• 60
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    60
    Shares

CONTENT | ISSUE 20 | 15th NOV, 2020

 

KAFE HOUSE

 

বৃক্ষবাড়ি – অনীশ ঘোষ

 

রাগাশ্রিত তিলোত্তমা – বাদল বিহারী চক্রবর্তী

আমার কথা – অরুনাভ

সিঁড়ি – তনিমা সাহা

আবৃত্তি – মান্যতা ব্যানার্জী

Painting – Rubia Chatterjee

বৃক্ষবাড়ি

অনীশ ঘোষ

এ পাড়ার সদ্য গড়ে ওঠা দোতলা বাড়িটায়
কিছুদিন হল বসত করছে এক বৃক্ষ পরিবার
তন্বী বৃক্ষটি ফুটফুটে এক বৃক্ষশিশুর হাত ধরে
ডালপালা মেলে দেয় বাড়িটির বাগানে ও ছাদে
এক টুকরো ব্যালকনির উন্মুক্ত ডানায়।
শয়নঘর স্নানঘর রান্নাঘর করিডরে
বৃক্ষ পরিবারের আনাগোনা চলে সারাদিন।
সংসার মেলা থাকে টুংটাং বাড়িটির তারে ও দড়িতে
কখনও ভরন্ত শরীরে বৃষ্টি মেখে সতেজ তন্বীটি
আরও সুপুষ্ট হয়ে উঠতে থাকে ভাঁজে ভাঁজে
কোনোদিন শেষ বিকেলের মায়া–‌আলোয় উছলে ওঠা শরীর
নিদারুণ আগুন ছড়াতে থাকে চারপাশে উন্মুক্ত চত্বরে
ঝলমল করে ওঠে বক্ষখাদ উন্মুক্ত বাহু হংসিনী গ্রীবা।
রেলগাড়ির মতো ঝমাঝম ঝমাঝম
পাড়াসুদ্ধ সওয়ারি নিয়ে গড়িয়ে যায় বৃক্ষনারী
কোনও এক অনিশ্চিত স্টেশনের দিকে.‌.‌.‌

সতত চঞ্চল বৃক্ষরা ডানা মেলে অনির্বাণ মায়াদ্বীপে এক
যেখানে মনরং এঁকে রাখে ক্যানভাসে গান
আকাশভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ.‌.‌.

রাগাশ্রিত তিলোত্তমা

বাদল বিহারী চক্রবর্তী

আমার গ্রীণরোমটিতে মেকআপ দেয়ার মতো
উপাদানের অভাব ছিল না।
তবু কেন জানি মনের মতো শিল্পরূপ দিতে পারছি না তোমায়
অথচ দ্যাখো- মানসসুন্দরী’তে কতো প্রাণবন্ত কতো মনোমুগ্ধকর
সজীবতায় তোমায় আত্মভোলা করে বের করে নিয়ে গেলেন কবিবর
সে তো আজো আমাদের চোখে লাগা নন্দিত চিত্রালেখ্য।

তোমার অভিমানটা আমি বুঝি, আর বুঝি বলেই
মাঝে মাঝে মরিয়া হয়ে ওঠি রঙের সংমিশ্রণে আমার
তুলি ডুবিয়ে তোমার গায়ে আঁচড় লাগিয়ে তোমায়
তিলোত্তমা করে সুখপঠ্য করে তোলতে।

বলতে দ্বিধা নেই- এ বড় শক্ত কাজ
এ শিল্প যে শুধু বাহ্যত দৃশ্যমান রঙ-তুলির সঞ্চালনা, তা নয়
এ যে ভূয়োদর্শনপ্রিয় মস্তিষ্কের অদৃশ্য গ্রিনরুম থেকে
বেরিয়ে আসা অসংখ্য গ্রন্থিত যাদুকরি দৃশ্যায়ন
তা যে আমার সাধ্যবতীত গো।

লোকে বলে- আমি নাকি আশাবরি গাইনি,গাইনি বিলাবলও
সেই প্রত্যুষে এসব ভায়রো না গেয়েই দিনান্তে আমার
ইমন গাওয়া হোক না বেমানান- তোমাকে চিত্রকাব্য করে তোলতে
যদি সারারাত অপেক্ষা করতে হয় ; না হয় বেসুরো গলায়
গাইবো আমি দিবসের প্রথম প্রহরের সেই ভায়রো রাগটি আবার।

আমার কথা

Hands, Open, Candle, Candlelight, Prayer, Pray, Give

নমস্কার, আমি অরুনাভ! 2021সালের উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার্থী ! মা বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ার সুবাদে তাদের সবটুকু ভালোবাসা যত্ন এবং স্কুলের সকল শিক্ষক -শিক্ষিকা গণের স্নেহ ও সাহচর্যে পুরোদমে চলছে পরীক্ষার প্রস্তুতি! আমার চোখে কত স্বপ্ন–,আমার ফুটবল খেলা, ছবি আঁকা ,আবৃত্তি করা! আর সবার উপরে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে দেশের ও দোশের একজন হয়ে ওঠা! ছোটবেলা থেকেই আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল একজন পারফেক্ট মানুষ হয়ে ওঠা !আমার সবটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ! তাদের সেবা করা !
কিন্তু আজ হঠাৎ আমার ভাগ্যাকাশে একটা ঝড় উঠেছে ! সমস্ত আকাশ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে নিকষ কালো মেঘে,আমার সব স্বপ্ন. যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে ! আমি যখনই লড়াই করে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা তখনি যেন আবার একটা প্রচন্ড ঝড়ের সমুঙ্খীন হচ্ছি! সে যেন আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবার চেষ্টা করছে, আমাকে হারিয়ে দিতে চাইছে ! আমার স্বপ্ন প্রদীপের শিক্ষা আজ নিভতে বসেছে! কিন্তু আমি হারতে চাইনা! আমি দুহাত দিয়ে আমার স্বপ্নের সেই শিক্ষাকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করছি!
আজ দীপাবলির শুভ লগ্নে যখন সারা দেশ আলোক শিক্ষা দিয়ে ঘর সাজানোর আনন্দে মেতে উঠেছে তখন আমি আমার বাড়ি ছেড়ে বহুদূরে একটি ছোট্ট ঘরে বসে লড়াই করে যাচ্ছি আমার জীবনশিখাকে জ্বালিয়ে রাখার জন্য !

আমি জিতবোই ……জিততে আমাকে হবেই! আমাকে যে এখনো অনেক দূর যেতে হবে!তোমরা আমার পাশে থেকো !

ধন্যবাদ – শিক্ষা

 এসেছে শরৎ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মান্যতা ব্যানার্জী (বয়স -5)

Play Video

গল্প :-

সিঁড়ি

তনিমা সাহা

Face, Faces, Dialogue, Talk, Psyche, Anxious, Trouble

মনোজের সিড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠতে খুবই বিরক্ত লাগে। পাঁচতলাতে তার ফ্ল্যাট। তার উপরে ছাদ। ছাদটাকে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করার জন্যই পাঁচতলাতে ফ্ল্যাট নিয়েছিল মনোজ। একটু – আধুক সিগারেটের নেশাও আছে, কখনোসখনো হয়তো একটু কারণসুধা পান করে। শরীরটা বেশ স্থূলকায় হওয়ায়ন্ত অল্প পরিশ্রমেও মনোজ বড্ড হাঁপিয়ে পড়ে। আজকাল তো আবার মাস্ক পরে থাকতে হয় সারাক্ষন… সে আবার আরেক ঝক্কি! দমটা যেন যায়-যায় করে তার।
দুনিয়ার কাজ-বাজ শেষ করে আজ বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল মনোজের। আজকে আবার অফিসে একটা পার্টিও ছিল। সেখানে রঙিন পানীয়টা একটু বেশিই খাওয়া হয়ে গেছে। মনোজের গাড়ি নেই, বাইক আছে। কিন্ত আজ মনোজ একটু মাতলামি করছিল তাই কলিগ কাম বন্ধুরা তাকে বাইকে বাড়ি ফিরতে না দিয়ে একটা অটোতে চাপিয়ে দিল। 

অটোর ভাড়া মিটিয়ে স্খলিত পায়ে ধীরে ধীরে আবাসনের গেট পেরিয়ে লিফ্টের বোতামটা টিপল মনোজ। অনেকবার বোতামটা টেপার পরও লিফ্টের পাত্তা নেই। বিরক্তিতে একটা অশ্রাব্য গালাগাল দিয়ে মনোজ সিড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করলেন। রাত তখন সাড়ে বারোটা।

মনোজ সিড়ি দিয়ে উঠছে তো উঠছেই, সিড়ির মেলা যেন শেষই হয় না। অথচ মনোজের সঠিক খেয়াল আছে যে দশধাপের সিড়ির সারি পেরোলেই তার ফ্ল্যাট এবং তাতে সর্বাধিক পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট লাগার কথা। কিন্তু এ যেন মনে হচ্ছে যে সে যুগ যুগ ধরে সিড়ি চড়ে যাচ্ছে। কি মনে হতে মনোজ একবার হাতঘড়িতে চোখ বোলালো। সে দেখে হাতঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে রাত দুটো। চোখ কপালে উঠলো মনোজের। ” একি! এতক্ষণ ধরে তাহলে আমি করছিলামটা কি”,মনে মনে ভাবলো মনোজ। “নেশাটা মনে হয় একটু বেশিই হয়ে গেছে”,নিজেকে আস্বস্ত করলো সে। মনোজ আরো কিছু সিড়ি অতিক্রম করলো। কিন্তু কোথাও তার ফ্যাটে যাবার রাস্তা খুঁজে পেল না। এবার একটু একটু ঘামতে শুরু করছে মনোজ। মনের মধ্যে অজানা এক আতঙ্কও দানা বাঁধতে শুরু করেছে তার। মনোজ আরো একটু চেষ্টা করলো কিছু সিড়ির ধাপ পেরোতে। পাদুটো এখন কনকন করে ব্যথা করছে। হাতঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে রাত পোনে তিনটে। হঠাৎ মনোজের মনে হলো তার পেছনে কেউ আছে। ঝট করে পেছনে ফিরলো মনোজ। কেউ কোথাও নেই! এমনসময় ঝপ্ করে সিড়ির আলোগুলো সব একে একে নিভে গেল। ভয়ে মনোজের গলা শুকিয়ে গেল। ওই ঘুটঘুটে কালো অন্ধকারের মধ্যে মনোজ যেন কারোর অস্তিত্ব স্পষ্ট অনুভব করলো। সে যেন মনোজের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে, জোরে জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস ফেলে, পায়ের শব্দ করে প্রবলভাবে তার অশরীরী অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছিল। মনোজের হাত-পা এবার থরথরিয়ে কাঁপছে। যত সময় যাচ্ছে ততই মনোজের আতঙ্কে আত্মারাম যেন শূণ্য হয়ে যাচ্ছে।অকস্মাৎ মনোজের কানের কাছে কেউ খনখনে গলায় এক আর্তভদী চিৎকার করে উঠলো। ব্যাস!আর কিছু মনে নেই মনোজের।

পরদিন সকালে সিটি হাসপাতালে বেড নম্বর চৌদ্দোর সামনে বিপুল, চন্দ্র, অসীম ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে মনোজকে ঘিরে বসে আছে। অসীম বললো,”ভাই, কালকে মনে হয় হুইস্কিতে ভাংয়ের পরিমানটা একটু বেশি হয়েছিল রে”। চন্দ্র বললো,”তোকে বলেছিলাম বেচারা একাবোকা মানুষ,অতটা মাল সহ্য করতে পারবে না। কিন্তু তোর মাথায় তো তখন দুষ্টু বুদ্ধি সুরসুরি দিচ্ছিল”। চন্দ্র চাপা গলায় দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো,”তুইও অযথা ভুতের গল্পটা শুনিয়ে আগুনে ঘী ঢেলেছিস”। বিপুল বললো,”তোরা একটু চুপ কর। ভগবানকে ধন্যবাদ দে যে মনোজের বড়োসড়ো কোনো ক্ষতি হয়নি। শুধু সে মাথা ঘুরিয়ে পরে গিয়েছিল। ভাগ্যিস সিকিউরিটি গার্ডের কাছে আমার নাম্বারটা রাখা ছিল। তাই সময়মতো সব ব্যবস্থা করা গেছে। নয়তো প্রসার বেড়ে স্ট্রোক হয়ে গেলে সারাজীবনেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারতিস না”। ওদের কথাবার্তার মাঝেই মনোজ ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো। মনোজের জ্ঞান ফিরতে দেখে বিপুল, চন্দ্র আর অসীমরা যেন বুকে প্রান ফিরে পেল।

Painting by Rubia Chatterjee

Publish Your Book with Kafe House 

Sell on Amazon and Offline-Stores 

Earn 100% ROYALTY

Hardbound with Jacket | Paperback 

Free E-book | Free-Distribution | Interview | Book Review | Advertising and Promotion

Mail us: insightfulsite@gmail.com

  •  
    60
    Shares
  • 60
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •