউটিফুল’ স্মারকবক্তৃতার ছেনি-হাতুড়ি, বালি-জল সিমেন্টে গড়া সেই মেয়েগুলো, কাশবনে দুর্গাছাপ ঘটিহাতা ব্লাউজ, বুটিকের সাজসজ্জা, শালিখের রিনরিনে নোয়াবাঁধানো ঘাটদুপুরে কলসি কাঁখে সেই শ্যামের বাঁশির মেয়েগুলোর কথাই বলা হচ্ছে।

আপনার প্রেমিকা, ওই যে সেই ‘নো ব্রা’ ক্যাম্পেইন অথবা ‘আমাদের ছোট নদী’ যে বলার জন্যে সলতে পাকায় রাতদিন, মূর্খের স্তব্ধতা নির্ধারিত পরিমাণে উপচে পড়ে যার স্তনে, নাভিতে, উরুসন্ধিতে আর পিঠের লাল তিলটার উপর, হ্যাঁ, সেই কলেজ-কাটা, শ্বশুরবাড়ির মুখে কাদাছোঁড়া ধিঙ্গিটাই সেই মেয়েগুলো, প্রেমিকা আর মহিলাগুলো।

লেবুর জল-খাওয়া নোনা-ঠোঁটে এক ঢোকে ট্রামের পাশের লাল স্ফটিকের সূর্য্য ধরে খায় যে, ওই হতচ্ছাড়ি রাক্ষুসী মেয়েগুলো, প্রেমিকা আর মহিলাগুলোর কথাই বলছি রে বাবা, বাস, ট্রামের পাদানিতে গোড়ের মালা জড়ানো সেই প্রগল্ভ পাগলীগুলোর কথা, যাদের জন্যেই কবিতা নির্নিমেষ, অন্ত্যজ ভালোলাগা, আর ব্লাউজের হাতায় শিরশিরানি, থমকে থাকা লাজুক বিকেল, কপোত-সন্ধ্যে আর ডার্বি-ছুটের ফ্লাডলাইট।

হ্যাঁ, এইবারে মন দিন, ভাবুন, এরাই সেই মেয়েগুলো, প্রেমিকা, মহিলাগুলো, ভাবতে থাকুন! চিনতে পারবেন ঠিকই, যদি আবার চিতাভস্ব থেকে ফিনিক্স জন্মায়!

Coffee and Memories


Anushka Chatterjee

Happy International Coffee Day!

First of all, I am terribly missing my beloved cup of cappuccino as well as the friend who introduced me to the tempting world of Coffee today, while typing out this piece! The pandemic has literally snatched away most of my happiness inducing factors! Being a rigid foodie, I used to love exploring various eateries along with my partner-in-crime before this pandemic hitting us straightaway. Now it has almost been eight months of me sitting locked up in my home without a single visit to any of my favourite food joints!

To begin with my take on the renowned beverage Coffee, I must inform you all that I am not a coffee-lover by instinct and had never pretended to be one! Trust me when I say that even two years ago I was way too far from being a fan of tea or coffee. But now I do enjoy a steaming cup of coffee; even if occassionally and only over a delightful conversation with my favourite companion! There are few acknowledged reasons for me to love coffee now; it being an easily available, destressing as well as comforting drink is the most significant one! From Filter Coffee to Cappuccino, I find peace in the whirls of smoke coming out of a satisfying cup of any kind of coffee.

I love the strong heady aroma of a particular kind of coffee popularly known as the “Dancing Coffee”, a staple beverage offered by one of the well-known South Indian eating joints of Kolkata closest to my heart; even though I don’t really order or drink it myself other than stealing some sips from my friend’s glass who absolutely is obsessed over a good hot coffee, especially this dancing coffee!
The “Dancing Coffee” is served in a glass tumbler topped with some heaped coffee foam which tends to jiggle as if dancing! Hence the name! It is a concoction of coffee liquor, milk and foam. The hot milk is poured over the black coffee base, and then the foam is added. The milk doesn’t mix with the black coffee, so it floats like waves. One can clearly notice three different layers of the coffee through the glass tumbler it is generally served in. I have a lot of lovely fond memories associated with this cutely amusing glass of coffee, so obviously it really deserves a special mention in the story narrating few of my overall blissful experiences with coffee!

I tasted almost every kind of coffee, in last two years in Kolkata , both hot and cold ones! It’s not that I loved all of them! But my tastebuds definitely enjoyed each of their individually distinct flavours!The very familiar fresh smell of coffee beans often kick-starts my usually tired self after a long day at University, as my brain cells wake up immediately at my first sniff of it everytime I visit a place offering coffee! To me coffee always smells of love, life and positive meetings!

Advertise with us

Publish your ads in Pujabarshiki 2020

Full Page- INR 600 | Half-Page- INR 300 | Classifieds INR 150

Mail your ads to insightfulsite@gmail.com

বৃষ্টি
তনিমা সাহা
ঝম্ ঝম্ শব্দে তোর,
বাঁধভাঙ্গা আবেগ যায় শোনা;
রিনিঝিনি রিনিঝিনি অলঙ্কারে,
থাকে তোরই আনাগোনা;
ভীমনাদের গর্জনে লুকিয়ে থাকে তোর চিৎকার,
তোর কষ্টের-দুঃখের হয় না কোনো সৎকার;
অঝোরে ঝরে যায় তোর চোখের জল,
ভেসে যায় তার স্রোতে এই পৃথিবী-তল;
আয় ভিজিয়ে যা আমায়,
ছিনিয়ে নে আমার সব ক্লেশ-পীড়া-যাতনাকে,
আয় দুজনে মিলে আজ,
উজার করে দেই সব অশ্রু-বন্যাকে|

চপল ভাদুড়ী – চপলরানি

সুপ্রিয় চক্রবর্তী

চপল ভাদুড়ী বাংলা নাটক এবং যাত্রার এমন একজন অভিনেতা, যাকে নিয়ে এতো ছোট পরিধিতে লেখা সম্ভব নয়।আমাদের জার্নালের জন্যে একটি সাক্ষাৎকার নিতে তার দ্বারস্থ হয়েছিলাম কয়েক মাস আগে। যারা চপল ভাদুড়ীকে শুধু মাত্র ঋতুপর্ণ ঘোষের “আর একটি প্রেমের গল্প” তে দেখেছেন, তাদের বলে রাখি চপল ভাদুড়ীকে দেড়-দুই ঘন্টায় ধরে রাখা সম্ভব নয়। তবুও ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিকল্পনা এবং কৌশিক গাঙ্গুলীর নির্দেশনা প্রশংসা যোগ্য। সিনেমাটির পর্যালোচনা অন্য কোনোদিন করবো, যারা দেখেছেন তারা আরো একবার দেখুন, আর যারা দেখেননি তারা দু-বার দেখুন। ততক্ষনে আমি আমার সাথে চপল ভাদুড়ির সাক্ষাৎকারের কথায় আসি।

আমি আর আমার স্ত্রী শ্রীতন্বী এক বিকেলে ওনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। পরে অবশ্য অনেক বার কথা হয়েছে, দেখা হয়েছে। তবে প্রথমবার একটু পরিকল্পনা করে গিয়েছিলাম, সাক্ষ্যাৎকার নিতে গেলে যেটুকু প্রয়োজন। ঘরে ঢোকার সাথে সাথে চপল ভাদুড়ী নিজের চেয়ারটা শ্রীতন্বীর দিকে এগিয়ে দিলেন, ওনাকে বসতে বলাতে, বললেন “আমার চেয়ারের কোনো লোভ নেই, আমি চেয়ার ছাড়তেও পারি, আবার সময় পড়লে নিয়ে নিতেও পারি”। পরিকল্পনা অনুসারে আমাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলো, ভিডিও রেকর্ডিং করতে থাকলাম। অনেক কথা, অনেক স্মৃতি, আর অনেক অনবদ্য সৃষ্টির এবং নাটকের বিবর্তন। সবকিছু লেখা সম্ভব নয়। চপল ভাদুড়ী মনে হয় একমাত্র জীবিত female impersonator যিনি স্বাধীনতার আগে থেকে নাটক করছেন, জানতে পারলাম তিনি এখনো মঞ্চের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি।

১৯৫১ সালে ‘নিষ্কৃতি’ নাটক দিয়ে তার নাট্যজীবন শুরু। চপল ভাদুড়ীর জীবনে তিনজনের ভূমিকা প্রবল, তারা হলেন মাখনলাল দত্ত, সূর্য দত্ত ও ব্রজেন্দ্রকুমার দে। একের পর এক নাটক এবং যাত্রা তিনি করেছেন, নামচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে হয়ে উঠেছিলেন চপলরানী। প্রথম জীবনে ইস্টার্ন রেলওয়েতে উনি কাজ করতেন, মাইনে ছিল মাসে ৭৫ টাকা। পরে সেই চাকরি ছেড়ে দেন, ১৯৫৮ সালে নট্ট কোম্পানিতে যোগ দেন, মাসে ১০০ টাকা মাইনে। যাত্রার মঞ্চে হ্যাজাকের আলোয় মাইক ছাড়া অভিনয় করা অত্যন্ত কষ্টকর, কিন্ত চপল ভাদুড়ী অবলীলায় বছরের পর বছর করে গেছেন নির্দ্বিধায়। যাইহোক, চপলরানীর সম্পর্কে জানতে হলে, আমাদের লিটইনফিনিট নামক জার্নাল নাটক সংখ্যায় (litinfinite.com) পড়ুন, বুঝতে অসুবিধা হলে, অথবা আরো কিছু জানতে চাইলে, ক্যাফে হাউসের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনারা পড়তে থাকুন, আমি ততক্ষনে চপল ভাদুড়ীর সাথে একটু চা-বিস্কুট খেয়েনি।

আমি এবং শ্রীতন্বী গর্বের সাথে বলতে পারি চপল ভাদুড়ীর সাথে আমরা চা-বিস্কুট খেয়েছি। জানি, আপনাদের অনেকেই খেয়েছেন, ওনার সাথে গল্প, আড্ডা, কাজ করেছেন। ভাবছেন, এটা আর এমন কি ঘটনা? এই হলো বাঙালীদের দোষ, আগে পুরো কথা শুনুন। আমরা চপল ভাদুড়ীর হাতে বানানো চা আর ওনার নিজস্ব কৌটো থেকে বিস্কুট খেয়েছি। হ্যাঁ, ঠিক শুনছেন। বিকেলে সাক্ষাৎকার নিতে নিতে, উনি নিজেই কেটলিতে চা বানালেন। জীবনে খুব কম মানুষকে দেখেছি, যিনি রাজ্যস্তরের পাওয়া বিখ্যাত সব পুরস্কার কাপড়ে মুড়ে আলমারিতে রেখেছেন। দীর্ঘকাল অভিনয়ের সাথে যুক্ত থেকেও, যার চোখে কোনো অহং দেখতে পাওয়া যায় না।পুরুষ হয়েও কেন তিনি সারাজীবন নারী-চরিত্রে অভিনয় করলেন? তার উত্তর ছিল, “আমি একজন পুরুষ, মঞ্চে আমি নারী”। অন্যদিকে তাকে নিয়ে বিতর্ক, তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম নিয়ে প্রশ্ন করলে, তার পরিষ্কার উত্তর “আমাকে জীবনে অনেক কিছু করতে হয়েছে। পুরুষদের চোখ আমি পড়তে পারি, আমি জানি কোন পুরুষ কি প্রত্যাশা করে”। যার জীবনে ঘাতপ্রতিঘাতের শেষ নেই, যাকে সারা জীবন বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, যেই নক্ষত্র কলকাতার রাস্তায় মা শীতলা সেজে ঘুরতে পারে, আবার সময়মতো মঞ্চে নারী এবং পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন, যার মুখ পরিবর্তিত হয়ে যায় কয়েক সেকেন্ডের বাক্সবন্দি আলোয় (খোলা জানালা, বন্ধ চোখ নাটক, যেখানে চপল ভাদুড়ী নারী এবং পুরুষের অভিনয় করেছেন), যার জীবন নিয়ে মঞ্চে অবতীর্ণ হতে পারে উপল ভাদুড়ী, তার নাম চপল ভাদুড়ী, ওরফে চপলরানী।….আর একটি প্রেমের গল্প হয়তো আর একটি থাকতো না, যদি সেটি চপল ভাদুড়ী না হতেন।

 

Publish Your E-Book at INR 600/- 

Mail us: insightfulsite@gmail.com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •