• 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

CONTENT | ISSUE 17 | 11TH OCT, 2020

KafeHouse

ওয়েব সিরিজ রিভিউ 
‘হোস্টেজেস’ সিজন টু – থ্রিল, শুধু থ্রিল – সৈকত মজুমদার

অন্যান্য
মন কি বাত – বিজয়িনী রায়

ছোটগল্প
জলরঙে আঁকা- সঞ্জীব সেন
ডঃ গুলু গোপাল ও তার গবেষণা পত্র- কাঞ্চন কুমার গাঙ্গুলী
উপত্যকার হাতছানি- তনিমা সাহা

কবিতা
কুহেলিকা – স্বপ্না ইসলাম ছোঁয়া

Facebook-Post – সৈকত মজুমদার

patrick-fore-0gkw_9fy0eQ-unsplash.jpg

ওয়েব সিরিজ রিভিউ 

‘হোস্টেজেস’ সিজন টু

থ্রিল, শুধু থ্রিল

সৈকত মজুমদার

KAFEHOUSE

প্রাক্তন এসপি পৃথ্বী সিংএর চ্যালেঞ্জ এবার আরও কঠিন l  ঘটনার ফেরে, গুরুতর অসুস্থ স্ত্রী সাবা, শালা আমন আর দুই  বিশ্বস্ত সঙ্গীসহ সে আটকে পড়েছে এক পোড়ো বাড়িতে l সঙ্গে অপহৃত মুখ্যমন্ত্রী কে এল হান্ডা l তাদের ধাওয়া করে সেখানে এসে পড়েছে হান্ডার সিকিউরিটি অফিসার সুব্রামনিয়াম আর তার সঙ্গী l দু পক্ষের গুলির লড়াইয়ের মাঝে এসে পড়ে টহলদার পুলিশও l বাধ্য হয়ে এক মহিলা পুলিশ অফিসারকেও বন্দি করে ফেলে পৃথ্বী l খবর পেয়ে পুলিশের এটিএস বাহিনী ঘিরে ফেলে বাড়ি l তাদের কাছে খবর  উগ্রপন্থীরা পণবন্দি করেছে কিছু মানুষকে l উগ্রপন্থীদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে আসে এটিএসের বিশেষজ্ঞ অফিসার আয়েশা খান l  এদিকে সাবার অবস্থা ক্রমশঃ খারাপের দিকে l যত দ্রুত সম্ভব বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট না করলে সে বাঁচবে না l আর সেই ট্রান্সপ্লান্ট হবে হান্ডার শরীর থেকেই, কারণ সেই সাবার বায়োলজিক্যাল পিতা l ফাঁদে পড়া পৃথ্বীর সংকট  আরও বাড়ে যখন অচেনা নম্বর থেকে আসা হোয়াটসআপ মেসেজে সে জানতে পারে তার শিশুকন্যাও অপহৃত l অপহরণকারীর শর্ত, হান্ডাকে তার হাতে তুলে দিতে হবে l একদিকে পুলিশ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র – যাঁতাকলে পড়া পৃথ্বী কি পারল তার স্ত্রী আর মেয়েকে বাঁচাতে ?

উত্তর মিলবে ডিজনি প্লাস হটস্টারের থ্রিলার সিরিজ ‘হোস্টেজেস’ সিজন টু তে l যাঁরা সিজন ওয়ান দেখেন নি, তাঁদের খেই ধরতে একটু অসুবিধে হবে বই কি ! আর তাঁদের সুবিধার্থে গল্পের সাসপেন্স নষ্ট না করে এটুকু বলে দেওয়া যায় যে, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করে স্ত্রী সাবাকে বাঁচানোর জন্যই হান্ডাকে অপহরণ করে পৃথ্বী l  আর মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া সবাই জানে হান্ডা হাসপাতালেই মারা গেছে অন্য একটা অপারেশন করতে গিয়েl  সিজন ওয়ান এর যবনিকা পড়েছিল এখানেই l সিজন ওয়ান এর পরিচালনার দায়িত্ব ছিল সুধীর মিশ্রর l সিজন টু পরিচালনা করেছেন সচিন কৃষ্ণ l থ্রিলারএর টানটান উত্তেজনা বজায় রেখেছে ‘হোস্টেজেস’ সিজন টু l ক্যামেরার কাজ বেশ ভাল l  আবহ যথাযথ l তবে ‘হোস্টেজেস’এর সম্পদ বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় l সাম্প্রতিককালে, বিশেষতঃ করোনা-পরবর্তী সময়ে  ওয়েব সিরিজগুলি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ হল নতুন নতুন বিষয় ভাবনা, স্মার্ট চিত্রনাট্য ও স্বাভাবিক অভিনয় l সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালের চড়া দাগের গল্প আর  অভিনয় দেখে ক্লান্ত দর্শক স্বাদ বদলের সুযোগ পাচ্ছেন ওয়েব সিরিজ দেখে l বহু অভিনেতাকে নতুন করে চেনার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মে l যেমন ‘হোস্টেজেস’ এ মূল চরিত্রে রণিত রয় l চিত্রনাট্যের সাহায্য পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন রণিত এই সিজনেও I ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন রণিত l  আয়েশা খানের চরিত্রে দিব্যা দত্ত যথারীতি নজর কেড়েছেন l ইন্টেলিজেন্স অফিসারের চরিত্রে শ্বেতা বসু প্রসাদ চমৎকার l আর অবশ্যই বলতে হবে দুর্দান্ত হ্যান্ডসাম কিন্তু নৃশংস ভিলেন রণভীরের ভূমিকায় দিনো মোরিয়ার কথা l  বেশ কয়েকটি অসফল ছবির পর দীর্ঘ দিন আর্কলাইট থেকে দূরে ছিলেন দিনো l পর্দায় ফিরেই ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি l তুলনামূলকভাবে স্বল্প পরিচিত অভিনেতারাও চমৎকার সঙ্গত করেছেন l

তবে ১২ এপিসোডের দ্বিতীয় সিজনএ বেশ কিছু দৃষ্টিকটু অসঙ্গতি রয়েছে l পৃথ্বীরা যে পোড়োবাড়িতে আটকে পড়ে, তা এটিএসএর কমান্ডোরা ঘিরে ফেলেl অথচ ওই বাড়ির কাছেই রাখা তাদের গাড়িটা কেউ দেখতে পেলো না ! পৃথ্বী সিং দিব্যি সেই গাড়ি নিয়ে ঘুরে চলে এলো ! ওই ভাঙাচোরা, অপরিষ্কার পোড়োবাড়িতে দিব্যি বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টএর মতো জটিল বিষয়ও দিব্যি হয়ে গেলো, এটা আরও অসম্ভব !    

তবে গল্পের গরুরা অল্প-বিস্তর গাছে ওঠেই – এটুকু  যদি মেনে নিতে পারেন, আর থ্রিলার পছন্দ করেন তবে আপনার ভালই লাগবে ‘হোস্টেজেস’ সিজন টু l আর শেষটা দেখে মনে হল সিজন থ্রি আসারও একটা সম্ভাবনা আছেl

মন কি বাত

বিজয়িনী রায়

Art, Mask, Head, Human, Psyche, Expression, Mimic

মন নিয়ে কবি, লেখক, সঙ্গীতকার, চলচ্চিত্রকারদের কতই না আগ্রহ। মনের ওপর কতই না গান, কবিতা রচনা হয়েছে, ক্রমাগত হচ্ছে। শুধু একটা ছোট্ট ‘মন’ শব্দকে কেন্দ্র করে কতই না তিনঘণ্টার লম্বা লম্বা গল্প পর্দায় দেখে কখনো হেসেছি, কখনো কেঁদেছি, আবার কখনো মধুর স্মৃতিচারণ করেছি। অতি সাধারণ একটি আলোচ্য বিষয়বস্তু হওয়ার কারণেই হয়তো ‘মন’ বিষয়টা আমাদের কাছে বড্ড “সহজ”। তাই কখনো ‘মনটা কিছুদিন যাবত ভালো নেই’ কথার উত্তরে অনায়াসে “ও কিছু না, সব মনের ভুল, মন খারাপ নিয়ে না ভাবলেই মন খারাপ সেরে যাবে” – ইত্যাদি প্রতিকার দিয়ে থাকি। অথচ ‘শরীরটা কিছুদিন যাবত ভালো নেই’ –এর উত্তরে নির্দ্বিধায় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার ওপরই জোড় দিই। মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে মনোবিদ বা ডাক্তারের (মনচিকিৎসক) কাছে যাওয়াটা সবসময়ই একটা challenge। ‘লোকে জানতে পারলে কি হবে, আমাকে সবাই পাগল ভাববে’, অথবা ‘সবারই এরকম একটু আধটু হয়… নিজে থেকে সেরে যাবে,’ কিংবা ‘মানসিক রোগের ওষুধ খেলে বেশি আসুস্থ হয়ে পড়ব’ – ইত্যাদি stereotype গুলির কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা মানসিক সমস্যা গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিই না। ফলে বিনা চিকিৎসায় সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। মানসিক রোগের ক্ষেত্রে রোগীর সাথে সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও দৈনন্দিন নানান সমস্যার সম্মুখীন হন। এর একটাই কারণ হল যে এই ধরনের রোগীদের দেখাশোনা করার সঠিক পদ্ধতিগুলি তারা জানেন না। কারণ আমাদের সমাজে মানসিক রোগের সাথে জড়িয়ে রয়েছে কতগুলি অমূলক ধারণা। ফলত, মানসিক রোগ নিয়ে আলোচনা করার পরিধি সীমাবদ্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই এর ফলে এই বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধিও সীমাবদ্ধ।

প্রথমত জেনে রাখা প্রয়োজন, মানসিক রোগ শুধু এক ধরনের হয় না। এটি নানান প্রকারের হয়। তাই কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন মানেই তাকে কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে নিজের মতো করে “বোঝানোর” চেষ্টা করার পরিবর্তে একজন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া বাঞ্ছনীয়। একজন বিশেষজ্ঞই রোগীর সাথে কথা বলে বুঝবেন যে তিনি কি ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং সেক্ষেত্রে তাকে যথাযথ পরামর্শ দেবেন। এখানে বিশেষজ্ঞ বলতে বোঝায় একজন মনবিদ (Psychologist) বা মনঃচিকিৎসককে (Psychiatrist) । মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পরেন। বেশিরভাগই ওষুধ খাওয়ার বিপক্ষে থাকেন, সাধারণত Counselling- এর ওপর ভরসা করতে চান। এক্ষেত্রে জেনে রাখা প্রয়োজন, মানসিক রোগ নানান কারণে হয়ে থাকে। যেমন – বংশগতির কারণে, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে, শারীরিক সমস্যা তথা দীর্ঘকালীন রোগভোগের কারণে, হরমনাল পরিবর্তন, দুর্ঘটনাজনিত মানসিক আঘাত ইত্যাদি। সুতরাং রোগের কারণ এবং ধরনের ওপর নির্ভর করে সঠিক চিকিৎসার পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। সব মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে যেমন ওষুধের ওপর নির্ভর করা হয়না, ঠিক সেরকমই সবরকম মানসিক সমস্যার সমাধান Counselling নয়। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার ধরন বুঝে চিকিতসক ওষুধ এবং psychotherapy- র combined treatment- এর ওপর জোড় দেন, আবার কখনো শুধু psychotherapy বা Counselling নির্ভর চিকিৎসা হয়। কিছুক্ষেত্রে প্রথমে রোগীকে ওষুধের সাহায্যে স্থিতিশীল করে তোলার পর যথাক্রমে psychotherapy এবং Counselling করানো হয়ে থাকে। অতএব রোগীর কি ধরনের চিকিৎসা হবে তা জানতে আপনার বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, মানসিক রোগের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন একান্তভাবে কাম্য। “বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে”, “বিয়ে দিলে/ সন্তান হলে ঠিক হয়ে যাবে”, “মনচিকিতসকের কাছে “পাগল”রা যায় – ইত্যাদির কোনটিই সঠিক প্রতিকার বা মনভাব নয়। মানসিক রোগীর সেরে ওঠা তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। তাকে “পাগল” বলে সম্বধন করা, মানসিক অবসাদ্গ্রস্ত ব্যক্তিকে “তুমি চাইছনা বলে ভালো হতে পারছ না, তোমার মনে জোড় নেই” ইত্যাদি বলে অনেকসময়ই নিজেদের অজান্তে তাদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে থাকি। ফলে তারা অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন এবং নিজের সমস্যার কথা খুলে না বলে উপরন্তু নিজেদের গুটিয়ে নেন, যার ফলে রোগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। মানসিক রোগ কখনো জোড় করে তৈরী করা যায়না। অনেকক্ষেত্রে রোগীকে বাইরে থেকে দেখে তার সমস্যার ব্যাপারে বোঝা সম্ভব হয়না। তাই দীর্ঘকালীন অবসাদজনিত কারণে আত্মহত্যার ঘটনাগুলি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা আমাদের দায়িত্ব।

জেনে রাখা প্রয়োজন যে Psychological Counselling-কে আপাতদৃষ্টিতে সাধারন কথপকথন মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। একজন মনবিদ/ মনঃচিকিৎসক বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে এই দক্ষতা অর্জন করে থাকেন। কি ধরনের মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে কিভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে তা কেবল তার পক্ষেই বোঝা সম্ভব। আপনার পরিচিত মানুষটি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বুঝলে অবশ্যই তার সঙ্গে কথা বলুন এবং তাকে বুঝিয়ে দিন যে আপনার সাহায্যের হাত সবসময় তার দিকে বাড়ানো আছে। তাকে চিকিৎসার জন্য অনুপ্রানিত করুন। কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষন না থাকলে মানসিক রোগীর  “Counselling” করার চেষ্টা করলে তার ফল অনভিপ্রেত হতে পারে।

সবশেষে বলা প্রয়োজন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে বাচ্চারাও নানারকম মানসিক রোগের শিকার হচ্ছে। আপনার সন্তানের শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের প্রতিও আপনাকে সমানভাবে সচেতন থাকতে হবে।

যেকোন মানুষই মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতার মতই মানসিক অসুস্থতাও স্বাভাবিক। সঠিক সময় সঠিক উপায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে মানসিক রোগাক্রান্তকে ভালো রাখা যায়।

জলরঙে আঁকা

সঞ্জীব সেন

Man, People, Girl, Woman, Women, Girls, Thoughtful

সুদিপ্ত চা খেয়ে লিখতে বসেছিল, সঙ্গীতা পেছনে এসে দাঁড়িয়ে খবরকাগজ দিয়ে মাথায় টোকা দিল । সঙ্গীতার পৃথুল শরীরে মেদ হয়েছে। কোমরের কাছে ভাজ পরেছে । তিন বছর ওদের দাম্পত্য সম্পর্ক। সেই অগোছালো মেয়েটি এখন বেশ সাবলীল। ঘর ঝাঁড় দিতে দিতে সঙ্গীতা বলল লিখসিছ! একটা জিনিস খুব ভাল লাগে সুদিপ্তর সবার সামনে ওরা তুমি আর আলদা হলেই তুই তোকারি ! পাশে বসে বলল লেখ তো, একটা রিয়েল লাভ স্টোরি ।রাধি বলেছে জিজুকে আগের মত লিখতে বল । আর তুইও লেখ! আর মাঝেমধ্যে অফিসে আসতে পারিস তো! আমি তো তোদের পাদুকা নিয়ে বসে অপেক্ষায় আছি । সুদিপ্ত লিখতে শুরু করল,,

“অনেকদিন ধরে সুদিপ্তর মনটা উড়ুউড়ু করছিল ঘুরতে যাওয়ার জন্য ।যদিও এই বয়সে এসে একদম বেমানান মনে হচ্ছিল ওর ।সুদিপ্ত ঠিক করল হিমাচল যাবে । অনেক স্মৃতি জুড়ে আছে সেখানে ।পার্বতী নদীর ধারে সেই গুরুদুরার , মানিকরন আর আপেলবনে ।দুই ফ্যামেলি মিলিয়ে আটজনের ট্যুর ছিল । আর আলাদা করে ওর আর সঙ্গীতা সাথে সেই সব সেই ,সব স্মৃতি চিরকূটের মত উড়িয়ে দিয়েছিল অনেকদিন আগেই ।সব সব,,, যাকে বলে ভ্রাম্যমাণ ভুল। কি হবে ভেবে এসব আর ।ট্রেনের কামরায় যারা ছিল তারা কমবয়সীর একটা গ্রুপ ।কোন লিটিল ম্যাগাজিন করে । কথাবার্তায় সেরকমই বোঝা যাচ্ছিল ।সুদিপ্তর বেশ ভাল লাগছিল ওদের উজ্জ্বলতা ।কারণ আরও একটা আছে, একসময় ও এক ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত ছিল । ”মেঘের পালক” ও সঙ্গীতা অঙ্কুশ আর উর্মিলা । সঙ্গীতা হঠাৎ একদিন বাড়ি এসে ঠিক করেছিল একটা লিটিল ম্যাগিজিন করবে। সুদিপ্ত হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো সব ভাবছিল আর ভাবার জন্য পরিবেশও ছিল । সুদিপ্ত ব্যাগ থেকে মেঘের পালকের শারদীয়া সংখ্যাটা বার করে পড়ছে ।এখন মেঘের পালকে সব নতুন মুখ কারণ সঙ্গীতা অঙ্কুশ ঊর্মিলা নেই আর ও তো অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছিল । মেঘের পালক যে উঠে যাইনি সেটা ভেবে গর্ব হয় ওর ।একসময় মাসিক ছিল এখন বছরে চারবার বেরয়।সুদিপ্ত শুনতে পেল গ্রুপের একটা ছেলে বলল দাদা মেঘের পালক পড়ছেন । নিয়মিত পড়েন , কারণ কেন বলছি বলুন তো এই ম্যাগাজিনটা এখন আমরা চালাই ।সুদিপ্ত ওদের্র দিকে তাকাল অনেকদিন পর খুব ভাল লাগছে ।এই ম্যাগাজিনের জন্য একসময় দারুণ ব্যস্ততা ছিল,সঙ্গীতার মত একটা মেয়ের সখ্যতা যেমন ছিল তেমনি ছিল ঊর্মিলা আর অঙ্কুশের প্রেমের কবিতা ।ঊর্মিলার সেইসব ডেসপারেট কবিতা , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে গল্প চেয়ে নেওয়া পুজো সংখ্যার জন্য। এইসব ভাবতে ভাবতে নিজের মনেই হেসে উঠেছিল স্মৃতিগুলো যেন সিগালের মত সফেন সমুদ্রে স্বাধীন হতে চাইছে । তারপর কিছু সময় পর সুদিপ্ত ছেলেটিকে বলল এখন এডিটর তো রাধিকা রায় , আগে তো সঙ্গীতা রায় ছিল. রাধিকা যে ওদের ভিতর ছিল সুদিপ্ত খেয়াল করেনি ।রাধিকা সঙ্গীতার বোন, যখন সঙ্গীতার সঙ্গে কাট্টি হয়ে যায় তখন রাধিকার বয়স আঠারো বছর। রাধিকা সুদিপ্তর দিকে মুখ ঘোরাতে চমকে ওঠে অনেকদিন পর চেনামানুষের সঙ্গে দেখা উপরন্তু দিদির ভালোবন্ধু বলে কথা । রাধিকা বলে ওঠে ’ আরে সুদিপ্ত দা এতদিন পর’ ,’ভাবতেও পারিনি এভাবে দেখা হয়ে যাবে’ , কতদূর যাচ্ছেন”, সুদিপ্ত বলে বারসসেনি, আর তোমরা ।ওরাও বারসেনি যাচ্ছে শুনে সুদিপ্ত বলে সঙ্গীতা আসেনি ।রাধিকা বলে না দিদি এখন কোথাও যায় না ।দপ্তরেও আসে না ।ম্যাগাজিন বন্ধ ছিল তিনবছর ।সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করছিল ।রাধিকাই পরিচয় করিয়ে দিল উঠে দাঁড়িয়ে বলল এই পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকে যারা ছিল তাদের মধ্যে যারা ছিল তাদের একজন ।সুদিপ্ত রাধিকার সঙ্গে একটু আলদা হতে চাইছিল সঙ্গীতার ব্যাপারে জানার জন্য।কেন নিজেকে এভাবে বন্দি করে রাখছে ।যে ম্যাগাজিন ওর স্বপ্ন ছিল ।ফাস্ট প্রায়োরিটি ।এর বাইরে কিছুই ভাবতে পারত না তখন, সাজগোজ হীন একটু অগোছালো । সেইকারনেই সঙ্গীতার প্রতি ও যে আরক্ত হয়ে পরছিল একথা মিথ্যে নয়।এভাবেই চলছিল সবকিছু ।রাধিকার পাশে যে ছেলেটি বসে ছিল কানে কানে কি যেন বলল তার কিছুসময় পর রাধিকা ছেলেটির কানে কিছু বলল ।সুদিপ্ত ভাবছিল সঙ্গীতার সঙ্গে ওর সম্পর্ক নিয়েই কিছু হবে হয়ত । রাধিকা উঠে দাঁড়িয়ে বলে ওঠে দিদি আর সুদিপ্তদার হাত দিয়ে এই পত্রিকার জন্ম যা কিছুদিন পর কুড়িবছরে পা দিতে চলেছে । তারসাথে যোগ করে দিদি আর সুদিপ্ত দা একটা ভালবন্ধুর নিদর্শন ।তোরা বুঝবি না । এমন ভাবে কথাগুলো শেষ করল যেন কোন পোগ্রাম কনডাক্ট করছে ।সুদীপ্ত ভাবছিল রাধিকা কি ওকে দোষী সাবস্ত করছে ওর দিদির জন্য ।রাধিকার কথায় কোথাও কী তাচ্ছিল্য মেশান আছে ! একটা ছেলে একটা মেয়ে কখোনোই বন্ধু হতে পারে না বায়বীয় রিলেশন ভেঙে বেড়িয়ে এসে বাওলজিক্যাল রিলেশনে আসতে চাওয়াটাই কি ভ্রাম্যমাণ ভুল ছিল সেদিন ! আর এসব বোঝাতে গিয়েই রাধিকা কথাগুলো এমন ভাবে বলল ! রাধিকা ওদের বলল সুদিপ্তদার সাথে একটু কথা বলার ছিল ।তোরা একটু বস আমি আসছি ! সুদিপ্ত মনে মনে হেসেছিল রাধিকার এখন যে বয়স তাতে প্রেম প্যাসান পাগলামি একরমের স্টাইল স্টেটমেন্ট ।

সুদিপ্তর সামনে উইন্ডো সিটটা খালি ছিল । রাধিকা এসে বসেছিল । সুদিপ্তর একমুহূর্তের জন্য মনে হল রাধিকা নয় যেন পঁচিশের সঙ্গীতাই । তবে মিলের ভিতর অমিলও ছিল । সঙ্গীতা ছিল অগোছালো আর রাধিকা ফ্যাশান কনসাশ ।চুলটা উপর দিয়ে এমন ভাবে বেধেছে সার্ফ মুখটা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে । কালো রঙের চেক গেঞ্জি আর লঙ স্কার্ট পরে ছিল ।মনে পরে গেল সুনীল গাঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার লাইনটা ”কোন কোন নারী যেন জলরঙে আঁকা” মনে পরে গেল এই লাইনটাই কোড করেছিল একটা ছবিতে ।জলরঙে আঁকা নীল রঙের চুড়িদারে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে কারুর অপেক্ষায় ,অন্যমনস্ক একটা মেয়ে । সঙ্গীতা বুঝতেই পারিনি এটা ওর উদ্দেশ্যেই লেখা ।সঙ্গীতা বলেছিল “এই সুদিপ্ত, মেয়েটি কে, প্রেমিকা! আর লাইলটাও বেশ !সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা, না! তখনই রাধিকা সঙ্গীতার মতন করে বলল চকলেট খাবেন ! অবাক হয়েছিল সুদীপ্ত । সঙ্গীতাও চকলেট খেত খুব ।রাধিকা বলল একটু তিতকুঁটে হবে ।ব্রেজেলিয়ান ।দুবাই থেকে নিয়ে এসেছে এক বন্ধু ।সুদিপ্তর মনে পরে গেল অনেক আগের একটা কথা ।বেসমেন্টের ঘরে আঁকছিল । সঙ্গীতা আসতেই ওর দিকে তাঁকিয়ে হেসে ফেলেছিল ।বলেছিল ‘এটা কি পরে এসেছিস । পুরো পাগলীর মত লাগছে চুলও ঠিক করিস নি, কুকুর তাড়া করেনি! মা দেখেছে তোকে! সুদিপ্তর মনে পরে গেল সেদিন সঙ্গীতা বলেছিল তুই কী বুঝিস , জানিস এটাই এখন স্টাইল । ও বলেছিল নাহলে কুকুর গুলো ও ভাবে ডেকে উঠবে কেন বল !’চকলেট খাবি ,একটুখানি, একটু ভেঙে এগিয়ে দিয়ে বলেছিল এর বেশী পাবি না, ভাবতে গিয়ে অজান্তে হাসি ফুটে উঠেছিল সুদিপ্তর মুখে,

“দিদির কথা মনে পরে গেল না!” রাধিকার কথাটা শুনে স্বম্বিত ফিরল সুদিপ্তর ।“রাধিকা তোমার এখন যা বয়স সেই বয়স আমি পেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই, জানি, এই বয়সটা মন পরতে পারে” রাধিকা হেসে ফেলেছিল তখন “ সঙ্গীতার মতন প্রাণখোলা হাসি, রাধিকা বলল’ আপনি গুজরাটে , প্রান্থনগরে কাজ পেয়ে চলে গেছেন, ছোট একটা চিঠি নিখে পোস্টে পাঠিয়ে দিলেছিলেন, জানেন চিঠিটা আজও রেখে দিয়েছে ’,রাধিকা বলে যাচ্ছিল কথাগুলো তখন, সুদিপ্তকে অন্যমনস্ক দেখে বলেছিল কি ভাবছেন এত ?

“খেতে খেতে মা বলেছিল হ্যাঁরে, সুদিপ্তর খবর কি রে, জানিস কিছু, বিয়ে থা কিছু করেছে!

দিদি বলেছিল, তাতে কি হবে, তাছাড়া হঠাৎ এমন প্রশ্ন !”

মা বলেছিল” ও যদি বিয়ে করে থাকে তালে তুই কেন করবি না”

দিদি বলেছিল” বুঝতে পারছি না কি বলতে চাইছ, ও বিয়ে করল কিম্বা নাই করল তার সঙ্গে আমার কিসের সম্পর্ক !”

মা অনেকদিন পর জোরের সাথেই বলেছিল” তোদের মেলামেশার ব্যাপারে কোন বাধা দিইনি কখনও, কারণ ছেলেটাকে ভাল লাগত আমার ।”

দিদি মুখবুজে খেয়ে উঠেগেছিল । তারপর অনেক রাত পর্যন্ত জেগেছিল ।কেউ না দেখুক আমি দেখেছি ।আমরা একসাথে শুই যখন।

ওদিক দিয়ে একজন বলল রাধিকা কফি হবে নাকি, সার্ফ করব , সুদিপ্ত দা খাবে ? সুদিপ্ত বলল চলতে পারে ।ফের আবার হারিয়ে গেছিল অতীতে ।ছবির মত ভেসে উঠেছিল মুহূর্ত-যাপন।

কফিটা হাতে নিয়ে রাধিকা বলল দিদিকে একবার ফোন করতে পারেন তো! এই নিন ফোন নাম্বারটা !

সুদিপ্ত ফোন করেছিল কিছু সময় পরে । রাধিকা ওদিকে চলে যাওয়ার পর । ফোন করে কি বলবে ভাবছিল ।সঙ্গীতা আননোন নাম্বার দেখে কেটে দিচ্ছিল ।সুদিপ্ত একবার শুধু মৃদু স্বরে বলতে পেরেছিল ‘আমি ফিরতে চাই”

“গল্পের ভিতর আর একটা গল্প ”
সুদিপ্ত সেদিন বেসমেন্টের ঘরে আঁকছিল বর্ষাকাল , নীল চুড়িদারে একটা মেয়ে রেলস্টেশন অপেক্ষামান । ছবিতে নীলের আধিক্য বেশী ছিল ।

সঙ্গীতা ছবিটা দেখছিল ছবিটার নিচে লেখা ছিল “কোন কোন নারী যেন জলরঙে আঁকা”। তখন সঙ্গীতা সুদিপ্তর সিগারেটের প্যেকেট থেকে একটা ধরিয়ে সুখটান দিয়ে বলেছিল কে রে মেয়েটা! প্রেমিকা !. ওনেকদিন ধরে মনের জোর বাড়িয়েছে একথা বলার জন্য । সুদিপ্ত সঙ্গীতার কাছে এগিয়ে হঠাৎই সঙ্গীতার হাতটা ধরে বলেছিল ‘আমি তোকে ছাড়া বাঁচবো না, আমি ভালবিসি তোকে! এই মেয়েটা আর কেউ না তুই, এতদিনে বলে উঠতে পারিনি!’ আমি রিলেশনে আসতে চাই, অবশ্য সবই তোর উপর নির্ভর করছেসব’,

সঙ্গীতা অবাক হয়ে বলছিল” তোর মাথা ঠিক আছে তো, কি বলছিস এসব! কিছুই বুঝতে পারছি না,রিলেশন মানে_তো ব্যায়লোজিক্যাল , প্রেম, বিয়ে, আর তার ভিতর সেক্স লাইভ , এভাবেই চাইছিস আমাকে! , তোর ভিতর এইসব কী আগে থেকেই ছিল !,”সুদিপ্ত বলেছিল ‘প্রেম বিয়ে এসব জীবন বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো নয়! আজ না হোক একদিন বিয়ে তো করবিই ।আমাদের সম্পর্ক ভাল বোঝাপড়া আছে । যদি রিলেশনে আসতে চাই ।আমার কি ভুল চাওয়া হবে!, প্লিজ সঙ্গীতা আমি খুব ভালবাসি তোকে । শুধু তোর হ্যা এর উপর নির্ভর করছে । আমি জোর করব না কখনও।’ সুদিপ্ত হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিল ।সঙ্গীতা হাত ছাড়িয়ে বেড়িয়ে আসে । তখনই সুদিপ্ত ঠিক করে নিয়েছিল এই নিয়ে একটা সমান্তরাল গল্প লিখবে আর তার মধ্যেই থাকবে উত্তর” হ্যা কিম্বা না “।

গল্পটা পাঠিয়ে দেবে সঙ্গীতার মেলে, আর লিখবে গল্পটা পড়িস তারপর নাহয় সিদ্ধান্তে আসিস । গল্পটা লিখে ফেলেছে কিছুক্ষণ আগে । ঘড়ির কাঁটা দুটো ছুঁয়েছে । সঙ্গীতার মেলে গল্পটা পাঠিয়ে দিয়েছে ।

রাতে শুয়ে সঙ্গীতা যখন গল্পটা পড়ছে ।সুদিপ্ত পাশে শুয়ে ওর গালে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরে আছে। সঙ্গীতা আশকারার দৃষ্টিতে একবার ওর দিকে চেয়েছিল তারপর পুরো গল্পটা পড়ে ইমোশোনালি বলল সত্যিই কী বোকাই না ছিলাম ! আর দেখ আমাদের ভিতর এই তোলা উনোনের গল্পটা আগে থেকেই ছিল ! শুধু ব্রন্ম্রাই জানতো, তিনিই কি মিলিয়ে দিল!জানিস, রাধি ফোন করেছিল। ও একজন ভাল ফার্টিলিটি স্পেসালিস্টের খোঁজ পেয়েছে!

সঙ্গীতা সুদিপ্তকে বলল তোকে সব কিছু দিতে ইচ্ছা করে যা তোর অনেক আগেই পাওয়ার কথা ছিল। সুদিপ্তও একইভাবে বলল আমারও।

ডঃ গুলু গোপাল ও তার গবেষণা পত্র

কাঞ্চন কুমার গাঙ্গুলী

Machine, Mechanical, Eye, Blue, Look, Lens, Bionics

আমার পারিবারিক বন্ধু গুলুদা অর্থাৎ বিখ্যাত বাঙালী বৈজ্ঞানিক তথা ভাইরোলোজিস্ট ডঃ গুলু গোপাল গুছাইতের এক গবেষণা পত্র সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে ৷ তিনি এই গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা পত্রটি
কলকাতার সায়েন্স কলেজের গবেষণাগারে তৈরী করেন ৷ আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, চিন সহ বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোর সায়েন্স ম্যাগাজিনে গবেষণা বিষয়ক এই পত্রটি ফলাও করে ছাপা হয়েছে ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা W H O প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাচ্ছে যে তারা এক বিশেষ সভায় গুলুদাকে বিশ্বের তাবড় বৈজ্ঞানিকদের উপস্থিতিতে তার এই গবেষণা পত্রটি পাঠ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ৷ বিশ্বের বিভিন্ন নাম করা ঔষধ প্রস্তুতকারি সংস্থা তার এই গবেষণার ফরমুলাটি বিশাল অর্থের বিনিময়ে তাদের কাছে হস্তান্তরিত করার অনুরোধ করেছে ৷ সুইডেনের নোবেল ফাউন্ডডেশন ইতিমধ্যে গুলুদার নাম নোবেল প্রাইজ প্রাপক হিসাবে ঘোষণা করেছে ৷

গুলুদার এই গবেষণা পত্র থেকে জানা যাচ্ছে তিনি গবেষণাগারে এমন এক ধরনের বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দিয়েছেন যা সাধারণ অনুবিক্ষণ যন্ত্রে ধরা পড়ে না ৷ এর জন্য প্রয়োজন অতি শক্তিশালী Electro-Magnatic অনুবিক্ষণ যন্ত্র ৷ এই ব্যাকটেরিয়া গুলির বিশেষত্ব হল এগুলি পরিবেশে কেবল উড়ে বেড়ায় ৷ কোনো প্রাণী বা বস্তুর শরীরে এরা প্রবেশ করে না, বাসা বাঁধে না বা লেগে থাকে না ৷ আমরা জানি করোনায় আক্রান্ত কোনো মানুষ যদি হাঁচে, কাশে বা থুতু ফেলে তাহলে তার ড্রপ-লেট’র সাথে করোনা ভাইরা-সের ব্যাকটেরিয়া বেরিয়ে আসে ও পরিবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ৷ ঠিক তখনই গুলুদার তৈরী বন্ধু ব্যাকটেরিয়া গুলির কাছে তাদের শরীরে লুকনো এক অতি সংবেদনশীল
জৈবিক সেনসরের মাধ্যমে খবর পৌছে যায় কোথায় করোনার ব্যাকটেরিয়া রয়েছে ৷ তৎক্ষনাত এরা চতুর্দিক থেকে উড়ে এসে করোনার ব্যাকটেরিয়া গুলি খেয়ে ফেলে এবং সঙ্গে সঙ্গে এদের শরীরে এক প্রচণ্ড উত্তাপের সৃষ্টি হয় এবং সে গুলি
করোনার ব্যাকটেরিয়া সমেত পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৷ ফলে ঐ স্থানটি সম্পূর্ণ করোনা ব্যাকটেরিয়া শূণ্য হয়ে পড়ে ৷
এই গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল পুড়ে যাওয়া সেই বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার ছাই থেকে মুহূর্তের মধ্যে নতুন বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় এবং তারা আবার পূর্বের মত সক্রিয় হয়ে ওঠে ৷

গুলুদার সাড়া জাগানো এই গবেষণা পত্র সারা বিশ্বে আলোরণ তুলেছে ৷ করোনার টিকা প্রস্তুতকারি ল্যাবরেটরি ও সংস্থা তাদের টিকা প্রক্রিয়াকরণ পরীক্ষা সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছে ৷ তারাও তাদের ল্যাবরেটরিতে এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া তৈরীর জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেছে ৷ আর্থিক দিক দিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে যে একটি করোনার টিকা তৈরী করতে যা খরচ, এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া তৈরীতে তার খরচ নগন্য৷
তাছাড়া করোনার টিকা প্রস্তুত করার জন্য যে পরিমান হাঙর নিধন প্রয়োজন, যা পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক এবং যা পরিবেশ
বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ি-
য়েছে, তার সম্ভাবনা এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া তৈরীতে বিন্দুমাত্র নেই ৷ একবার এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া তৈরী করতে পারলে পরবর্তি কালে বেশ কিছুদিন নতুন ব্যাকটেরিয়া তৈরীর প্রয়োজন পড়েনা ৷ কারণ এই
ব্যাকটেরিয়াগুলি অবিনশ্বর ও চিরস্থায়ী ৷ গুলুদার নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার নাম করণ করা হয়েছে ‘ফ্রেন্ড ডঃ গুলু গোপাল 2020’

উপত্যকার হাতছানি

তনিমা সাহা

Bird, Animal, Flowers, Art, Abstract, Watercolor

 রমিইইইইইইইত…..ঊষশীর আর্তনাদ রমিতের কানে এলো। ধরমরিয়ে উঠে বসলো রমিত। পাশে তাকিয়ে দেখলো ঊষশী নিজের জায়গায় নেই। এক অজানা ভয় চেপে বসলো রমিতের মনে। সে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,”ঊষশীইইইই, তুমি কোথায়…….”?

 একমাস আগেই রমিতের বিয়ে হয়েছে ঊষশীর সাথে। অ্যারেন্জ ম্যারেজ, বিশেষ পরিচয়-পরিধি সাড়ার আগেই বিয়ে হয়ে গেল তাদের। ওরাও সম্পর্কটিকে সময় দিয়েই মজবুত করতে চায়, তাই আপাতত একে অপরের বন্ধু ওরা। দুজনেই চাকুরিজীবি হওয়ায় ছুটির সমস্যায় সেরকমভাবে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই ভাবলো পুজোর চারদিনের ছুটিতে কোথাও একটা বেড়িয়ে পড়বে। তাছাড়া এবার পেন্ডেমিকের জন্য একটু দেরিতে পুজো পড়েছে। একদিকে ভালই হয়েছে। আবহাওয়াও একটু ঠান্ডা ঠান্ডা হয়েছে। আর পাহাড় ওদের দুজনেরই খুব পছন্দের জায়গা। ঊষশী বলল,”শোনো না, বলছি ওই একঘেয়ে লোকেশনগুলোতে যাব না, গিয়েই দেখবো গাদাগুচ্ছের ভীড়। একটু পাশাপাশি ঘেঁষে দাঁড়ালেও জোড়ায় জোড়ায় চোখ পিছু নিতে থাকবে..”। রমিত বললো,”তাহলে কী হয়েছে। থাকুক না ওরা ওদের চোখ নিয়ে, আমরা আমাদের মতো ঘুরবো…”। ঊষশী রমিতের একদম কাছ ঘেঁষে বসলো,ওর খোলা চুল রমিতের মুখে আছড়ে পড়ছে। ঊষশী একহাতে চুলগুলোকে কানের পেছনে গুঁজে দিল। রমিত হাঁ করে দেখছিল ঊষশীকে। রমিত বলল,”তাহলে কোথায় যাবে….”। “দেখোনা কোথাও যদি কোনো হোমস্টে পাওয়া যায়, হোটেলে থাকবো না”,ঊষশী বলে। রমিত বলে,”দাঁড়াও তবে ল্যাপটপটা নিয়ে আসি। বেডরুম থেকে বেড়িয়ে লিভিং রুমে যেতে যেতে রমিত ভাবলো,”আজ ঊষশীর কী হলো, তবে কী তার এতদিনের প্রতীক্ষার আজ অবসান হলো….”। প্রায় তিনঘন্টা ধরে বিস্তর খোঁজাখুঁজির পর একটা পছন্দসই হোমস্টের খোঁজ পাওয়া গেল। পাহাড়ের উপর ছোটো একটি উপত্যকা। একটাই হোমস্টে আছে সেখানে তাও শুধু দুজন থাকতে পারবে‌। নিরিবিলিতে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসার জন্যে দস্তুরমতো উপযুক্ত। বুকিং করে নিল রমিত। ঊষশীর লজ্জায় রাঙা হাসিটা কিন্তু রমিতের চোখ এড়ালো না। সে ও আজ খুব খুশী।

নির্দিষ্ট দিনে বেড়িয়ে পড়লো ওরা। রাস্তায় আসতে আসতে টুকটাক কথাবার্তা চললো ওদের মধ্যে। গাড়িতে করে পাহাড়ে ওঠার সময় ঊষশী রমিতের খুব কাছাকাছি বসে ওর একটা হাত নিজের দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। রমিতও ঊষশীর এই আবেদনে সাড়া দিল। পাহাড়টা খুব খাড়া নয়,কিন্তু  একাকী। পাহাড়ের নীচ দিয়ে বয়ে চলছে নদী, বেশ চওড়া। একটু পড়েই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে গেল ওরা। গাড়ি থেকে নেমে ওরা  চারিদিকের প্রকৃতির বন্যা দেখে অভিভূত হয়ে গেল। ঊষশী একটু এগিয়ে দেখলো উপত্যকা সপাট হলেও কিছুটা গেলেই একেবারে খাড়া গভীর খাদ। তবে সুরক্ষার জন্যে চারপাশে শক্ত মেটালের ব্যারিকেড দেওয়া রয়েছে এটাই যা নিশ্চিন্তের।ঊষশী ব্যারিকেডে হাত রেখে একটু ঝুঁকে নিচে দেখার চেষ্টা করলো,”বাপরে!কী গভীর খাদ”,মনে মনে ভাবলো ঊষশী। “ঊষশী কী করছো”,বলে রমিত দৌঁড়ে এসে ঊষশীকে হাত টান দিল। পেছন থেকে হাত ধরে টানায় টাল সামলাতে না পেরে ঊষশী হুমড়ি খেয়ে রমিতের বুকে পড়লো। রমিত ঊষশীকে জড়িয়ে ধরে বললো,”কী করছিলে,  যদি পড়ে যেতে,তবে কী হতো”। এইপ্রথম ঊষশী রমিতের বুকের গন্ধ পেল, রমিতের বুকে মুখ গুঁজে যে এতো শান্তি সেটা এর আগে কখনো বুঝতে পারেনি সে।  এইরকমই তো চাইছিল সে, ঠিক এইরকম অনুভূতিই অনুভব করতে চাইছিল ঊষশী। মাথা না তুলেই জবাব দিল, “তুমি তো আছ, আমার জন্যে…”। রমিত ঊষশীর খোলা চুলে আঙ্গুল দিয়ে খেলতে লাগলো। ঊষশী ধীরে ধীরে নিজের মুখটা তুললো,তারপর পায়ের পাতাটা উঁচু করে রমিতের ঠোঁটের উপর রাখলো নিজের উষ্ণ কম্পিত ঠোঁট। রমিত প্রাথমিক ভাবে একটু হচকিত হয়ে পড়লেও পরমুহূর্তেই ঊষশীর আবেগের কাছে নিজেকে সমর্পন করলো। এই পাহাড়, এই নির্জনতা, এই নীল আকাশ, এই সিক্ত বাতাস সাক্ষী হয়ে রইলো ওদের প্রথম চুম্বনের।

কিছুক্ষণ পর রমিত বললো,”চলো রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেবে”। হোমস্টের মালিক শ্রীমাধব নাগাপিল্লাই বেশ আমুদে লোক। ওরা রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে কিছু খেয়ে নিল। নাগাপিল্লাইয়ের রান্নার হাতটিও চমৎকার। হোমস্টের পেছনের দিকে একটি ছোটো জঙ্গল আছে। নাগাপিল্লাই বললো যে সেখানে প্রচুর ওয়াইল্ড বেরি পাওয়া যায়। দুদিন ধরে ওরা নাগাপিল্লাইয়ের রান্নার স্বাদাগ্রাহনের পাশাপাশি জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর সাথে সাথে প্রচুর ওয়াইল্ড বেরিও তুললো। প্রতিরাতে রমিত ঊষশীকে নতুন ভাবে চিনতে লাগলো। এদুদিনে ওরা নিজেদেরকে সবকিছু দিয়ে আপন করে নিয়েছে।আজ তৃতীয় দিন, কাল  ওরা ফিরে যাবে। আজ যখন ওরা জঙ্গল এক্সপ্লোর করে বেরোলো তখন হঠাৎই ঊষশীর শরীরটা খুব খারাপ করতে লাগলো। রমিত বললো,”রুমে গিয়ে শুয়ে পড়বে কেমন”। ঊষশী বললো,” না রুমে যাবনা। ওই খাদের ধারটায় একটু দাঁড়াই চলো…হাওয়া চলছে খুব সুন্দর”। খাদটাকে এসে থেকেই এড়িয়ে যাচ্ছিল রমিত। তার কেন জানি খাদটাকে দেখলেই খুব অস্বস্তি হয়।”হয়তো খুব গভীর খাদ…তাই”,এই ভেবে বেশী আমল করে নি।কিন্তু আজ যখন ঊষশী বললো যে খাদের কাছে যাবে তখন না করতে গিয়েও পারলনা। খাদের দিকটায় বেশ সুন্দর হাওয়া চলছিল, ঊষশীর শরীরটাও একটু ভালো লাগতে শুরু করলো। হঠাৎ কেউ যেন ঊষশীর কানে ফিসফিসিয়ে বললো,”ঊঊঊঊষষশীঈঈঈঈঈ”। ঊষশীর কেমন একটা ঘোরের মতন লাগলো। সে মোহগ্রস্তের মতো  এগিয়ে গেল ব্যারিকেডের দিকে। রমিত ঊষশীর হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ায় একটু চিন্তিত ছিল,হয়তো অন্যমনস্কও হয়ে পড়েছিল। হঠাৎই একটা মেটালিক শব্দ হতেই চকিতে ঘাড় ঘুড়িয়ে রমিত দেখে ঊষশী বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে খাদের দিকে। “ঊষশীঈঈ..”,বলে আর্তনাদ করে উঠে রমিত। তারপর দৌঁড়ে গিয়ে টেনে তোলে ঊষশীকে। ততক্ষনে ঊষশী জ্ঞান হারিয়েছেন। রমিতের চিৎকার শুনে নাগাপিল্লাইও বেড়িয়ে আসে। সব শুনে তার কপালে চিন্তার বলীরেখা প্রকট হয়। রমিত ঊষশীকে সাবধানে নিয়ে শুইয়ে দেয় বিছানায়। নাগাপিল্লাই এসে একবাটি সবজির স্টু এনে দিল। নাগাপিল্লাই বললো,”এটা ঊষশীকে খাইয়ে দাও। আমি ডাক্তারবাবুকে ফোন করে দিচ্ছি”। রমিতের মুখে কোনো কথা ছিল না। দুঃশ্চিন্তায় তার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় ডাক্তারবাবু এসে দেখে গেলেন। “বিশেষ চিন্তার কিছু নেই, হয়তো প্রেসারটা একটু বেড়ে গিয়েছিল। আজকের রাতটা রেস্ট করতে দিন। কাল দেখবেন একদম সুস্থ হয়ে গেছে”,ডাক্তারের অভয়বাণী কিছুটা হলেও রমিতের মনটাকে শান্ত করলো। রাতে ঊষশীকে একটু সুপ খাইয়ে দিল রমিত। নিজেও হালকা কিছু খেয়ে নিল। তারপর একটা আর্মচেয়ার টেনে বসে পড়লো ঊষশীর বিছানার পাশে। কপালে আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে বললো,”ভয় পেওনা সোনা, আমি এখানেই.. তোমার পাশেই আছি..”। তারপর একটা পত্রিকা নিয়ে পড়তে লাগলো কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তিতে কিছুক্ষণের মধ্যেই দুচোখে ঘুম জড়িয়ে এলো। রাত তখন অনেক.. হঠাৎ কিছু একটা অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল রমিতের এবং চোখ খুলে দেখে ঊষশী বিছানায় নেই। এক অজানা আতঙ্ক চেপে বসলো তার মনে। তারাতারি ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখলো সদর দ‍রজাও হাট করে খোলা। দৌঁড়ে বেড়িয়ে এলো বাইরে। ঊষশীকে ডাকতে লাগলো কিন্তু তাকে কোথাও দেখতে পেল না..। হঠাৎ তার কানে গেল ‘রমিইইইইইইত,বাঁচাওওওও’, এরকমই কিছু একটা সে ঘরে থাকার সময় শুনেছিল। সে চিৎকার করে উঠলো,”ঊষশীঈঈঈঈঈঈ,কোথায় তুমিইইইইই..”। কী মনে হতে সে দৌঁড়ে খাদের ধারে গেল। যতটা সম্ভব ঝুঁকে নিচের দিকে খুঁজতে লাগলো সে ঊষশীকে। আচমকাই কেউ তার হাত ধরে নিচের দিকে হ্যাঁচকা টান দিল।”আআআআআআআআ”, শুধু একটা আর্তনাদ বেড়িয়ে এলো রমিতের গলা থেকে। সাথে সাথেই কেউ একজন সারা উপত্যকা কাঁপিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। রমিতের চিৎকার শুনে দৌঁড়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে এলো নাগাপিল্লাই। এদিক-ওদিক পাগলের মতো খুঁজতে লাগলো রমিত-ঊষশীকে। ওদের শূণ্য ঘরটা দেখে তার মনে এক নীলাতঙ্ক গ্রাস করেছিল। এখন বাইরেও ওদের কোথাও দেখতে পাচ্ছে না। আর থাকতে না পেরে নাগাপিল্লাই চিৎকার করে উঠলো,”ঐশ্বর্য, মামনি আর কতো,আর কতো নির্দোষ প্রাণ ছিনিয়ে নিবি মা। পাঁচ-পাঁচটি নব-বিবাহিত দম্পতিদের মেরে ফেলেছিস। তোর আর সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুর জন্যে এরা কেউই দায়ী ছিল না”, বলে হাঁটুগেড়ে কাঁদতে লাগলো পঞ্চাশোর্ধ নাগাপিল্লাই। হঠাৎ সারা আকাশ জুড়ে এক ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো,”তুমি দায়ী আমাদের মৃত্যুর জন্যে। কারণ খাদের দিকে তখন কোনো ব্যারিকেড ছিল না। অনেকবার বলেছিলাম কিন্তু তুমি গ্রাহ্য করোনি। ফলতঃ একদিন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হঠাৎই স্লিপ করে আমি খাদের ধারে চলে এলাম।আর আমাকে বাঁচাতে গিয়ে সুব্রামানিয়ামও আমায় নিয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ে গেল। মাত্র পনেরোদিন হয়েছিল আমাদের বিয়ের….মাত্র পনেরোদিন। যে সুখ আমি ভোগ করতে পারিনি, সে সুখ অন্যকেউও ভোগ করতে পারবেনা। আর যন্ত্রণা ভোগ করবে তুমি..প্রতিবার”। ভোরের আলো পূর্ব আকাশে ফুটে উঠেছে। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায় নাগাপিল্লাই। আরো একবার ব্যার্থ চেষ্টা করে নাগাপিল্লাই ওয়েবসাইট থেকে হোমস্টের অ্যাডটা ডিলিট করার। যদিও সে জানে, যখনই কোনো নব-বিবাহিত দম্পতি নির্জন পাহাড়ে হোমস্টের খোঁজ করবে তখনই ওয়েবসাইটে নিজে থেকেই এই হোমস্টের বিজ্ঞাপনটা জ্বলজ্বল করে উঠবে।

Facebook-Post

বলছিলাম কি…

আরে ও বৌদি ! পুজো শপিং কমপ্লিট ? বলেন কি ! এর মধ্যেই ! ও দাদার জিনসটা বাকি ? না না অনলাইনে নেবেন কেন ! এই তো উইকেন্ড আসছে। চলে যান গড়িয়াহাটের দিকে। শো রুম আর মলের অভাব আছে না কি ! ঠেলাঠেলি করে ঢুকে পড়বেন। থুতনিতে একটা মাস্ক ঝুলিয়ে নেবেন শুধু। ঢোকার সময় তো হাতে চন্নামেত্তর মত স্যানিটাইজার তো ছেটাবেই। ব্যাস ! করোনা ফরোনা সব ভোকাট্টা। আর এবার তো তৃতীয়া থেকে ঠাকুর দেখা। এক-আধটা ড্রেস রিপিট হয়ে যাবে হয়ত। ওটুকু মানিয়ে নিন না হয়। ও হ্যাঁ , ভাল কথা – আপনার টপ আর দাদার টি শার্টের সঙ্গে ম্যাচিং মাস্ক কিনেছেন তো ? সে কি ! আরে, ওটাই তো এবার ইন ! কোনদিন তো এই চান্স পান নি আগে ! পাশের ফ্ল্যাটের বৌদিকে ওখানেই ডাউন দিতে পারবেন।
যাক, চুটিয়ে এনজয় করুন। শুধু একটু মনে করে মেডিক্লেম আর এলআইসির কাগজপত্রগুলো হাতের কাছে রেখে দেবেন। না মানে, আমাদের উৎসব তো করোনারও উৎসব কি না ! তাই বলছিলাম আর কি !

সৈকত মজুমদার

কুহেলিকা

স্বপ্না ইসলাম ছোঁয়া

অদ্ভুত এক সকাল যেন
আমার অপেক্ষাতেই ছিল আজ,
বৃষ্টির তুমুল শব্দে অকস্মাৎ ঘুম ভাঙতেই,
ভোরের বাতাসে পেলাম
জলের ঘ্রাণ;
গোলাপি রঙা একগুচ্ছ বাগান বিলাস
অদৃশ্য এক সঙ্গমে তিরতিরিয়ে কাঁপছিল;
জানালায় মুখ রেখে গাঙচিলের
দিগ্বিদিক উড়াউড়ি দেখছি;
একাকীত্বের খোলস ছেড়ে যেন
বহুদিন পর পলকা হাওয়ায় ভাসছে।
কার্নিশে বসা প্রজাপতিটা আজ ক’দিন হয়
আমার ঘরের অপ্রত্যাশিত অতিথি;
কখনো ঝুল পর্দা, কখনো বা ফুলতোলা চাদরে
বসে পাখা ঝাঁপটিয়ে বলে, ‘শোনো মেয়ে,
কবিদের নিজস্ব কোনও দুঃখ থাকতে নেই।
অজস্র মানুষের বেদনার আরক গিলে গিলে
কবি’রা একদিন অকালেই ঝড়ে যায়।”
আমি তো জানি- বিষাদময় রাত শেষে
সদ্য আড়মোড়া ভাঙা এই ভোর আমার নয়।

  •  
    1
    Share
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •