•  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতি রবিবার​

Sunday Supplement 

BILINGUAL WEBZINE

26th July, 2020

Photo: Kalyan Bhattacharya


Paint My Lilies Pink

Suchetana Biswas

When the soothe in darkness knocks, and my ear’s locked 

And my head’s heavy, sickness in tube prevails tough 

I, paint some forlorn faces , and lilies by the bank ; 

Tell me , if it’s necessary to hear all sounds , 

If my lilies are vibrant, and cities smile deep. 

Afternoon alliterations, miserably, failed to cure my weary eardrums , 

Keep quiet! -Let me sit by the banks I drew

Dews of the modern morning , find me sublimity

Heart’s aching, no sciences exist in the cells , 

Off to Thames, new English air, let me breath. 

Again, back to the bed I sleep, hear nothing

Meters lost its track of old era, consider me 

Why not a single night  , peaceful? -I am lost

Mom told me, to mind my meters , keep tracks 

But I am lost and deaf. Oh there-

I am not done painting my lilies pink.Bless it harmony?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

RAIN

Anuska Bagchi

 

Now I want to speak of my hunger for you

how long ago

it carved out the center of me

like a woodworker hollows the log to make a bowl

I am the bearer of water

built to receive

pouring out

As the creek floods and drains

at times I hold nothing more than droplets

rain grown along my belly

I can only reflect what I contain

a hundred liquid mirrors

but it was not your hands

in this poem you are not the woodworker

you are the rain

Falling

and I am the vessel

Overflowing

in the end I found

I could not carry the sea

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Photo: Kalyan Kumar Bhattacharjee

অনুপমা

Mitul Debnath

ছোটবেলার কথা যখন মনে করি,
প্রতিটি স্মৃতি তে তুমি মিশে আছো।
ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা ফটোফ্রেম,
তোমার কোলে ছোট্ট আমি, ‘বিড়ালের ছানা’ যাকে তুমি বলো,
সেই দিনের কথা মনে না থাকলেও, তোমার স্পর্শ ভুলিনি এখনও।
ঘুম না আসলে তুমি যে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঠাকুমার ঝুলি থেকে একের পর এক গুপ্তধন শোনাতে, তা মনে করে আজও আমি ঘুমোতে যাই।
সেই যে দিন দুপুরে রাস্তায় চলার পথে এক অস্বাভাবিক কাণ্ডে ভয়ে তোমার কাছে এসে মুখ গুজে অবিরল কেঁদেছিলাম, বিষণ্ণ তায় তোমার আঁচল গেছিলো ভিজে,
তুমি “কিচ্ছু হয়নি! সব ঠিক আছে।” বলে আমার সব আশঙ্কা মুছে দিয়েছিলে।
সেটি ভেবে যেন আজও এক স্বস্তির হাফ ছাড়ি।
রাগ করে খেতে না চাওয়া, অহেতুক বায়না, পড়তে বসতে বললে চুপিচুপি টিভি দেখা, তোমাকে রাগিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা-
সবই যেন আজ পড়ে আছে।
তবে আজও কোনো ভুল কাজ করতে গিয়ে তোমার চোখ বড় করা মনে পড়লেই দু পা পিছিয়ে যাই।
গোটা ছোটবেলা তো তোমাকে নিয়েই জড়িয়ে আছে।
আজও বড় হয়ে ভিন্ন শহরে থেকে তোমাকে ভিডিও কোলে দেখে স্মৃতির ধারা আটকাতে পারিনা।
জানি তোমারও দুফোঁটা জল পড়ে, আবার নিজেকে সংবরণ করে নাও।
মনে তো পড়ে তোমার সব ছোট কথা, তাই খেতে বসলেই তোমার হাতে মাখিয়ে দেওয়া ভাত সবার আগে চোখে ভাসে।
তোমার মাতৃত্ব আজ সফল মা, তুমি সফল, তোমার প্রতিপালন আজ সফল।
মা, মাসি, মামী, দিদা, ঠাকুমা, তোমাদের মেয়ে আজ বড় হয়েছে,
তবে তোমাদের কাছে অন্যায় আবদার করা ছোট্ট শিশুটি আজও ভোর রাত্রে বালিশ ভেজায়।
তাই তো বলি, মা, তোমরা অদ্বিতীয়, তোমরা প্রত্যেক সন্তানের কাছে অনুপমা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Photo: Kalyan Kumar Bhattacharjee

চেনা- অচেনা
Anupama Datta

কেমন জানি চেনা চেনা লাগে,
যেন কতদিনের সম্পর্ক এর সাথে –
মনে হয় যেন কত পথ চলেছি ,
এরই সাথে হাত মিলিয়ে
হাতে – হাতে ।

দুই ধারে ধান খেতে-
উথ্লে পড়ছে ধান
উথালে পাতালে ঢেউ খাচ্ছে
মন-প্রাণ;
তারি মাঝে ওই বাঁশবাগানের বনে
সূর্যের ঝিকিমিকি দেখা যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।
তবে কে আমায় ডাকছে বারেবারে?
প্রতিটা ওই ক্ষেতের ধারে ধারে!

ওই যে ওখানে বয়ে চলা সেই নদী,
নামটা একবার মনে পড়ে যায় যদি,
ভোলাবে আমাকে কার সাধ্য শুনি?
সফল হবেনা সে ঋষিই হোক্ বা মুনি!

ডা৺য়ে ছাড়ি সেই লম্বা মাটির বাড়ি,
বা৺য়ে ছাড়লাম পানা ভরা বুড়ির পুকুর
সামনে চোখ তুলতেই দেখি ও কি!
এ তো আমার বাড়ি নয়,
এ তো খুকুর!
যদিও খুকু বৌদি হয় আমার,
বাড়িটা ওর হলেও পুণ্য মামার।

পাশেই দেখি সেই ফটু মামাদের বাড়ি
যেখানে টুকিদির মেয়ে বসে করছে ভাব আড়ি।
এখন অচেনা লাগছে না মোর আর কিছু
তাই যেতেও মন চাইছে না দু পা পিছু।
তাইতো স্থির করলাম স্মৃতির ব্যথায়
বাসায় বসবাস শুরু করব আমি সেথায়।

সচকিতে মুখ ফেরাতেই আমি দেখি-
বাড়ি যেন মোর শত অভিমান নিয়ে,
দাঁড়িয়ে আছে স্থির হয়ে মোর আগে –
কারণ, কেন আমি তাকে দেখিনি প্রথমে গিয়ে।

তবু যেন এক আলগা হাসির আভায়-
রাগ কাটিয়ে করছে মরে আহ্বান,
বলছে যেন সে রক্ষা আমায় করবেই-
আসুক না যত ঝড় বন্যাই বা বান।

এগিয়ে গিয়ে বারেক ঠেকানু মাথা
যার জন্যই সেথায় মনটা আমার গা৺থা
চাইলাম ক্ষমা শেষ দেখার ভুল কর্মের কারণে জাগ্রত চামুণ্ডা রূপী মা দুর্গার দুই চরণে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Photo:Kalyan Kumar Bhattacharjee

“বস্তির এক ঝুপড়িতে”
কাঞ্চন কুমার গাঙ্গুলী

সেদিন সকাল থেকেই অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হয়ে চলেছে৷ ওদিকে বিধান নগরের রেল বস্তির ঝুপড়িতে বাবলা আর বীণার সংসারে ভোর থেকেই চলেছে তুমুল অশান্তি৷ কারখানা বন্ধ হয়ে যাবার পর বাবলা পেটের দায়ে রেলে হকারি শুরু করে৷ দিন আনে দিন খায়৷ ওদের বছর পাঁচেক আগে বিয়ে হয়৷ বাবলা রেল বস্তিতে বাবা মাকে নিয়ে থাকত৷ বীণা ছিল নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে৷ বাবা-মা-দাদার আদুরে৷ বাবলা একদিন কল্যাণী লোকালে ওকে ছিনতাই বাজদের হাত থেকে রক্ষা করে৷ সেই থেকেই আলাপ৷ তারপর আস্তে আস্তে প্রেম৷ প্রেমের বিচিত্র গতি৷ বস্তির এক হাভাতারে ছেলের সঙ্গে বাড়ির সবার অমতে বীণা একদিন তার হাত ধরে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসে৷ তারপর থেকে বাড়ির কারো সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই৷ অভাবের সংসারে ক্রমশ সে রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হয়৷ শ্বশুর-শাশুড়ী বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই গত হন৷ ইতিমধ্যে পেটে আসে পিকুল৷ কিন্তু আর্থিক অনটন বেড়েই চলে৷ কারণ রেল হকারিতে এখন আর বিশেষ পয়সা নেই৷ বস্তির পরিবেশের সাথে সাথে বীণার হৃদয় ও ভাষাতেও আসে বস্তির ছাপ৷

বাবালা রেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল৷ বলে গেল, “আমি চললাম৷ কখন আসব জানিনা৷” বীণা রাগের মাথায় বলে বসল, “আর আসার দরকার নেই, যে চুলোয় যাচ্ছ সেখানেই থেকো৷” কিন্তু ওর মন কেঁদে উঠল রাগের মাথায় ঐ কথা বলাতে৷ সকাল পেরিয়ে দুপুর গেল৷ বাবলা বাড়ি আসল না৷ বীণাদের ঘর থেকে ট্রেনের হর্ণ শোনা যায়৷ ও জানে কোন ট্রেন কখন আসল কখন গেল৷ দুপুর ২.৪৯ এর ডাউন কল্যাণী লোকাল বিধান নগর স্টেশনে আসলে বীণা বুঝতে পারে৷ কারণ ঐ ট্রেনে করেই বাবলা বাড়িতে খেতে আসে৷ তারপর একটু বিশ্রাম করে আবার বেরিয়ে পরে৷ সেই ট্রেনও হর্ণ বাজিয়ে বেরিয়ে গেল৷ বাবলা বাড়ি ফিরল না৷ বীনাও মুখে কিছু তুলল না৷ পিকুলকে দুমুঠো ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে ছুটে গেল কাছেই পাড়ার ক্লাবে৷ বাবলাকে কেউ দেখেছে কিনা জানতে চাইল৷ যারা দেখেছে তারা স্বাভাবিক ভাবেই বাবলার সেই মুহূর্তের সঠিক অবস্থান জানাতে পারল না৷ বীণা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসল৷ বিকেলের দিকে ক্লাবের একটা ছেলে এসে খবর দিল একজন লোক ভি.আই.পি রোডের ওপর থেকে বিধান নগর খালে ঝাপ দিয়েছে৷ বীণার বুক ধড়পড় করে উঠল৷ পিকুলকে পাশের বাড়ির মাসিমার জিম্মায় রেখে বস্তির কিছু লোকের সঙ্গে ভি.আই.পি রোডের খাল পাড়ে দৌড়ে গেল৷ ইতিমধ্যে সেখানে পুলিশ এসে পৌঁচেছে৷ বস্তির কিছু ছেলে খালে নেমে তন্ন তন্ন করে খোঁজ করল৷ কিন্তু জীবিত বা মৃত কারও খোঁজ পাওয়া গেলনা৷ বীণা কান্নায় ভেঙে পড়ল৷ বস্তির বয়স্করা বীণাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন খালে যে ঝাঁপ দিয়েছে সে তো বাবলা নাও হতে পারে৷ ইতিমধ্যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে৷ পুলিশ জানাল এই অন্ধকারে জলে নেমে তল্লাশি করা সম্ভব নয়৷ তারা যাবার আগে বলে গেল আগামীকাল সকাল সকাল থানায় গিয়ে একটা missing diary করতে৷ তারপর ডুবুরি নামিয়ে ভাল করে তল্লাশি করবে৷ তারা এও বলল সম্ভবত bodyটা জলের তোড়ে দূরে কোথাও ভেসে গেছে, এ ব্যাপারে তারা আশেপাশের থানাকে জানিয়ে দেবে৷
বীণা হতাশ হয়ে বস্তির লোকেদের সাথে ঘরে এসে পৌছাল৷ হঠাৎ কানে আসল, ঘরের পেছনে যে ছোট দড়মার ঘরটা আছে যার পাশ দিয়ে খাল বয়ে চলেছে, সেখান থেকে মৃদু খসখস আওয়াজ৷ ভাবল বিড়ালের আঁচড়ের শব্দ৷ আবার মনে হল বৃষ্টির জল পেয়ে সম্ভবত সাপ বা ইঁদুর ব্যাঙের খোঁজে দড়মার ঘরে ঢুকেছে৷ এ তারই আওয়াজ৷ বীণা তাই কোন গুরুত্ব দিল না৷ কিছু পরে আওয়াজটা বারংবার হতে লাগল, তবে অন্য রকমের৷ উপস্থিত একটা ছেলে সেদিকে ছুটে গেল৷ কিছু পরে সে হন্তদন্ত হয়ে এসে বীণাকে সেখানে যেতে বলল৷ দড়মার ঘরে ঢুকে সবার ছোখ ছানাবড়া৷ দেখা গেল কেউ একজন চৌকির ওপর আগাগোড়া চাদর চাপা দিয়ে নাক ডেকে আয়েশ করে ঘোমাচ্ছে৷ চিৎকার চেঁচামেচিতে সে উঠে বসল৷ সবাই অবাক হয়ে দেখল লোকটা আর কেউ নয়, স্বয়ং বাবলা৷ বিণা হাসবে না কাঁদবে ভেবে পেল না৷ সবাই বাবলাকে চেপে ধরলে ও হাসতে হাসতে বলল, “sucide করার জন্যই ভি.আই.পি রোড থেকে খালে ঝাপ দিয়ে ছিলাম৷ কিন্তু খালে পড়ে দেখি সেখানে এক কোমর জলও নেই৷ পাঁকে ভর্তি৷ ডুবে যে মরব তারও উপায় নেই৷ অগত্যা ডাঙায় উঠে আসি৷ হাত, পা কিছুটা ছড়ে যায়৷ এরপর রাস্তায় এসে হাত, পা ধুয়ে সন্ধ্যা নামলে সবার অগোচরে এই পেছনের দড়মার ঘরে এসে উঠি৷ ভিজে পোশাক ছেড়ে পুরনো একটা কাপড় পরে শুয়ে পড়ি৷ কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি তার খেয়াল ছিল না৷ কিন্তু মশার উৎপাতে মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল৷ তাই বাধ্য হয়ে মশা মারার জন্য এপাশ ওপাশ করছিলাম৷” সব শুনে বীণার মাথায় রক্ত চড়ে গেল৷ ও চিৎকার করে বলল, “সবাইকে দৌড় করিয়ে, ঘোল খাইয়ে উনি এখন ছত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হাসছেন৷ বস্তির লোকজনের যে এত দুর্ভোগ হল সেই বোধটুকু নেই৷ মরতে যখন গিয়েছিলে তাহলে আর আসলে কেন? অন্য উপায়ও তো ছিল৷” সবাই বীণাকে শান্ত হতে বলল৷ কিন্তু ও আরো জোড়ে চেঁচিয়ে পাড়ার ছেলেদের বলল, “তোরা ওকে ঐ খালে চুবিয়ে পচা জল ভরপেট খাইয়ে আন৷ তাতে যদি ও মরে, তো মরবে৷ পুলিশকে বলব আমি মেরেছি৷ আর যদি বেঁচে যায় তাহলে missing diary’র পরিবর্তে attemt to sucide’র diary করব৷ ওকে আমি জেলের ঘানি টানিয়ে ছাড়ব৷”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Photo: Kalyan Kumar Bhattacharjee

বর্ষাকালে বৃষ্টির ধরনধারনই অন্যরকম! একবার শুরু হলে সাতদিন ঝিরঝির করে হবেই৷ তিস্তা নদীর পাড় দিয়ে ঘন জঙ্গল৷ ওই জঙ্গলের একটা অদ্ভুত পাগলকরা টান আছে৷ যার ঘরে সেই পাগলা হাওয়ায় ভাসা গন্ধ এসে হানা দেয়, সে বাঁধনছাড়া হতে বেশি দেরী নেয়না৷ কে জানে, বর্ষার জঙ্গলে যে মহীরুহর ডালে প্রকান্ড অজগর জড়িয়ে থাকে, সেও পাগল হয়েছিল কীনা? এই জঙ্গলে রতিয়ার ঘর আছে৷ রতিয়া ওরাঁও আর ওর বৌ এই জঙ্গলের ধারেই চারখুঁটির ওপরে কাঠের ঘরে থাকে৷ নীচে মুরগি আর শুওরের খোঁয়াড়! রোজ রাতে মুরগিগুলোকে সাবধানে রাখে রতিয়ার বৌ, গজগজ করে, লেপার্ডের চোদ্দগুষ্টির শাপান্ত করে খিল আঁটে দরজায়৷ রতিয়া ততক্ষনে হাঁড়িয়ার নেশায় মাতাল৷

রাতগভীরে নিরেট অন্ধকারে খচমচ শব্দ হয়, ঝটাপটির আওয়াজে ঝটিতি ঘুম ভাঙে রতিয়ার৷ হাঁসুয়াতে হাত দিয়েও ছেড়ে দেয়, লেপার্ড এসে মুরগীর ঘেরায় ঢুকেছিল৷ পরদিন সকালে ও জঙ্গলে ঢোকে মুরগিচোরের ডেরার খোঁজ নিতে৷ ভাগ্যক্রমে আমি এই যাত্রায় ওর সঙ্গী হয়েছিলাম৷ লাটাগুড়ি আজ থেকে তিরিশ বছর আগে আরও তারুন্যে ভরা উচ্ছল উদ্দাম যৌবনবতী ঘন জঙ্গল ছিল৷ কিছুদুর জঙ্গলের মধ্যে হাটতেই আর চলা যাচ্ছে না লতাগুল্মের গহন ঘন সন্নিবেশে৷ সূর্যের আলো দীর্ঘদেহী মহীরুহর গা বেয়ে অল্প অল্প আসছে, তাতে অন্ধকার জায়গা আরও অন্ধকার লাগছে৷ রতিয়া হাঁসুয়ার কোপে লতাপাতা কাটতে কাটতে এগিয়ে গেছে, আমি পিছন পিছন৷ কিছুক্ষন পর আমি একটা গাছের লম্বা গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে দেখে ওটার ওপরে পা দিয়ে যেই উঠতে গেছি ওমনি ওটা নড়ে উঠল! আমি তিড়িং করে লাফিয়ে পার হয়েই দেখি ওই বিশালবপু সরসর করে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে৷ রতিয়া চিৎকার করে আমাকে সাবধান করে দিল আমি যেন দুরে সরে যাই৷ ওপর থেকে আসা সূর্যের সরু রোদের ফলায়, অত বিশাল শরীর এখন চিকচিক করছে৷ আমার ভয়ের থেকেও বেশী করছিল ভালোলাগা, কী বিচিত্র এই জঙ্গল!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রতিয়া লেপার্ডের ঘর খুঁজে পায়নি, কিন্তু বাড়ির এত কাছে অজগর টাকে দেখে, এবং ওর এই চলন দেখে ও টের পায় যে এই আসলে কালপ্রিট৷ যাহোক আমরা একটু দুর থেকেই ওকে দেখলাম, ধীরে ধীরে এক মহীরুহর কোলে সেঁধিয়ে গেল৷

কল্যাণ কুমার ভট্টাচার্য্য

Photo: Kalyan Kumar Bhattacharjee

কিছু পুরাতন বই
কিছু হারানো চিরকুট ফিরে পাওয়া।
দখিণা বাতাসে খোলা আকাশে
উদাসীন চোখে চাওয়া।

কিছু পুরাতন পরিচিত গন্ধ
কিছু পুরাতন সুর।
আর কিছু মন খারাপ করা ক্লান্ত দুপুরের
সোনালি রোদ্দুর।

কিছু পুরাতন স্মৃতি আর কিছু পুরাতন ছবি।
কিছু হারানো সকালের নির্জন রক্তিম রবি।
কিছু হারানো মানুষের,স্মৃতিতে ভেসে উঠা মুখ।
কিছু অজানা কারণে অহেতুক সুখ!

সব কুমিরের পেটে …..!!

………………….কল্যাণ কুমার ভট্টাচার্য্য

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Photo: Kalyan Kumar Bhattacharjee
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •