• 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

CONTENT | ISSUE 24 | 13th Dec, 2020

KAFE HOUSE

FEATURE

Sunday Streaks by Samik Sen

Poem

ভুল পথের যাত্রী – স্বপ্না ইসলাম ছোঁয়া (বাংলাদেশ)
মধ্যরাত্রি – নীতুল জান্নাত নীতি (বাংলাদেশ)
স্বাধীনতা – নাসরিন আক্তার (বাংলাদেশ)

Interview

ঝুমুরের মরমীয়া কন্যা – পৌলোমী ভট্টাচার্য্য

Others

রোদ্দুরের গল্প – কল্যাণ ভট্টাচার্য্য
আইরিন রহমান (বাংলাদেশ)

SUNDAY FEATURE

Sunday Streaks by Samik Sen

Rust, Abstract, Colorful, Grunge, Rustic, Texture, Old

Road not tested…

To love without knowing what you love is the way to paradise, a way which runs through a forest dense with the images shipwrecked long long ago. If you cull those images from the glass you have forsaken and hang on your walls, the house will collapse, for houses are built upon the trifles that have learnt to deck themselves up for the show. As they say the show must go on, like the stream inside the veins and arteries.
To love without knowing what you love is the way back to the garrulity of the Eternal, from which this absurdity issued…

Flower, Texture, Pattern, Fabric, Detail, Nobody

Random Rambling

I feel like unbosoming myself to you dear. I wish I could make you feel how badly I miss my spent fire, the youth that has been stolen from me. Gone is the time, when drunk in the fatal charm of Eustacia Vye, I like a Wildeve used to ride a horse tipsy enough to match my mood. For hours I used to read the Romantics, and my blood whistled across the lines, my head dizzy with raptures, my frenzy was the only muse I knew. I have driven her out of my cottage and her face was red with tears. Where have my days fled, where have my dreams disappeared?

It’s sad to grow old, to age like a tree and fall like a leaf. Sleep has licked me up, I can hear its jaws munching my loneliness like the crow that is called time. Time is that crow that keeps on pouring out its venomous voice sitting upon the window of our hope… yes my dear, only the clock keeps on ticking, nothing else moves. It’s the clock that turns the black into grey.

ভুল পথের যাত্রী

স্বপ্না ইসলাম ছোঁয়া (বাংলাদেশ)

Yellow, Abstract, Art, Gel, Water, Colors, Background

ভুল পথে হেঁটে গ্যাছি বহুবার,
হেঁটে হেঁটে চলে গ্যাছি চেনা সীমানা পেরিয়ে,
বিস্তৃত অরণ্যে- নিঃসীম একাকীত্বে, একা;
দাঁতালো আঁধার নেমে এসেছে সন্ধ্যার আগেই,
খেই হারিয়েছে- শুক্লাদ্বাদশীর উন্মনা চাঁদ
শ্বাপদসংকুলের ঐন্দ্রজালিক আহ্বানে।

কেউ বলেনি, জমাট আঁধারের ওপারে
অপেক্ষমাণ বিচ্ছুরিত আলোর কথা,
কেউ শোনায়নি, বেপরোয়া পতঙ্গ জীবন
কী করে ভুল গোলাপেই আটকে ছিল বারোমাস,
অথচ, স্বপ্নের শিয়রে বসা বিষণ্ণ সুন্দর
প্রতীক্ষায় থেকে থেকে, একদিন সে-ও
শীতের কুয়াশায় এঁকে দেয় বসন্তের দীর্ঘশ্বাস।

আজ আমি রাতের আসরে মদিরা সাজাই,
প্রেম জলাঞ্জলি দিয়েছি, কিশোর কাদামাটি জলে
প্রজাপতির চুম্বনে- চিবুকের তিলক রাঙাই
হৃদয়ের অসুখ বাড়ে, কেউ ভালোবাসেনি বলে।

মধ্যরাত্রি

নীতুল জান্নাত নীতি (বাংলাদেশ)

Moon, Full Moon, Sky, Nightsky, Lunar, Moonlight, View

জানালার কাচের শিশিরটুকু যদি ছুঁয়ে না দেই,
তবে তোমায় দেখবো না।
অথচ, ভয় এদিকে সপ্তপর্ণীর সুবাসের কাছে পরাজিত হবার-বারবার!
কোথায় শরত এসে মিলিয়ে গেল ঝরা পাতা হয়ে-
কোথায় অপেক্ষা রঙিনের,
সেই হিসেব মিলবে না।
তবুও, অস্থিরতা নেমে আসে ঝাপসা নগরীতে- এক পারাবার!
এই মধ্যরাতে,
জানালার কাচের শিশিরটুকু মুছে না দিলে,
প্রণয়ের অন্য নাম আধপোড়া নিকষ আধার-
তোমায় খুঁজে পাবো না।

ঝুমুরের মরমীয়া কন্যা 

পৌলোমী ভট্টাচার্য্য

 

 ‘লোকসংস্কৃতি ’ র বৃক্ষের একটি অন্যতম শাখা লোকগীতি । এই  ‘লোকগীতি’ র বিশেষ ফসল ‘ঝুমুর’  । গুহাবাসী মানুষের তখন সবেমাত্র কৃষিকার্য্যে  হাতে খড়ি হচ্ছে , ঠিক এই সময় বিনোদনের জন্য মুখনিঃসৃত শব্দ বেঁধে বেঁধে সুরমুর্ছনার সৃষ্টি,  পাশাপাশি নৃত্য । আর এই সমস্ত চিত্র প্রাগৈতিহাসিক মানব ফুটিয়ে তুলতো গুহার গায়ে, যা থেকে পরবর্তীকালের ‘ঝুমুর’ এর সাথে মিল খুঁজে পেয়েছেন ঐতিহাসিকরা –

          “ গানগুলি প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার বিশ্বস্ত সাংস্কৃতিক প্রতিনিধির হিসেবে বিবেচিত হয় । ” [ চট্টোপাধ্যায় এন,  ১৯৯৯ ]

          এরপর হরপ্পা মহেঞ্জদড়োয় প্রাপ্ত মুদ্রায় নৃত্যরত নটরাজ বা শিবের গলায় মাদল পরিলক্ষিত হচ্ছে । যা ‘ঝুমুর’ এর অন্যতম বাদ্যযন্ত্র। এ থেকে বলা যেতে পারে এই সময় ঝুমুরের অস্তিত্ব ছিল।  

ঐতিহাসিকগত দিক ছাড়াও সাহিত্যগত দিক থেকে বিচার করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতি ও গোবিন্দ দাসের পদেও ‘ঝুমুরে’ র উল্লেখ পাচ্ছি আমরা । বিদ্যাপতির একটি পদে আছে –

“ গওই সহি লোরি ঝুমরি সঅন-আরাধনে যাঞা ”।             

অন্যদিকে গোবিন্দ দাসের পদেও পাওয়া যাচ্ছে – “মদন মোহন হরি মাতল মনসিজ যুবতী যুথ গাওত ঝুমরী ”।

 এই সমস্ত দিক বিচার করে দেখা যাচ্ছে ঐতিহাসিকগত ও সাহিত্য-সংস্কৃতিগত দিক 

থেকে, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ‘ঝুমুর’ এর গুরুত্ব অপরিসীম যা আজও বহমান । 

আর এই ‘লোকসংস্কৃতি ’ কে বাঁচিয়ে রাখতে যিনি নিবেদিতপ্রাণা, এবার তাঁর কথায় আসি ।তিনি হলেন ‘ উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুবা পুরস্কার ’ 

( ২০১৮, জাতীয় পুরস্কার ) প্রাপ্ত ‘ঝুমুর’ শিল্পী শ্রীমতি মধুশ্রী হাতিয়াল । তিনি শুধু শিল্পী বললে কম বলা হবে । তিনি এই ‘লোকসংস্কৃতি’ তথা ‘লোকগীতি’র  অন্যতম ধারক ও বাহক ।

একান্ত আলাপচারিতায় তাঁর প্রাণের ‘ঝুমুর’ নিয়ে তিনি কি বলেন শোনা যাক –


◑‘ঝুমুর’ এই বীজটা তো শৈশবেই রোপন হয়েছিল আপনার  ?


✪ হ্যাঁ ঠিকই , আমার ঠাকুরদা শরৎচন্দ্র হাতিয়াল গড়েছিলেন পালাগানের দল । শিশুবেলাতেই ঠাকুরদার কোলে বসে পালাগান শুনতে শুনতে সুরের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি । এছাড়া দাদা কাজল কান্তির হাত ধরে গ্রামে গ্রামান্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টুসু, ভাদু, করম, শীতলা মঙ্গল, ষষ্ঠী মঙ্গল , বাঁধনা গান খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছি , যা আমাকে লোকসঙ্গীত অনুরাগী করে তোলে । এরপর একটু বড় হওয়ার পর ঠাকুরদার পালাগানের দলে লোকগানের অভিষেক । ঠাকুরদার নিজের লেখা চণ্ডীমঙ্গল ও দশমহাবিদ্যায় প্রথম গান করি আমি । এছাড়াও সুবর্ণরেখার ধারে বেড়ে ওঠা । এখানে গোপীবল্লভপুরের আমনপুর গামী নৌকায় বৈরাগীরা গান করতে করতে নদী পেরোতেন, যা আমাকে ভীষণভাবে নাড়াতো । এখানেই টুসু, ঝুমুরের দলের সঙ্গে পরিচয় আমার। সেই সময় প্রবীন ঝুমুর গাইয়ে অমল মাহাতোর কাছে হাতেখড়ি । ইনিই আমার আদিগুরু ।


◑আপনার মর্মের ‘মরমীয়া’, এর যাত্রাটা ঠিক কি রকম ?


✪‘মরমীয়া’ আমার একান্ত নিজস্ব দল । এই দল গড়ে তোলার আগে মেদিনীপুরের কালীপদ মাহাতো, মহাদেব কালিন্দী, পিয়ার আলির মতো ঝুমুর গায়কের সান্নিধ্যে চর্চা করেছি । নাড়া বেঁধে ঝুমুর শিখেছি পুরুলিয়ার কিশোর গুপ্তের কাছে । অসম ও ঝাড়খণ্ডের মর্দানি ঝুমুরের গুরু পদ্মশ্রী মুকুন্দ নায়কের কাছেও ঝুমুরের তালিম নিই । এরপর ২০০৯ সালে নৃত্যশিল্পী, সহশিল্পী ও যন্ত্রীদের নিয়ে ২০ জনের দল গড়ি । যার নাম ‘মরমীয়া’ ।

◑এবার আপনার ঝুমুর গানের আঙ্গিক নিয়ে কিছু শোনা যাক ।

 

✪ঝুমুরের বিবিধ ভাগ । তো আঞ্চলিক ভাষাগত দিক থেকে দেখতে গেলে বিস্তৃত ভারত জুড়েই ‘ঝুমুর’ পরিলক্ষিত হয় । তবে আমি মূলত – উড়িয়া, ঝাড়খণ্ডী বা মানভূমী, পূর্বালী, নাগপুরী , বাঙালী ও অসমীয়া ভাষাতেই ‘ঝুমুর’ গান করে থাকি । অন্যদিকে শ্রেণীগত দিক থেকে – পালা, নাচলী, দারসালিয়া , কুর্মালী , আদিবাসী, বাগালিয়া, পাতা-সালিয়া ‘ঝুমুর’ আমি করি । এছাড়া ঋতুগত অনেক ভাগ আছে চৈতালী ঝুমুর আমার গানের বিষয় ।

◑বিষয় বা কাহিনী যাকে আমরা ‘থিম’ বলে থাকি,      তো আপনার ঝুমুরের ‘থিম’ কি ? 

 

✪থিমের ভিত্তিতে দেখতে গেলে –

               (১)   লৌকিক প্রেম

               (২)   রাধা কৃষ্ণেরপ্রেম

               (৩)  পৌরাণিক কাহিনী

               (৪)   সামাজিক কাহিনী

               (৫)   প্রহেলিকা ।  

     আমার গানের উপজীব্য বিষয়  ।

◑সম্মানের মুকুটে অনেক পালক আপনার । 

✪’ঝুমুর’ গানের জন্য আজ আমার এই প্রাপ্তি ।         আমার জীবনে এখনো পর্যন্ত সেরা পুরস্কার ২০১৮ সালে ‘সঙ্গীত নাটক একাডেমীর’ ‘উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুবা পুরস্কার ’ ( জাতীয় পুরস্কার)। এছাড়াও ‘বিশ্বভারতী’ (শান্তিনিকেতন) ৯৬ তম বার্ষিক উৎসবে – ‘কবি/সাহিত্যিক সম্মান’ (২০১৮)।  উড়িষ্যায় – ‘ ইন্দিরা কৃতি সম্মান’ (২০১৮) । এছাড়া রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের বোর্ড অফ এডুকেশনের এক্সপার্ট কমিটির সদস্য ।


◑’আকাশবানী’ র সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ।

✪২০১৬ সালে আকাশবানী কলকাতাতে 

গায়িকা ও নিয়মিত লোকশিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হই। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই কাজ করে যাচ্ছি। 

 

◑আপনার ‘মরমিয়া’ রাজ্য ছাড়িয়ে রাজ্যের বাইরেও প্রভাব বিস্তার করেছে ।

 

✪হ্যাঁ, আমি আমার রাজ্যে লোকশিল্পী হিসেবে অনেক অনুষ্ঠান করেছি । তেমন রাজ্যের বাইরেও লোকশিল্পী হিসেবে ২০১০ সালে প্রথম ওড়িশার গঞ্জামে অনুষ্ঠান করি । ২০২০ সালে অসমের গোয়াহাটিতে ‘খেলো ইন্ডিয়া’র অনুষ্ঠানে ‘ঝুমুর’ মঞ্চস্থ করি । ২০২০ সালে মণিপুরের উখরোলে ‘ন্যাশানাল ট্রাইবাল ফেস্টিভেল’ এর অনুষ্ঠানে ‘ঝুমুর’ মঞ্চস্থ হয় । এছাড়া বিহার, মধ্যপ্রদেশ ,রাঁচি, ঝাড়খন্ডে অনেক অনুষ্ঠান করার সুবাদে আমার এই নিজের গড়ে তোলা দল রাজ্যের বাইরেও তার পরিচিতি লাভ করেছে ।

 

◑ঝুমুর নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ?

 

✪মেদিনীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আদিবাসী, কুর্মী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে গান সংগ্রহ , পুরুলিয়ার ছৌ এর মধ্যে যে ঝুমুর গান ব্যবহৃত হয় তা নিয়ে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছি । এছাড়া রাজ্যের বাইরেও ঝাড়খন্ডের মর্দানী ঝুমুর , নাগপুরী ঝুমুর, মধ্যপ্রদেশের বৈগা সম্প্রদায়ের লোকশিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছি ।

◑লোকসংস্কৃতি রক্ষার্থে আপনার ‘মরমীয়া’  কিভাবে কাজ করছে?

 

✪‘মরমীয়া’ আমার সন্তান তুল্য । সম্প্রতি  ‘মরমীয়া ট্রাষ্ট’ গঠিত হয়েছে । সরকারী সাহায্য আসতে শুরু করেছে । ২০১৯ সালে ‘বাঁধনা পরব’ এর মাধ্যমে ‘মরমীয়া’র কর্মকান্ড অনেক বিদ্বজ্জনের নজরে আসে । ঝুমুরের পাশাপশি আদিবাসী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা কাজ করে চলেছি । ঝুমুরের কোন লিখিত রূপ না থাকায় লোকশ্রুতির কারণে ভাষাগত ও অর্থগত পরিবর্তন ঘটছে । এই অপভ্রংশগত পরিবর্তন ঝুমুরের ক্ষেত্রে কখনোই কাম্য নয় । এর ফলে মূল গান পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেই পরিবর্তন থেকে ‘ঝুমুর’ তথা ‘লোকসংস্কৃতি’ কে রক্ষা করাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য । আর আমার ‘মরমীয়া’ সেই লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজটিই করে যাচ্ছে ।

লেখিকা পরিচিতি- পৌলোমী ভট্টাচার্য্য।

স্বাধীনতা
নাসরিন আক্তার (বাংলাদেশ)

Gull, Bird, Flying, Orange, Sunset, Sun, Ease, Freedom

সহস্র মৃত্যুর মিছিল ডিঙিয়ে
তোমার জন্ম হলো,
সদ্য কিশোরী মায়ের জঠর ছিঁড়ে
জন্ম নিলাম আমি,
শীর্ণ দু’বাহু বাড়িয়ে
তুমি বুকে তুলে নিলে।

তারৎস্বরে আমার কান্না শুনে
খুশিতে তোমার আটষট্টি হাজার বর্গমাইল শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিলো সোনালী আলোর ঝিলিক ।

তোমার জন্ম সহস্র মৃত্যু ডিঙিয়ে
আমার জন্ম তোমার রক্তস্নাত ভূমিতে।
প্রতিটি জন্ম নিয়ে আসে
একটি সংগ্রামের ইতিহাস।
আমার জন্ম, আমার কান্না ছিলো
অলিখিত স্বাধীনতার দলিল।

Garbage, Trash, Litter, Recycling, Frustration

ইদানিং কোনো কিছুই আমাকে আর আকৃষ্ট করেনা। কোনো কিছুর প্রতি কোনো আকর্ষণ বোধ করিনা। নতুন বই বা নতুন কেনা কোনো জামার নতুনের সুঘ্রাণ আমাকে আকৃষ্ট করেনা।

কোনোকিছু পাবার আকুতি বা হারাবার ভয়ও হয় না আর। রাগ, ক্ষোভ, হিংসা, প্রতিশোধ পরায়নতা কিছু আর আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় না।

কারো উপরেই আর অভিমান হয় না আমার। একটা ছকে বাঁধা রুটিনের চাকায় আমি প্রতিনিয়ত পৃষ্ঠ হচ্ছি, বিরক্তও লাগেনা। চোখের কোনে খুশীতে বা দুঃখে পানি জমে না যে কতো কাল তাও বলতে পারিনা।

আইরিন রহমান (বাংলাদেশ)

রোদ্দুরের গল্প

কল্যাণ ভট্টাচার্য্য

Plant, Sunlight, Tropical, Leaves, Sunset, Evening
বারান্দায় বসেই আছি হাপিত্যেস, রোদ্দুর আসবে কবে! হঠাৎ ঝাঁপিয়ে এলো রোদ্দুর! বললো কী এমন পাঁচালী অশুদ্ধ হলো আমি না এলে? কী বলি তাকে, বলাও যায়না, যদি তাই শুনে ছায়া এসে বসে পাত পেড়ে৷ আমার সখ্যতা রোদ্দুরের সঙ্গেই করার ইচ্ছে, জানিনা এই অবেলায় হবে কী না তা৷ অবশ্য রাগারাগি থেমে যাবার পর, বেশ গুছিয়ে গল্প করতে বসলাম পাশাপাশি৷ ঘরের পাশে অগোছালো কাক অজান্তেই এসে বসেছে, আর কয়েকটা পাখি, তারা উদাসী হয়ে ঢুকে পড়েছে ঘরে৷ রোদ্দুর আমার সঙ্গে আর ঐ পাখিদের সঙ্গেও খেলে বেড়াচ্ছে৷ ছায়া আসলেই ভুতুম পেঁচার গল্প বলবে, ভুষুন্ডির মাঠের গল্প বলবে, আমার ভালো লাগেনা, ভয় হয়৷
এর পর বারান্দার পাশে টগর ফুল ফুটবে, আমার অনেক দিনের সাধ ঐ টগর ফুলের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাই, কথা বলি৷ একদিন বলতে গেলাম, হেসে বললো, যাও মাছ ধরতে যাও৷ সে আবার কী! যা হোক চললাম মাছ ধরতে! মাছেরা আমায় দেখেই হাসাহাসি! তাদের আর ধরবো কী, পুকুর পাড়ে পাটি পেতে খোশগল্প করতে লাগলাম৷
দিন গড়িয়ে সন্ধ্যে হলো, চিল এসে হাঁকডাক করলো, চলে যাও, আমি ডানার রোদ্দুরের গন্ধ মুছে ফেলি এবার৷ আমি কী এবার কোটরে ফিরে যাবো? সময় হয়েছে দু একটি ইঁদুর ধরার?

  •  
    20
    Shares
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •